QRCode
মার্কিন কর্মকর্তাদের হুমকির জবাবে ইরানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী:

আইআরজিসি, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন: সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তৎপর বাহিনীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী হচ্ছে বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী।

হলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): মার্কিন সরকার ও কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিককালের অবস্থান ও হুমকি সম্পর্কে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি বলেছেন, মার্কিন নীতি এবং শত্রুতাপূর্ণ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী ও সেনাবাহিনীসহ ইরানের সকল বাহিনী ঐক্যবদ্ধ। আমরা কখনই আমেরিকাকে প্রক্সি ওয়ার ও সন্ত্রাসবাদের প্রসারের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলার অনুমতি দেব না। বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীসহ ইরানের যেকোন বাহিনীর বিরুদ্ধে কোন প্রকার পদক্ষেপ ইরান সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হবে। ইরানের জনগণ, তিন বাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ়তার সাথে এ ষড়যন্ত্রকে নিষ্ক্রিয় করতে সংকল্পবদ্ধ।
মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় বাহিনী হচ্ছে আইআরজিসি এ কথা উল্লেখ করে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, বিপ্লবী এ বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের সকল জনতার। এ বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রক্ষা এবং শান্তি বজায় রাখতে দৃষ্টান্তহীন সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে।
আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যায়িত করে একে নিষিদ্ধ ঘোষণা করাটা, স্বয়ং এক প্রকার সন্ত্রাসী পদক্ষেপ –এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন: সন্ত্রাসবাদ বিরোধী এ বাহিনীকে দূর্বল করে দেয় এমন যে কোন পদক্ষেপ ও ষড়যন্ত্র মধ্যপ্রাচ্যসহ সমগ্র বিশ্বকে অনিরাপদ করে তোলার এবং সন্ত্রাসবাদের প্রসারের কারণ হবে।
তিনি বলেন: দৃশ্যত, এ ধরনের শত্রুতাপূর্ণ পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জায়নিস্ট লবি। অবশ্য নতুনভাবে জ্বালানো এ আগুনের ধোঁয়া থেকে স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও সেনাবাহিনীও অক্ষত থাকবে না।
তিনি বলেন, ট্রাম্প যে পথ অবলম্বন করেছে তা বিশ্বকে রক্তপাতের দিকে ধাবিত করছে। আর যে দেশটি নিজেকে শান্তির আহবায়ক এবং মানবাধিকারের রক্ষী বলে মনে করে তাদের ক্ষেত্রে এমন পদক্ষেপ শোভা পায় না। আমেরিকা ও বিশ্বের জনগণ এ ধরনের রাজনীতি এবং সহিংস ও বিপজ্জনক পদক্ষেপকে সমর্থন করবে না।
আমির হাতামি তার বক্তব্যের শেষে বলেন, ট্রাম্পের এমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত হবে না, যার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জনগণ তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবী তুলবে। জনগণ যেন এ ফলাফলে না পৌঁছায় যে, যুদ্ধ ও সহিংসতা বন্ধে ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিকল্প নেই।
প্রসঙ্গত, আগামী ১৫ই অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- ওইদিন তিনি আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন বলে ঘোষণা করবেন এবং ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতাকে অস্বীকার করবেন। ট্রাম্প সবসময় পরমাণু সমঝোতাকে খারাপ চুক্তি বলে আসছেন এবং তিনি এ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষেও বক্তব্য রাখছেন।#