তুজ খোরমাতো’তে কি ঘটছে?

তুর্কামান শিয়াদেরকে বিতাড়িত করার উদ্দেশ্যে চলছে হত্যা

  • News Code : 720120
  • Source : নিজস্ব প্রতিবেদক
Brief

বদর গ্রুপের কয়েক সদস্য ও কয়েকজন তুর্কামানকে হত্যা করেছে বারজানী সৈন্যরা। বারজানীরা তুর্কামান যুবকদেরকে আটক করে তাদের বাড়ী-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে, এমনকি ইমামবাড়িগুলো ও ইমাম হুসাইন (আ.) এর নাম লেখা পতাকাগুলোতে তারা অগ্নিসংযোগ করেছে।

হলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা –আবনা- / সাংস্কৃতিক ডেস্ক :

শিয়া অধ্যুষিত তুজ খোরমাতো শহরের উপর কুর্দিদের বিক্ষিপ্ত হামলার (গত বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর) পর কুর্দিস্তানের পিশমার্গ বাহিনী বহুসংখ্যক সাজোয়া যান নিয়ে শহরে প্রবেশ করে এবং বেশ কিছু এলাকা দখল করে নেয়।

পিশমার্গের সদস্যরা শহরে প্রবেশের পর ইরাকের স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী (হাশাদাশ শা’বি)’র ৪ জন সৈন্যকে একটি চেক পোস্টে হত্যা করে। এছাড়া তারা তুর্কামান শিয়াদের বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করে এবং ধর্মীয় নিদর্শন ও আযাদারিতে ব্যবহৃত ইমাম হুসাইন (আ.) লেখা বিভিন্ন পতাকার প্রতি অবমাননা করেছে। বাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের পূর্বে সেগুলোকে লুট করেছে তারা!

এ ঘটনার পরপরই হাশাদাশ শা’বি ও পিশমার্গ বাহিনীর মাঝে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এরপর ইরাকের ‘আসায়েবু আহলিল ইরাক’ বাহিনী কুর্দিদেরকে হুমকি দেয় যে, যদি এ ধরনের পদক্ষেপ তারা অব্যাহত রাখে তবে তারা তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে রক্ষা করতে পদক্ষেপ নেবে।

ـــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــ

সাক্ষাতকার গ্রাহক : আহমাদ মাহবুবি

ــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــ

আবনা : প্রথমে তুয খোরমাতোর অবস্থান সম্পর্কে আমাদেরকে বলুন এবং সেখানকার জনগণ কোন মাযহাব ও সম্প্রদায়ের?

- তুয খোরমাতো; ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় সালাহুদ্দীন প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত এবং কারকুক থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। তুজ খোরমাতো শহরের অধিকাংশ জনগণই তুর্কামান এবং বারো ইমামি শিয়া। সংখ্যালঘু কিছু কুর্দিও এখানে বসবাস করে। সাদ্দামের যুগে এ শহরের অনেক বাসিন্দাক হত্যা করা হয়েছে।

 

আবনা : কুর্দিদের সাথে এ অঞ্চলের জনগণের সংঘর্ষের কারণ কি?

- গত দুই বছর যাবত তুজ খোরমাতোর শিয়ারা ‘মাসউদ বারজানী’র সৈন্যদের হাতে শহীদ হচ্ছে। তারা রাতের আধারে শিয়াদের উপর হামলা চালায়। যাতে জনগণ নিজেদের এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয় এবং এটি কুর্দি অধ্যুষিত একটি এলাকায় পরিণত হয়। এ নাগাদ এ সকল হামলায় অনেক লোকই শহীদ হয়েছে। এমন পরিবারকেও আমি চিনি, যার ৫ সদস্য শহীদ হয়েছেন।

 

আবনা : বারজানীর সৈন্য এবং তুজ খোরমাতোর শিয়াদের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণ কি?

- বারজানীর সৈন্যরা বদর বাহিনীর কয়েকজন সৈন্যকে হত্যা করলে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। এ পর্যন্ত ৮ জন তুর্কামানকেও হত্যা করেছে তারা।

কুর্দিরা সুলায়মানিয়া থেকে হামলা পরিচালনা করছে এবং তাদেরকে সহযোগিতা করছে মার্কিন হেলিকপ্টারগুলো।

বারজানীরা তুর্কমান যুবকদেরকে আটক করে তাদের বাড়ী-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করেছে। এমনকি তারা ইমামবাড়িগুলো এবং সেখানে রক্ষিত ইমাম হুসাইন (আ.) এর নাম লেখা পতাকাতে অগ্নিসংযোগ করেছে। এ পর্যন্ত তারা বেশ কয়েকজন যুবককে আটক করলেও তাদেরকে এখনো মুক্তি দেয়নি।

 

আবনা : সংঘর্ষ কি এখনো চলছে?

- না বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, কিন্তু উভয় পক্ষ এখনো কোন চুক্তিতে আসেনি।

দুঃখজনকভাবে ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার তুজ খোরমাতোর শিয়াদের জন্য শুধু বিবৃতিই দিয়েছে, কোন সাহায্য পাঠায়নি।

বারজানী কুর্দিরা স্নাইপার রাইফেলের মাধ্যমে তুর্কামান যুবকদেরকে হত্যা করে। এ নাগাদ কুর্দিদেরকে সাহায্যকারী আইএসআইএলের ৩ বিদেশী সদস্যকে আটক করেছি, যারা স্নাইপার রাইফেল চালনায় দক্ষ।

 

আবনা : দিয়ালা, সালাহুদ্দীন ও নাইনাভা অঞ্চলেও কি একই সমস্যা রয়েছে। বারজানী এ হামলার মাধ্যমে কি লক্ষ্যে পৌঁছুতে চায়?

- কুর্দিরা চায় দিয়ালা, সায়াদিয়া ও জালুলা অঞ্চলগুলোকে কুর্দি অথবা সুন্নি অধ্যুষিত এলাকায় পরিণত হোক। এ কারণেই তারা তুর্কামান শিয়াদেরকে ঐ এলাকাগুলো ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য করছে।

অপরদিকে, নির্বাচনে পরাজিত হয়ে বারজানীর শক্তি খর্ব হয়েছে। সে এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের সামনে নিজের ক্ষমতা দেখাতে চায়। অন্য ভাষায় সে জনগণকে সংঘর্ষ জড়িয়ে এটা বোঝাতে চায় যে আমিই কুর্দিস্তানের নেতা।

এতে বারজানীর দিকে গ্রীন সিগনাল রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের। মসুলের ‘তালাফোর’ অঞ্চলেও কুর্দিরা একই কাজ করেছে। শিয়ারা ঐ অঞ্চল ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। কারকুক অঞ্চলে প্রচুর তেল সম্পদ রয়েছে। তারা চায় সমগ্র এলাকাই যেন কুর্দি অধ্যুষিত হয়।

তাদের অপর উদ্দেশ্য হচ্ছে, আগামিতে যদি ইরাক ৩ ভাগে বিভক্ত হয়, তবে শিয়ারা যেন দক্ষিনে অবস্থান করে এবং কুর্দিস্তানে কোন শিয়া অধ্যুষিত এলাকা না থাকে। কুর্দি শিয়াদের সাথে তাদের সমস্যা রয়েছে, তাদেরকেও বাগদাদের দিকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।

 

আবনা : এ পদক্ষেপ, তুজ খোরমাতোর শিয়াদের উপর কেমন প্রভাব ফেলেছে?

- তুর্কামানরা তাদের আকিদাগত বিষয়ের কারণে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং ঐ অঞ্চলকে তারা ত্যাগ করবে না। বারজানীরা ব্যর্থ হবে এবং তারা তাদের উদ্দেশ্যে পৌঁছাবে না। কারণ এটা তুর্কামানদের এলাকা। তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

 

আবনা : এ সংকট থেকে বের হওয়ার বিষয়ে আপনার পরামর্শ কি?

- আমার পরামর্শ হচ্ছে, মারজায়ে তাকলিদগণ বিশেষতঃ আয়াতুল্লাহ সিস্তানির প্রতি আহবান জানাতে চাই তিনি যেন বিবৃতি প্রদান করে এ অঞ্চলের শিয়াদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং তুজ খোরমাতো’র শিয়াদের সহযোগিতায় সৈন্য প্রেরণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহবান জানান।

পাশাপাশি সেনাবাহিনী এবং হাশাদাশ শাবির প্রতি আহবান থাকবে যেন তারা তুজ খোরমাতোর বাসিন্দাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে। এ ক্ষেত্রে নাজাফের মারজাগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের সকলেরই উচিত ইরাকের ঐক্য রক্ষার লক্ষ্যে চেষ্টা চালানো এবং ইরাককে বিভক্ত হওয়া থেকে রক্ষা করা।

বর্তমানে বারজানীরা বদর বাহিনী ও সাধারণ জনগণের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত। তারা তুজ খোরমাতোর সাধারণ মানুষের উপর গণহত্যা চালাচ্ছে। আত্মরক্ষার জন্য ঐ এলাকার জনগণের কাছে কিছু নেই। কিন্তু সরকার ও মারজাগণ এবং আরব দেশসমূহের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে তারা যে বারজানী কুর্দিদের এ অপরাধকর্মের নিন্দা জানায় এবং সাধারণ জনগণকে হত্যা ও তাদেরকে নিজেদের বসত-ভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য করার বিষয়ে বাধা সৃষ্টির লক্ষ্যে কার্যকরী পরদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

 

আবনা : আপনার মূল্যবান সময় আমাদেরকে প্রদান করার জন্য ধন্যবাদ।


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

quds cartoon 2018
We are All Zakzaky