জেমস কমি বরখাস্তে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তোলপাড়

  • News Code : 829548
  • Source : Mzamin
Brief

এফবিআই প্রধান জেমস কমিকে বরখাস্ত করার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তোলপাড় চলছে। এফবিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অ্যানড্রু ম্যাকাবে।

আবনা ডেস্ক: এফবিআই প্রধান জেমস কমিকে বরখাস্ত করার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তোলপাড় চলছে। এফবিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অ্যানড্রু ম্যাকাবে। তিনি কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, রাশিয়া কানেকশন নিয়ে জোরেসোরে তদন্ত চালিয়ে যাবে এফবিআই। ওদিকে জেমস কমিকে বরখাস্তের জন্য আইন মন্ত্রণালয় সুপারিশ করেছিল বলে শুরুতে জানানো হয়েছিল হোয়াইট হাউজ থেকে। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জেমস কমিকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত তার একার। আইন মন্ত্রণালয় সুপারিশ না করলেও তিনি তাকে বরখাস্ত করতেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, অ্যানড্রু ম্যাকাবের বক্তব্যের পরই এমন কথা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি এনবিসি টেলিভিশনকে একটি সাক্ষাতকার দেন। সেখানে অভিযোগ করেন, (রাশিয়া কানেকশন নিয়ে) কমি নাটক করছিলেন। এতে এফবিআই সঙ্কটের মধ্যে পড়েছিল। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের প্রচারণা টিম ও রাশিয়ার মধ্যে গোপন সমঝোতা নিয়ে তদন্ত করছিল এফবিআই। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন জেমস কমি নিজে। ওই তদন্তকে ট্রাম্প প্রহেলিকা বলে আখ্যায়িত করেন। জেমস কমিকে বরখাস্তের পর প্রথম এনবিসিকে সাক্ষাতকার দেন তিনি। এতে ট্রাম্প বলেন, আমি তদন্তের অধীনে আছি কিনা তা জানতে চেয়েছিলাম কমির কাছে। আমি তাকে বলেছিলা, যদি সম্ভব হয় তাহলে আমাকে বিষয়টি জানতে দিন। আমি কি তদন্তের অধীনে আছি? জবাবে কমি বলেছিলেন, আপনি তদন্তের অধীনে নেই। তাই আমি জানি আমি তদন্তের অধীনে নেই।
তবে জেমস কমি’কে বরখাস্তের পর পর হোয়াইট হাউজ থেকে যে বক্তব্য দেয়া হয় তা দৃশ্যত এড়িয়ে যান ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজ থেকে বলা হয়েছিল, আইন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের (বিশেষ করে এটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসের) সুপারিশের প্রেক্ষিতে বরখাস্ত করা হয়েছে কমি’কে। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি (কমি) নাটক করছিলেন। এতে অস্থির অবস্থায় পড়েছিল। কোন সুপারিশ না থাকলেও আমি তাকে বরখাস্ত করতাম। আমার প্রচারণা টিম, আমি ও রাশিয়ার মধ্যে কোনো যোগসাজশ ছিল না। সম্প্রতি ট্রাম্প টুইট করেন যে, রাশিয়া-ট্রাম্প কানেকশন বা যোগসাজশ পুরোপুরিই একটি মিথ্যা কথা। এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছে, এফবিআই যে তদন্ত করতে তা বাতিল করানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার তিনি এ অভিযোগও অস্বীকার করেছেন। ট্রাম্প বলেন, আসলে আমিই তদন্ত দ্রুতগতিতে হোক এমনটা চাই। এরই মধ্যে তিনি একটি আইনি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানান। ট্রাম্প বলেন, এতে তিনি জানিয়েছেন রাশিয়াতে তার কোন অংশীদারিত্ব নেই। তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আমার কিছুই নেই। সেখানে আমার কোন বিনিয়োগ নেই। রাশিয়ায় আমার কোন সম্পদ বা সম্পত্তি নেই। রাশিয়ার সঙ্গে আমি কোনভাবে যুক্ত নই। এরই মধ্যে বিশ্লেষকরা বলছেন, জেমস কমি’কে বরখাস্ত করে বড় রাজনৈতিক ভুল করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ ঘটনায় সিএনএনে আইনি বিশ্লেষক পল কালান লিখেছেন, এর মাধ্যমে ট্রাম্প আগুন নিয়ে খেলছেন। রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড রিগ্যান ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিতে যে ভুলটি করেছিলেন, জেমস কমি’কে বরখাস্ত করে ঠিক একই ভুল করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

پیام امام خامنه ای به مسلمانان جهان به مناسبت حج 2016
We are All Zakzaky
telegram