ইরানের ইসলামি বিপ্লবকে ধ্বংস করতে যে নির্মম কৌশল বেছে নিয়েছে আমেরিকা

ইরানের ইসলামি বিপ্লবকে ধ্বংস করতে যে নির্মম কৌশল বেছে নিয়েছে আমেরিকা

ইরানে বিপ্লবের পর ১৯৮০ সালের ২২ মে মার্কিন সরকার প্রথম দেশটির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। গুপ্তচরবৃত্তির আখড়া হিসেবে পরিচিত তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের প্রতিক্রিয়ায় ১৯৮০ সালে আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

আবনা ডেস্কঃ ইরানে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ে পর গত প্রায় ৪০ বছর ধরে আমেরিকা বিরতিহীনভাবে নানা কৌশলে ইরানের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত ও ইসলামি বিপ্লবকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞাকে তারা অন্যতম একটি কৌশল হিসেবে বেঁছে নিয়েছে।
ইরানে বিপ্লবের পর ১৯৮০ সালের ২২ মে মার্কিন সরকার প্রথম দেশটির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। গুপ্তচরবৃত্তির আখড়া হিসেবে পরিচিত তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের প্রতিক্রিয়ায় ১৯৮০ সালে আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এটি ছিল ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ষড়যন্ত্র ও নিষেধাজ্ঞার শুরুমাত্র। এরপর ১৯৯৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ওই নিষেধাজ্ঞার ফলে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ইরানের তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
পরের বছর ১৯৯৬ সালে বিল ক্লিন্টন ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ডামাটো আইনে সই করেন। ঐ আইন অনুযায়ী কোন কোম্পানি যদি ইরানের তেল ও গ্যাস খাতে চার কোটি ডলারেরও বেশী পুঁজি বিনিয়োগ করলে ঐ কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু ইউরোপের বিরোধিতার কারণে ইরানের তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রে পুঁজি বিনিয়োগের উপর নিষেধাজ্ঞা চার কোটি থেকে নামিয়ে দুই কোটি ডলারের কথা ঘোষণা করা হয়।
এরপর ২০০১ সাল থেকে ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে থাকে মার্কিন সরকার। এর অংশ হিসেবে তারা ইরানের বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নিষেধাজ্ঞার পরিধি ব্যাপক বাড়িয়ে দেয়। ইরানে কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করা, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ, পরিবেশ রক্ষা, মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান নানা হুমকি ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত রোধের মত নানা অজুহাতে এসব নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে।
অথচ আমেরিকা প্যারিস জলবায়ু চুক্তি লঙ্ঘন থেকে শুরু করে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মতো ন্যক্কার জনক অপরাধ করা ছাড়াও দেশটির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ ও অপরাধের বিষয়ে আমেরিকাকে অবশ্যই জবাবদিহিতা করতে হবে।
এরপর আমেরিকার উস্কানি ও চাপের মুখে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা বলবত করা হয়েছিল। কিন্তু পরমাণু সমঝোতার পর ২০১৫ সালের ২০ জুলাই মাসে ওই নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া হয়। তবে দুই বছর যেতে না যেতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতাকে সবচেয়ে খারাপ চুক্তি বলে অভিহিত করেন। কিন্তু তিনি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির তৎপরতা বন্ধ না হলে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন যাতে এসবের অজুহাতে আবারো ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বলবত করা যায়।
বাস্তবতা হচ্ছে, আমেরিকা কঠিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইরানকে নতজানু করার এবং দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের এ স্বপ্ন আজো বাস্তবায়িত হয়নি এবং আগামীতেও তারা কিছুই করতে পারবে না। খ্যাতনামা মার্কিন চিন্তাবিদ নওম চমস্কি বলেছেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা করছেন তাতে কেবল আমেরিকা নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা করছেন তাতে বোঝা যায় তিনি এখনো ইরানের জনগণের বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারেননি।#


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

quds cartoon 2018
پیام امام خامنه ای به مسلمانان جهان به مناسبت حج 2016
We are All Zakzaky