ইরানের সঙ্গ না ছাড়লে ইউরোপকে দেখে নেবে ট্রাম্প!

ইরানের সঙ্গ না ছাড়লে ইউরোপকে দেখে নেবে ট্রাম্প!

ইউরোপীয় বাণিজ্য শরীকদের ব্যাপারে আমেরিকার নীতি কেমন হবে সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ মন্তব্য করেছেন।

আবনা ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো যদি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখে তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকা বেরিয়ে যাওয়ার পর ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুললে এর জন্য কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।
ইউরোপীয় বাণিজ্য শরীকদের ব্যাপারে আমেরিকার নীতি কেমন হবে সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ সব কথা বলেছেন। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বুল্টন গত মে মাসে ইউরোপের যেসব দেশ পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করবে তাদেরকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, "ইরানের ব্যাপারে ইউরোপ কি ধরণের পদক্ষেপ নেয় তার ওপর ইউরোপের সাথে মার্কিন আচরণের বিষয়টি নির্ভর করছে।"
তেহরানকে পরমাণু সমঝোতায় ধরে রাখার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের জন্য একটি প্যাকেজ প্রস্তাব প্রণয়ন করেছে। ওই প্রস্তাব প্রকাশের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ওয়াশিংটন ততই বিচলিত হয়ে পড়েছে। আর তাই ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার জন্য এখন পাল্টা ইউরোপকে হুমকি দিচ্ছে ওয়াশিংটন যাতে ইরানে কেউ পুঁজি বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে না পারে। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে আমেরিকা নিজের স্বার্থের জন্য ইউরোপীয় মিত্রদেরকেও তোয়াক্কা করছে না। তবে ইউরোপীয়রাও এটা বুঝতে পেরেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল নিজের স্বার্থেই এসব হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরই মধ্যে ১৫ হাজার কোটি ডলার ক্ষতির অজুহাতে ইউরোপ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করায় ইউরোপ এর তীব্র প্রতিবাদ করেছে।
পরমাণু ক্ষেত্রেও একই বিষয় লক্ষ্য করা গেছে। ইউরোপ তাদের স্বার্থে পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও এ চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমেরিকার কোনো স্বার্থ অর্জিত হয়নি দাবি করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ৮ মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যান। এমনকি ইউরোপীয়রাও যাতে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যায় সেজন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখলে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোকে দেখে নেয়ার যে হুমকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট দিয়েছেন তা এরই আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে।
যাইহোক, ইউরোপ পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর যে চুক্তি হয়েছে তা কেবল পরমাণু ক্ষেত্রেই প্রয়োজন তা নয় একইসঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বিরাট গুরুত্বপূর্ণ।
ন্যাটোতে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি রবার্ট হান্টার বলেছেন, "পরমাণু সমঝোতা ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ড সফরকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বিশেষ বার্তা হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, "এ সফর ইরানকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা এবং পরমাণু সমঝোতা ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার সুযোগ এনে দিতে পারে।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকি শুধু ইউরোপ নয় বরং সারা বিশ্বের জন্য হুমকি। এর ফলে কেবল আমেরিকাই বিশ্বে কোণঠাসা হয়ে পড়বে। #


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

quds cartoon 2018
پیام امام خامنه ای به مسلمانان جهان به مناسبت حج 2016
We are All Zakzaky