মার্কিন নৌবহরের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করল ইরানি স্পিডবোট

মার্কিন নৌবহরের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করল ইরানি স্পিডবোট

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবাহিনীর কয়েকটি সামরিক স্পিডবোটের বাধার মুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের একটি বহর তার গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।

আবনা ডেস্ক: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবাহিনীর কয়েকটি সামরিক স্পিডবোটের বাধার মুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের একটি বহর তার গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। পারস্য উপসাগরে ইরানি পানিসীমার কাছে এ ঘটনা ঘটেছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এপি-কে জানান, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র কয়েকটি স্পিডবোট আমেরিকার নৌবহর ইউএসএনএস ইনভিনসিবলের ৫৫০ মিটারের মধ্যে চলে আসে এবং রাজকীয় ব্রিটিশ নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজকে ভিন্ন দিকে যেতে বাধ্য করে। গত শনিবার হরমুজ প্রণালীর কাছে এ ঘটনা ঘটেছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানান। ব্রিটিশ জাহাজগুলো মার্কিন নৌবহরের সঙ্গেই ছিল।
ইরানি সেনাদের এই পদক্ষেপকে “অপেশাদারসুলভ ও বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেন মার্কিন সেনা কমকর্তা। অন্য জাহাজের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে মার্কিন ও ব্রিটিশ জাহাজগুলো তাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।
ইউএসএনএস ইনভিনসিবলে অত্যাধুনিক রাডার ও অন্যান্য উন্নত ব্যবস্থা বসানো আছে এবং এ জাহাজ শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার ঘটনা পর্যবক্ষেণ ও শণাক্ত করে। এ জাহাজ থেকে নিখুঁতভাবে কমান্ড সেন্টারে ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠানো হয়।
গত সেপ্টেম্বর মাসে পেন্টাগনের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন জেফ ডেভিস এ ধরনের একটি অভিযোগ তুলেছিলেন। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, আইআরজিসি’র স্পিডবোটের বাধার মুখে ইএসএস ফায়ারবোল্ট টহল জাহাজ তার গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। ওই ঘটনায় আইআরজিসি’র স্পিডবোটগুলো জাহাজের ৯১ মিটারের ভেতরে চলে এসেছিল।
এ ঘটনার পর ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন দেহকান প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন, ইরানের পানিসীমায় কোনো দেশের জাহাজের অনুপ্রবেশ বিনা জবাবে ছেড়ে দেয়ো হবে না। এছাড়া, গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়ার নৌমহড়ার সময় ইরান কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিল। ইরানি নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়্যারি বলেছিলেন, “কে কী করছে- এ নিয়ে ইরানের মাথা ব্যথা নেই যতক্ষণ পর্যন্ত না কেউ ইরানের পানিসীমা লঙ্ঘন করছে।” সে সময় তিনি ইরানের পানসীমাকে তার দেশের জন্য ‘রেডলাইন’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
সম্প্রতি ইরানের বন্দর কর্তৃপক্ষ পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা রক্ষা ও বিদেশি জাহাজের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর একচ্ছত্র অধিকার দিয়ে আইআইজসি’র সঙ্গে চুক্তি করেছে।#


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

پیام امام خامنه ای به مسلمانان جهان به مناسبت حج 2016
We are All Zakzaky