ওয়াশিংটন পোস্টের সম্পাদকীয়

অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরতে দিতে হবে, দায়ীদের বিরুদ্ধে দিতে হবে অবরোধ

অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরতে দিতে হবে, দায়ীদের বিরুদ্ধে দিতে হবে অবরোধ

অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরে যেতে দিতে হবে। এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা পরিষ্কার বুঝতে পারে তাদের নৃশংসতা আর চলতে পারে না।

আবনা ডেস্কঃ অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরে যেতে দিতে হবে। এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা পরিষ্কার বুঝতে পারে তাদের নৃশংসতা আর চলতে পারে না। একটি পুরো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এমন নৃশংসতা সহ্য করা হবে না। আলোচনার বাইরে আসতে হবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে। বিশ্ববাসীর ক্ষোভের প্রকাশ ঘটাতে হবে। নতুন করে অবরোধ সমর্থন করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টের এক সম্পাদকীয়তে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, এক মাসের সামান্য বেশি সময়ে ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমকে দেশ ছেড়ে বাণের পানির মতো বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হয়েছে। রোহিঙ্গা উগ্রপন্থিরা পুলিশ ও সেনাদের ৩০টি পোস্ট ও ক্যাম্পে হামলা চালায়। এর প্রতিশোধ নিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। গুলি করে মারে শিশু, নারী, পুরুষদের। তাদের এই নৃশংসতায় এসব রোহিঙ্গা পালাতে বাধ্য হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এই ভয়াবহ অভিযানকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার জায়েদ রাদ আল হোসেন জাতি নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর এবং নির্ভুল পদক্ষেপ নেয়া অত্যাবশ্যক।
ওই সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়েছে, মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে যথাযথভাবেই সমালোচনা করা হয়েছে। নৃশংস দমনপীড়ন চলাকালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী এই নেত্রী কোনো কথা বলেন নি। তার এই ব্যর্থতার জন্য তিনি সমালোচিত হয়েছেন। কিন্তু এসবের প্রধান হোতারা রয়েছে সেনাবাহিনীতে। তাদের সঙ্গেই সুচি ক্ষমতা ভাগাভাগি করেছেন। নিঃসন্দেহে ২৫ শে আগস্ট পুলিশ পোস্টে রোহিঙ্গা উগ্রপন্থিদের হামলার জবাবে সেনাবাহিনী ক্ষুব্ধ হবে, কিন্তু তার পর পর তারা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তার পুরোটাই অযৌক্তিক। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের কাছে তা আরো একটি দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক অধ্যায়।
শুরুতেই, অবিলম্বে রোহিঙ্গাদেরকে তাদের দেশে ফিরতে দিতে হবে। অস্থায়ী এই দেশ ত্যাগ যদি স্থায়ী রূপ পায় তাহলে তা হবে সবচেয়ে খারাপ বিষয়। মিয়ানমার সরকারের উচিত মানবাধিকার বিষয়ক অধিক সংগঠনকে রোহিঙ্গাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার অনুমতি দেয়া। ওই অঞ্চল আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্তের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, রাখাইনে যেভাবে গণহত্যা হয়েছে তা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। এর মধ্যে রয়েছে মানুষকে জোর করে দেশ ছাড়া করা। হত্যা করা। যৌন সহিংসতা। এ জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আলোচনার বাইরে আসতে হবে এবং বিশ্ববাসীর ক্ষোভকে প্রকাশ করতে হবে। সমর্থন দিতে হবে নতুন অবরোধে।
এতে আরো বলা হয়, মিয়ানমার কয়েক দশক ধরে সামরিক জান্তার শাসনের অধীনে ছিল। সে অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসে দেশটি। সংস্কার করা হয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায়। এরপর ২০১৫ সালে জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় আছেন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির নেত্রী অং সান সুচিকে। এরপরই মিয়ানমারের ওপর দেয়া অর্থনৈতিক ও আর্থিক অবরোধ গত বছর শিথিল করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওই অবরোধ প্রত্যাহার করে বারাক ওবামা শুধু মিয়ানমারের অগ্রগতিরই স্বীকৃতি দেন নি, একই সঙ্গে ভবিষ্যত চলার পথও দেখিয়েছেন। কিন্তু রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ সেই প্রত্যাশার ঠিক উল্টো। এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সময় হলো, মিয়ানমারের সামরিক কমান্ডার ও অন্যদের ওপর, যারা রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতাকে সমর্থন করে, তাদের বিরুদ্ধে টার্গেটেড অবরোধ দেয়া।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কখনো পুরোপুরিভাবে তাদের ক্ষমতা ছেড়ে দেয় নি। এখনও তারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। পার্লামেন্টে এক চতুর্থাংশ আসন তাদের দখলে রয়েছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের। আরিজোনার রিপাবলিকান দলের সিনেটর জন ম্যাককেইন ও ডেমোক্রেট দলের বেনজামিন এল. কারডিনের নেতৃত্বে ২২ জন সিনেটর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে পরামর্শ দিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার ঘটনাটিকে গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি অ্যাক্ট হিসেবে বিবেচনা করতে। যদি এটা করা হয় তাহলে বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-, নির্যাতন ও আন্তর্জাতিকভাবে মানবাধিকারের অন্যান্য ভয়াবহ লঙ্ঘনের জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট অবরোধ আরোপ করতে পারবেন। সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, যদি যথার্থভাবে দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায় তাহলেই বোঝা যাবে আইন কার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
এখন মিয়ানমারের চেয়ে বাংলাদেশেই বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তাদের এই দুর্দশায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে অপরাদের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে, জটিল করে তুলবে।


সম্পর্কিত প্রবন্ধসমূহ

আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

quds cartoon 2018
پیام امام خامنه ای به مسلمانان جهان به مناسبت حج 2016
We are All Zakzaky