মাহদাভিয়াত সম্পর্কে সৌদি যুবরাজের মূর্খতাপূর্ণ মন্তব্য ও আওয়ামিয়া এলাকায় হামলার প্রতিবাদে মাজমার বিবৃতি

  • News Code : 829817
  • Source : ABNA
Brief

শিয়া অধ্যুষিত আওয়ামিয়া অঞ্চলে সৌদি বাহিনীর হামলার নিন্দায় বিবৃতি প্রকাশ করে আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থা।

হলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা –আবনা-: বিবৃতি প্রদান করে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শিয়া অধ্যুষিত আল-আওয়ামিয়া শহরের ‘আল-মাসুরাহ’ এলাকায় সৌদি বাহিনীর হামলার নিন্দা জানিয়েছে আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থা (মাজমা)।

 

বিবৃতির মূল অংশ

মাহদাভিয়াত সম্পর্কে সৌদি যুবরাজের মূর্খতাপূর্ণ মন্তব্য এবং

আল-আওয়ামিয়া এলাকায় হামলার প্রতিবাদে

আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার বিবৃতি

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

«إِنَّ فِرْعَونَ عَلَا في الأرضِ وَجَعَلَ أَهلَهَا شِيَعًا يَستَضعِفُ طَائِفَةً مِنهُمْ يُذَبِّحُ أَبنَاءَهُمْ وَيَسْتَحيِي نِسَاءَهُم إِنَّهُ كَانَ مِنَ المُفسِدِين»

“ফিরআওন দেশে পরাক্রমশালী হয়েছিল এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করে তাদের একটি শ্রেণীকে সে হীনবল করেছিল; তাদের পুত্রসন্তানদেরকে সে হত্যা করত এবং নারীদেরকে জীবিত রাখত। সে তো ছিল বিপর্যয় সৃষ্টিকারী”(সূরা কাসাস : ৪)

সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক আর্টিলারি, ট্যাংক ও যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র নিয়ে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের শিয়া অধ্যুষিত আল-আওয়ামিয়া শহরের মসজিদ ও জনগণের বাড়ী-ঘরের উপর হামলা মূলতঃ সৌদি আরবের নির্বোধ যুবরাজ ‘মুহাম্মাদ বিন সালমানে’র আকিদার বহিঃপ্রকাশ; যা তিনি সাম্প্রতিককালে টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাতকারে প্রকাশ করেছেন। ঐ মন্তব্যে তিনি ইমাম মাহদি (আ.) এর বিষয়ে মুসলমানদের আকিদার বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। এতে তিনি ওয়াহাবি চিন্তাধারায় প্রভাবিত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অন্যায় আক্রমন করেছেন।

শিয়া অধ্যুষিত আওয়ামিয়া শহরের আল-মাসুরাহ এলাকায় হামলার জন্য যে সময়টি বেছে নেয়া হয়েছিল তা হঠাৎ পরিকল্পিত ছিল না বরং ইমাম মাহদি (আ.) এর জন্মবার্ষিকী পালনের সমসময়কে এ হামলার জন্য বেছে নেয়া হয়েছিল। সামরিক কায়দায় অভিযানটি এমন সময় পরিচালিত হয়যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানরা এ দিবস উপলক্ষে আনন্দ মাহফিলের আয়োজন করে থাকে এবং মুসলমানরা অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ লাভ ও ইমাম মাহদি (আ.) এর আবির্ভাবের বিষয়ে বর্ণিত বিভিন্ন হাদিস শোনার জন্য সমবেত হয়।

কিন্তু আলে সৌদ বলতে চায়, এ ধরনের কোন পরিত্রাণদাতার আগমনের বিষয়টি অসম্ভব। তারা চেয়েছিল গুলির আওয়াজের মাধ্যমে ইমাম মাহদি (আ.) এর জন্মবার্ষিকীতে আয়োজিত মাহফিলের আওয়াজকে দমিয়ে রাখতে।

আওয়ামিয়া শহর -এখনো যেখান থেকে শহীদ শাইখ নিমরের স্মৃতি মুছে যায়নি- শাজারায়ে মালউনাহ তথা অভিশপ্ত এ বৃক্ষের (আলে সৌদ) জন্য সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। শহরের আল-মাসুরাহ এলাকাটি বর্তমানে প্রতিনিয়ত সৌদি বাহিনীর হামলার শিকার। এ নাগাদ ১ শিশুসহ ৪ ব্যক্তি শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু।

যেভাবে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতা ‘সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ’ শহীদ মুস্তাফা বদরুদ্দীনের শাহাদত বার্ষিকীতে প্রদত্ত ভাষণে বলেছেন: “মুহাম্মাদ বিন সালমান মূলতঃ সৌদি শাসক পরিবার ও এদেশের আলেম সমাজের আকিদার প্রকাশ ঘটিয়ে বলেছেন,‘ইরানিদের সাথে সৌদি আরবের সমস্যা হচ্ছে ইরানিরা ইমাম মাহদি (আ.) এর প্রতীক্ষায়রত’।অথচ ইমাম মাহদি (আ.) সম্পর্কে বিশ্বের সকল মুসলমানই ঐকমত্য রাখে এবং এটা শুধু শিয়াদের সাথে সম্পৃক্ত কোন বিষয় নয়। সকল মুসলমানই জানে ইমাম মাহদি (আ.) মক্কা থেকেই কিয়াম করবেন, তেহরান বা সিরিয়া থেকে নয়।”

হিজবুল্লাহ প্রধান তার বক্তব্যে, ইমাম মাহদি (আ.) সম্পর্কে বহু রেওয়ায়েত স্বয়ং আহলুস সুন্নাহ’র বিশ্বস্ত বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে উল্লেখ করেছেন, ঐ রেওয়ায়েতগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত যে, মহানবি (স.) বলেছেন: শেষ যুগে ‘মাহদি’র উত্থান ঘটবে। মহান আল্লাহ্ তাকে বৃষ্টির মাধ্যমে পরিতৃপ্ত করবেন। এ সময় মাটি নিজের ভেতরে যা কিছু আছে সব বের করে দেবে ও সম্পদকে সঠিকভাবে প্রদান করবে। (এ সময়)উম্মতকে সম্মান করা হবে। আর তিনি ৭ থেকে ৮ বছর হুকুমত করবেন।

২। আহমাদ বিন হাম্বাল আবু সাঈদ খুদরি (রা.) মারফত বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (স.) বলেছেন: পৃথিবী জুলম-অত্যাচারে পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কেয়ামত আসবে না। ঐ সময় আমার আহলে বাইত তথা বংশধরদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে। অতঃপর সে পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পূর্ণ করবে যেভাবে তা জুলুম-অত্যাচারে পূর্ণ হয়েছিল”।

৩। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত, মহানবি (স.) বলেছেন: মাহদি হবে আমার থেকে;যার কপাল হবে প্রশ্বস্ত এবং নাক হবে খাড়া। সে পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পূর্ণ করবে যেভাবে পৃথিবী জুলুম-অত্যাচারে পূর্ণ হবে। আর তার হুকুমতের মেয়াদকাল হবে ৭ বছর।

৪। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন: আমি ভয় পেলাম যে, মহানবি (স.) এর পর কোন ঘটনা ঘটবে কিনা। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। অতঃপর তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মাঝে মাহদি (আ.) এর উত্থান ঘটবে। অতঃপর সে ৫ বা ৭ বছর জীবন-যাপন করবে (সন্দেহ যাইদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত)। অতঃপর জিজ্ঞেস করলাম, কখন তার উত্থান ঘটবে। তিনি (স.) বললেন: পরবর্তী বছরগুলোতে। অতএব, এক ব্যক্তি তার কাছে এসে বলবে, হে মাহদি আমাকে কিছু দান করুন! অতঃপর তার পোশাকে এতটাই ঢালবেন যে, সে তা তুলে নিয়ে যেতে অক্ষম হবে।

৫। মহানবি (স.) থেকে হযরত আলী (আ.) বর্ণনা করেছেন: মাহদি আমার আহলে বাইত থেকে হবে। মহান আল্লাহ একরাতেই তার বিষয়টির সমাধান করবেন।

৬। উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসুল বলেছেন: মাহদি হবে আমার বংশধর ও ফাতেমার সন্তান।

৭। ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত যে, মহানবি (স.) বলেছেন: যদি পৃথিবীর বয়স (ধ্বংস হতে) আর মাত্র একদিন বাকি থাকে, মহান আল্লাহ্ ঐ দিনটিকে এতটাই দীর্ঘায়িত করবেন যে, আমার আহলে বাইত থেকে এক ব্যক্তির আগমন ঘটবে এবং সেপৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পূর্ণ করবে যেভাবে পৃথিবী জুলুম-অত্যাচারে পূর্ণ হয়েছে।

এছাড়া অন্যান্য রেওয়ায়েত, যেগুলো সম্পর্কেসৌদি রয়াল কোর্টের উচিত অনভিজ্ঞ ও অপরিপক্ক এ সৌদি যুবরাজকে বোঝানো।

 

আওয়ামিয়া শহরের মাসুরাহ এলাকায় সৌদি বাহিনীর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থা নিম্নোক্ত বিষয়াদির প্রতি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

১। কোনরূপ পূর্ব ঘোষণা ও সতর্ক করা ছাড়াই কোন আবাসিক এলাকায় এমন ব্যাপক সামরিক অভিযান নিন্দনীয়। অনতি বিলম্বে এ হামলা বন্ধ করে সাহায্যকর্মী ও চিকিৎসক দলকে আহতদের চিকিৎসার অনুমতি প্রদানের জন্য সৌদি আরবের প্রতি আহবান জানাই। আর এ বিষয়টিও উল্লেখ করতে চাই যে, এলাকাটির বাড়ি-ঘর অধিকাংশই পুরাতন এবং এমন হামলা সহ্যের ক্ষমতা এ এলাকার নেই।

২। অনতিবিলম্বে এ হামলা বন্ধ ও আওয়ামিয়া শহরের অবরোধ তুলে নেয়ার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহবান জানাই। পাশাপাশি এ জনপদে হামলার বিষয়ে তদন্তের জন্য নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত টিম প্রেরণের করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানাই।

৩। গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি এবং দেশটির ক্ষমতা নির্ধারণে জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ না থাকায় সৌদি সরকার এদেশের জনগণের বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ এবং ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে হামলা চালানোর সাহস দেখায়।

৪। অভ্যন্তরিন রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে সেনাবাহিনী ও সামরিক যান ব্যবহার কখনই কাঙ্খিত ফল দিতে পারে না; বরং সমস্যাকে আরো জটিল করে তোলে। অতএব, রাজনৈতিক সমাধানের উপায় অবলম্বনের জন্য সৌদি সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

৫। লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনে অনর্থক যুদ্ধে সৌদি আরবের ধারাবাহিক ব্যর্থতাকে তারা অসহায় জনগণের বিরুদ্ধে ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে অর্জিত বাহ্যিক বিজয়ের মাধ্যমে ঢাকতে পারবে না।

“তুমি কখনো মনে করো না যে, অত্যাচারীরা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ্ বেখবর, তবে তিনি তাদেরকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দেন যেদিন তাদের চক্ষু হবে স্থির”। (সূরা ইব্রাহিম : ৪২)

আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থা

১৬ শাবান ১৪৩৮

১৩ মে ২০১৭

২৩ উর্দিবেহেশ ১৩৯৬


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

Mourining of Imam Hossein
پیام امام خامنه ای به مسلمانان جهان به مناسبت حج 2016
We are All Zakzaky
telegram