আশ্বিন উইরাথু; মিয়ানমারের ‘বিন লাদেন’

বৌদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ‘৯৬৯’ রোহিঙ্গা হত্যার খলনায়ক

বৌদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ‘৯৬৯’ রোহিঙ্গা হত্যার খলনায়ক

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যার নেপথ্যে ‘৯৬৯’ নামের বৌদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন মূল ভূমিকা পালন করেছে।
উগ্রপন্থি বৌদ্ধ ভিক্ষু আশ্বিন উইরাথু ২০০১ সালে মুসলিমবিরোধী এ সংগঠন গড়ে তোলেন। খবর বিবিসির।

আবনা ডেস্কঃ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যার নেপথ্যে ‘৯৬৯’ নামের বৌদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন মূল ভূমিকা পালন করেছে।
উগ্রপন্থি বৌদ্ধ ভিক্ষু আশ্বিন উইরাথু ২০০১ সালে মুসলিমবিরোধী এ সংগঠন গড়ে তোলেন। খবর বিবিসির।
তবে আশ্বিন উইরাথু তার সংগঠন ‘৯৬৯’-এর উগ্রপন্থার বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।
তবে উগ্রপন্থার দায়ে তাকে ২০০৩ সালে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০১০ সালে অন্যান্য রাজবন্দির সঙ্গে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।
তাকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি ‘বার্মার বিন লাদেন’ কি না? জবাবে মি. উইরাথু বলেছিলেন, এ বিষয়টি তিনি অস্বীকার করবেন না। বিভিন্ন জায়গায় তিনি বলেছেন, তিনি শান্তির জন্য কাজ করছেন।
মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত হিংসাত্মক বক্তব্য তুলে ধরার জন্য অনেকের কাছেই পরিচিত ওই উগ্রপন্থি বৌদ্ধ ভিক্ষু আশ্বিন উইরাথু ।
মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিষয়ে বৌদ্ধদের মনে ভীতি ছড়ানোর জন্য তাকে অভিযুক্ত করা হয়।
এমন কী জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি-কে বেশ্যা বলে গালমন্দ করেছেন এ বৌদ্ধ ভিক্ষু আশ্বিন উইরাথু।
১৫ বছর আগেও এ বৌদ্ধ ভিক্ষু কারো কাছে পরিচিত ছিলেন না। ১৯৬৮ সালে জন্ম নেয়া আশ্বিন উইরাথু ১৪ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে ভিক্ষু হতে গিয়েছিলেন।
মিয়ানমার সরকার উদ্রপন্থার বিষয়ে নিয়ম শিথিল করার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
তিনি ইউটিউব এবং ফেসবুকে তার নানা ধরনের বক্তব্য ছড়াতে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তার ৩৭ হাজারের বেশি ফলোয়ার ছিল ।
২০১২ সালে রাখাইন রাজ্যে মুসলমান এবং বৌদ্ধদের মধ্যে যখন তীব্র সংঘাত শুরু হয়, সে সময় আশ্বিন উইরাথু জ্বালাময়ী বক্তব্য নিয়ে জনসমক্ষে আসেন।
তার একটি পরিচিত উক্তি ছিল, 'তুমি যাই করো, সেটা একজন জাতীয়তাবাদী হিসেবে করবে।'
২০১৩ সালের ১ জুলাই টাইম ম্যাগাজিন আশ্বিন উইরাথুকে নিয়ে একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করেছিল। সেটির শিরোনাম ছিল, একজন বৌদ্ধ সন্ত্রাসীর মুখ।
তার বক্তব্য হিংসা ছড়িয়েছিল এবং সেগুলোর মূল টার্গেট ছিল রোহিঙ্গা মুসলমানরা।
রোহিঙ্গা মুসলমানদের তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরিত করার দাবি নিয়ে তিনি সমাবেশও করেছেন।
মুসলমানদের মধ্যে জন্মহার বেশি - এমন বক্তব্য প্রচার করেছেন আশ্বিন উইরাথু। তিনি অভিযোগ করেন, বৌদ্ধ নারীদের জোর করে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে।
অনেকে মনে করেন, আশ্বিন উইরাথুর বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে টার্গেট করা হবে।
তাছাড়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্ব দেয়ার বিরুদ্ধে তিনি যেসব কথা বলতেন, সেগুলো ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিল।
এমন কী মিয়ানমারের অন্য অনেক বৌদ্ধ ভিক্ষু তার বিষয়ে কোনো কথা বলতে চান না।
যদিও ২০০৭ সালে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন।
আশ্বিন উইরাথু খুব দ্রুত বিশ্বের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন বার্মার বৌদ্ধদের প্রতীক হিসেবে।
তবে তিনি বাস্তবে বার্মার সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের প্রতিনিধিত্ব করেন কি না- সেটি নিয়ে বেশ সংশয় আছে।
প্রায় অর্ধ শতাব্দী সামরিক শাসনের পরে মিয়ানমারে এখন নিয়ন্ত্রিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
অনেকে মনে করেন, উগ্রপন্থি ভিক্ষু আশ্বিন উইরাথু রোহিঙ্গাবিরোধী যে মনোভাব দেখিয়েছেন- সেটি মিয়ানমারের ভেতরে অনেকেরই মনের কথা।
সরকারের ভেতরে অনেকেই কূটনৈতিক কারণে রোহিঙ্গাবিরোধী কথা সেভাবে বলতে পারেন না।
ফলে উইরাথু রোহিঙ্গাবিরোধী যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তার পেছনে সরকারের সমর্থন রয়েছে।

মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে, আশ্বিন উইরাথুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না পেলে তারা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না।


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

quds cartoon 2018
پیام امام خامنه ای به مسلمانان جهان به مناسبت حج 2016
We are All Zakzaky