রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রতিবাদে কোলকাতায় মহামিছিল, সুচিকে 'মানবতার শত্রু' ঘোষণা

  • News Code : 853636
  • Source : Parstoday
Brief

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যার প্রতিবাদে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতায় ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (সোমবার) 'সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন'-এর ডাকে ও বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ওই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আবনা ডেস্কঃ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যার প্রতিবাদে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতায় ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (সোমবার) 'সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন'-এর ডাকে ও বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ওই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ওই সমাবেশ থেকে সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান মিয়ানমার সরকারের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছিল, মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশের রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেয়া। কিন্তু তিনি মজলুম রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা না বলে তিনি অং সান সু চি'র পক্ষে কথা বলেছেন। মানবাধিকারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।’
মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘ভারতে তিব্বত, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, বাংলাদেশের ভাইয়েরা থাকলেও তাদের জন্য নরেন্দ্র মোদির জায়গার অভাব হচ্ছে না। কেবলমাত্র রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য এখানে জায়গার অভাব হচ্ছে!’
কামরুজ্জামান তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, ‘মোদি সকাল-সন্ধ্যায় গরুকে ‘মা’ বলেন। কিন্তু তিনি কোন গরুর সন্তান তা আমাদের চিনতে অসুবিধা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, গরুর নীতি ভারতে চালাবেন না। গো-নীতি ভারতের মানুষ মানবে না। ভারত মানবতার নীতিতে বিশ্বাসী, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্রের নীতিতে বিশ্বাসী। গরুর নীতিতে বিশ্বাসী নয়।’
কামরুজ্জামান বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার যে অত্যাচার চালাচ্ছে তা শুধু মুসলিমদের লজ্জা নয়, এটা একবিংশ শতাব্দীর সভ্যতার লজ্জা। আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি অং সান সু চিকে। মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু চিকে তিনি ‘মানবতার শত্রু’ বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হওয়ায় জাতিসঙ্ঘের উদ্যোগে তার সদস্য দেশগুলো থেকে সেনাবাহিনী নিয়ে গিয়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মানবাধিকারকে সুরক্ষিত করতে হবে। তাদের নিরাপত্তা দিতে হবে।’
মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রেও শিশুদের হত্যা করা হয় না। কিন্তু ‘মানবতার দুশমন অং সান সু চি’ শিশুদেরকে পর্যন্ত হত্যা করছে! আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি এবং নিন্দা জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সরকারের আপত্তিতে জাতিসঙ্ঘ যখন ক্ষুধার্ত রোহিঙ্গাদের কাছে খাবার পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয়েছে তখন জাতিসঙ্ঘের উচিত ছিল মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে 'জিহাদ' ঘোষণা করা। ইরাকে মারণাস্ত্র খোঁজার নাম করে যে জাতিসঙ্ঘ 'জিহাদ' ঘোষণা করেছিল কিন্তু রোহিঙ্গাদের কাছে খাবার পৌঁছে দিতে তারা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে না। জাতিসঙ্ঘের ওই ঠুঁটো জগন্নাথপনাকে আমরা তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি।’
সমাবেশে ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা ও ফুরফুরা শরীফ অনাথ ফাউন্ডেশনের প্রধান ত্বহা সিদ্দিকি মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানান।
কোলকাতায় রোহিঙ্গাদের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত হয়ে সিপিএম নেতা সুজন চট্টোপাধ্যায় মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নির্যাতনকে ‘জাতি নিপীড়ন’ বলে অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। এটা গোটা রাজ্য ও দেশের লড়াই এবং তা অব্যাহত থাকবে বলে বলেন।
কংগ্রেস এমপি ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধীর চৌধুরী মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের নিন্দা করে বলেন, ইসরাইল যখন ফিলিস্তিনকে আক্রমণ করে, তাদের রক্তাক্ত করে তখন আমরা ইয়াসির আরাফাতের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও আমরা রুখে দাঁড়িয়েছিলাম।’ ভারতবর্ষ একটা সভ্যতা ও সংস্কৃতির নাম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে কোলকাতার রাজপথে প্রায় এক লাখ মানুষ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যিক চুক্তি বাতিল করার দাবিসহ 'রোহিঙ্গা শিশুদের হত্যা করা হল- কেন মিয়ানমার সরকার জবাব দাও', অং সান সুচি'র কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, এমনকি কোলকাতার মিয়ানমার কনস্যুলেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়ার দাবিতে ক্ষুব্ধ মানুষজন স্লোগান দেন।


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

Mourining of Imam Hossein
پیام امام خامنه ای به مسلمانان جهان به مناسبت حج 2016
We are All Zakzaky
telegram