ঢাকার সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ

রোহিঙ্গা সমস্যায় চাপ বাড়ছে মিয়ানমারের ওপর

  • News Code : 830204
  • Source : Prothom-Alo
Brief

রোহিঙ্গা নির্যাতনের পর বেশ কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও দীর্ঘদিনের সমস্যাটির টেকসই সমাধানে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ছে মিয়ানমার।

আবনা ডেস্ক: রোহিঙ্গা নির্যাতনের পর বেশ কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও দীর্ঘদিনের সমস্যাটির টেকসই সমাধানে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ছে মিয়ানমার। গত অক্টোবরে সীমান্ত ফাঁড়িতে সন্ত্রাসী হামলার জেরে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিধনযজ্ঞের অভিযোগে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সমালোচনা হচ্ছে। রাখাইন রাজ্যের মানবিক এই সংকটের সমাধানে মিয়ানমার সরকারকে তাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের কথাও বলছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
এ মাসের শুরুতে ইউরোপ সফরের সময় রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির সঙ্গে মতপার্থক্য হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ফেদরিকো মুঘেরিনির। ইইউর জ্যেষ্ঠ এই কূটনীতিক জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাখাইন রাজ্যে আন্তর্জাতিক তদন্ত দল পাঠানোর পক্ষে জোর দিয়েছেন।
ঢাকা ও ইয়াঙ্গুনের কূটনৈতিক সূত্রগুলোতে যোগাযোগ করে জানা গেছে, রাখাইন কমিশনের সঙ্গে এক আলোচনাতেও মিয়ানমারে কর্মরত কূটনীতিকেরা রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক তদন্ত দল পাঠানোর বিষয়টিতে জোর দিয়েছেন। গত সপ্তাহে ইয়াঙ্গুনে কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন বিদেশি কূটনীতিকেরা। ওই বৈঠকে মিয়ানমারে ইইউ রাষ্ট্রদূত রোনাল্ড কবিয়া জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক তদন্ত পরিচালনার প্রসঙ্গটি তোলেন।
১ থেকে ৯ মে বেলজিয়াম, ইতালি, হলি সি, যুক্তরাজ্য ও উত্তর আয়ারল্যান্ড সফর করেন সু চি। বিশেষ করে ব্রাসেলসে ইইউ সদর দপ্তরে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় সু চিকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। ছয় মাস আগেও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলো রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমারের ব্যাপারে মধ্যপন্থা নীতিতে হাঁটার কৌশল নিয়েছিল। কিন্তু মার্চে জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের বৈঠকের পর দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে। মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রস্তাবে মিয়ানমারের ওপর একধরনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি মিয়ানমারকে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথাটিও তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থং তুনের ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।
জানতে চাইলে মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান গত রোববার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথম আলোকে বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারের প্রতি বাংলাদেশ সব সময় বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে আছে। রাখাইন রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে সেখানকার স্থায়ী সমাধানে দ্বিপক্ষীয়সহ সব ধরনের প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারকে সহযোগিতা করতে তৈরি আছে বাংলাদেশ।
ইয়াঙ্গুনের কূটনৈতিক সূত্রগুলোতে যোগাযোগ করে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রাখাইন পরিস্থিতি, বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার বিষয়টিতে যেভাবে মনোযোগ তৈরি হয়েছে, সেটিকে মিয়ানমার সরকার গঠনমূলক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনায় নিলে সমাধানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রেক্ষাপট তৈরি হতে পারে। যেমন রাখাইনের জনগণের টেকসই কল্যাণের লক্ষ্যে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত রাখাইন কমিশন বা আনান কমিশনকে কয়েক মাস আগেও গ্রাহ্য করেনি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং জাতীয়তাবাদী একটি মহল। ইদানীং কমিশনকে কিছুটা হলেও বিবেচনায় নিচ্ছে। কমিশনের সদস্যরা গত সোমবার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিয়া তুন ওর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। মিয়ানমারের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া রাজ্যটির উন্নয়নে এ বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ দেওয়ার কথা আছে। তবে এর মধ্যেই কমিশন গত মার্চে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সুপারিশ প্রকাশ করেছে, যেখানটায় রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে দীর্ঘদিনের সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে জোর দেওয়া হয়েছে।
সু চির ইউরোপ সফর এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত অক্টোবরে রাখাইনে সশস্ত্র বাহিনীর নিধনযজ্ঞ মিয়ানমার শুরু থেকেই আড়াল করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং বিশ্বের নানা প্রান্তে রোহিঙ্গাদের নিপীড়ন নিয়ে মনোযোগ বাড়তে থাকায় সত্য আড়াল করাটা এখন মিয়ানমারের জন্য দুরূহ হয়ে পড়েছে।


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

پیام امام خامنه ای به مسلمانان جهان به مناسبت حج 2016
We are All Zakzaky
telegram