সুচির পদত্যাগ করা উচিত

সুচির পদত্যাগ করা উচিত

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে যদি সেনাবাহিনী ক্ষমতাহীন করে রাখেন তাহলে তার উচিত হবে পদত্যাগ করা। এমন মন্তব্য করেছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আবনা ডেস্কঃ মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে যদি সেনাবাহিনী ক্ষমতাহীন করে রাখেন তাহলে তার উচিত হবে পদত্যাগ করা। এমন মন্তব্য করেছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি বলেছেন, এ সঙ্কটের জন্য ‘আমি শতভাগ দায়ী করবো তাকে (সুচি)। কারণ তিনি দেশের নেত্রী’। সম্প্রতি আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন। এতে তিনি বলেন, নিজের দেশের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যে নৃশংসতা ও সহিংসতা চলছে মৌখিকভাবে তার পক্ষ নিয়েছেন সুচি।
যদি তিনি বলতে না পারেন তার কি বলা উচিত তাহলে তো তিনি কোনো নেত্রীই নন। নেতাকে দাঁড়াতে হয় তার নিজের জনগণের পক্ষে। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইনে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও সেনা ক্যাম্পে ২৫ শে আগস্ট হামলা চালায় আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা)। এতে কমপক্ষে ১১ জন পুলিশ অথবা সেনা সদস্য নিহত হন। এরপরই সাধারণ রোহিঙ্গা জনগণের ওপর নৃশংস নির্যাতন শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গণধর্ষণ, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ সহ এমন কোনো অপরাধ নেই যা তারা ঘটায় নি। এসব বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন, বিভিন্ন দেশ ও জাতিসংঘ। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এমন নৃশংসতার কারণে তারা প্রাণ বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। এখন তাদের সংখ্যা প্রায় ছয় লাখের মতো। এ নিয়ে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূস সহ আরো নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জাতিসংঘের কাছে চিঠি লিখেছেন। তারা অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। অং সান সুচি যেমন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন, তেমনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসও একই পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু সুচি আন্তর্জাতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও কথা বলে যাচ্ছেন সেনাবাহিনীর ভাষায়। এতে তার তীব্র সমালোচনা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। তাকে অচেনা সুচি হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন অনেকে। কারণ, তাকে দেখা হয় মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের আইকন হিসেবে। এবার তার দেশেই যখন চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে তখন তিনি নিষ্পেষিত রোহিঙ্গাদের পক্ষে কোনো কথা বলেন নি। তিনি উল্টো সাফাই গেয়েছেন সেনাবাহিনীর। রোহিঙ্গাদেরকে তিনি রোহিঙ্গা পর্যন্ত বলতে নারাজ। তিনি তাদেরকে বাঙালি হিসেবে অভিহিত করেন, অবৈধ অভিবাসী হিসেবে অভিহিত করেন। এমন অবস্থায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাকে আক্রমণ করে বক্তব্য না দিয়ে পারেন নি। তিনি সুচিকে লক্ষ্য করে বলেছেন, আপনাকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। মানবাধিকার, গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়ে বছরের পর বছর আপনি যা অর্জন করেছেন সেই ভাবমূর্তি আপনাকে রক্ষা করতে হবে। আপনি যে মূল্যবোধকে উন্নীত করেছেন তা কোথায় গেল? আল জাজিরার সাংবাদিক তার কাছে জানতে চান, সুচি কি নোবেল পুরস্কারের যোগ্য? জবাবে ড. ইউনূস বলেন, যদি বর্তমানের এসব কাহিনী নোবেল কমিটির সামনে আসতো তাহলে নোবেল কমিটি কখনোই তাকে পুরস্কার দিত না। এ বিষয়ে নিশ্চিত তিনি।


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

Arba'een
Mourining of Imam Hossein
Pesan Haji 2018 Ayatullah Al-Udzma Sayid Ali Khamenei
We are All Zakzaky