জেনারেল দেহকান:

ইরানের উপর হামলা করলে মক্কা ও মদিনা ব্যতীত সৌদি আরবের কোন এলাকা নিরাপদ থাকবে না

  • News Code : 828807
  • Source : ABNA
Brief

ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষমতা সৌদি আরবের আছে কি না? –এমন প্রশ্নের জবাবে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেছেন: সৌদিরা মনে করে, তাদের বিমান বাহিনী এতটাই শক্তিশালী যে, তারা এ ধরনের দুঃসাহস দেখাতে সক্ষম। কিন্তু তাদের প্রতি আমার পরামর্শ হচ্ছে, তারা যেন এমন বোকামি না করে। তবে এমন বোকামি করে বসলে মক্কা ও মদিনা ব্যতীত সৌদি আরবের কোন এলাকা নিরাপদ থাকবে না।

হলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা –আবনা-: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, যদি সৌদি আরব বোকামি করে ইরানের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয় তবে মক্কা ও মদিনা ব্যতীত এ দেশের কোন এলাকা নিরাপদ থাকবে না।

জেনারেল হুসাইন দেহকান লেবাননের আল-মানার চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে রিয়াদের উদ্দেশ্যে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছেন: অহংকারের কারণে তারা এমন কিছু কথা মুখে আনছে যেগুলোকে তারা নিজেরাই উপলব্ধি করে না। তারা কেবল ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলকে উস্কে দেওয়ার যোগ্যতা রাখে। বাহরাইনের জনগণের বিরুদ্ধে তাদের উস্কানীও বিফলে গেছে এবং তারা জনগণকে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবী থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি। কারাগারে নির্যাতনকারীরা ও জল্লাদরা এমনকি আয়াতুল্লাহ ঈসা কাসেমের বাসভবনকে অবরুদ্ধ করেও জনগণের দৃঢ় সংকল্পে বিন্দু পরিমাণে চীড় ধরাতে পারেনি তারা।

তিনি আরও বলেন: সৌদি আরব বর্তমানে চরম হতাশাগ্রস্থ ও দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছে। এমনকি দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর চাটুকারে পরিণত হয়েছে। এ চাটুকারিতার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের (ইরানের) বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুকে উস্কে দেওয়া। তাদের এ আচরণের কি অর্থ থাকতে পারে? এমন একটি অঞ্চলের জনগণের বিরুদ্ধে কেন উস্কানী নীতি বেছে নিয়েছে, যেখানকার মানুষ ওয়াহাবিয়াত ও সালাফিয়াতে’র সামনে মাথা নত না করে রুখে দাঁড়িয়েছে? তারা কেন এ জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার এবং এ জনগোষ্ঠিকে দমন করার জন্য অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করে?

জেনারেল দেহকান বলেন: সৌদি কর্মকর্তাদের উচিত নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া যে, তাদের সাথে ইসরাইল বা আমেরিকার জোট হওয়ার সাথে মুসলিম উম্মাহ’র ঐক্যের কোন সম্পর্ক আছে কি না? মধ্যপ্রাচ্যকে আমেরিকার হাতে তুলে দিলে কি মুসলমানরা নিরাপত্তা পাবে? পরাজিত একটি রাজতন্ত্রকে পূনর্গঠনে মুসলমানদের বাইতুল মালের অপচয় কি মুসলমানদের সেবার আওতাভূক্ত?

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন: আমরা কখনও কোন আরব বা মুসলিম দেশ দখলের চেষ্টা করিনি। অতিতেও আমরা দখল নীতি অবলম্বন করিনি এবং ভবিষ্যতেও করবো না। বিভিন্ন জাতির বিরুদ্ধে বিশেষ করে ইরানের মত শক্ত শিকড়ধারী ও শক্তিশালী জাতির সামনে শক্তি প্রদর্শন করতে পারবে বলে মনে করে সৌদি আরব। তবে আমার বিশ্বাস তারা যা বলছে নিজেরাও তা বোঝে না। এর মূলে রয়েছে মূর্খতা ও অনভিজ্ঞতা। ইয়েমেনে সৌদি আরবের মানবতা বিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিশ্ব ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে, এমন পরিস্থিতি আমেরিকা তাদের জন্য কিইবা করে পারে?

তিনি বলেন: সৌদিরা বহুবার ইয়েমেনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, এটা প্রথমবার নয়। ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে তারা এ নিয়ে চতুর্থবার যুদ্ধে জড়িয়েছে। বিগত ৩টি যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে তারা। এবারও সৌদি আরবের ওয়াহাবি সরকারকে ইয়েমেনের উপর কর্তৃত্বশীল হওয়ার অনুমতি দেবে না ইয়েমেনের জনগণ।

“সৌদি আরব কি ইরানের উপর হামলা করার ক্ষমতা রাখে?” আল-মানার প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন: আমার বোধগম্য নয় যে, কিভাবে তারা এমন পদক্ষেপ নেবে। সৌদিরা মনে করে, তাদের বিমান বাহিনী এতটাই শক্তিশালী যে, তারা এ ধরনের দুঃসাহস দেখাতে সক্ষম। কিন্তু তাদের প্রতি আমার পরামর্শ হচ্ছে, তারা যেন এমন বোকামি না করে। তবে এমন বোকামি করে বসলে মক্কা ও মদিনা ব্যতীত সৌদি আরবের কোন এলাকাই নিরাপদ থাকবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট সংকট নিরসনের বিষয়ে তিনি বলেন: সংকট নিরসনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ। প্রথম পদক্ষেপে সৌদি আরবের উচিত হবে ইয়েমেন আগ্রাসন বন্ধ করা। দ্বিতীয় পদক্ষেপে ইসলামি দেশগুলোর অভ্যন্তরিন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে সৌদি আরবকে বিরত থাকতে হবে। তৃতীয় পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি মেনে নেয়া এবং আন্তর্জাতিক সৈন্যদেরকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরিয়ে দেয়া। চতুর্থ পদক্ষেপ, নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনগণের অধিকারকে স্বীকৃতি প্রদান করা। এ বিষয়গুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট সমস্যা নিরসন সম্ভব।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন: বর্তমানে ইসরাইল নিজের সোনালী সময় পার করছে। তারা দায়েশকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উস্কে দিয়ে নিজেরা নিরাপদে থাকতে চাইছে। এর মাধ্যমে তারা মুসলমানদের শক্তিকে ক্ষয় করে নিজেদের সামনে বিদ্যমান হুমকিকে সরিয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন: সাম্প্রতিক কালে ইসরাইল যখন কোন অঞ্চলে আক্রমন করে, তখন এ আক্রমনের মাধ্যমে মূলতঃ মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সন্ত্রাসী প্রতিনিধিদের নিকট এ বার্তা পৌঁছে দিতে চায় যে, তোমরা উদ্বিগ্ন হয়ো না, আমরা তোমাদের সাথে আছি। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার আরও দু’টি উপায় রয়েছে। প্রথমতঃ ইসরাইল যে নীতি অবলম্বন করেছে তা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে ইসরাইল উপস্থিত থাকতে পারবে না। আর এর সমধানও সহজ; ফিলিস্তিনিরা তাদের ভূখণ্ডে ফিরে যাবে, যাতে জনগণ নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।ফিলিস্তিনীরা যা কিছুকেই বেছে নেবে আমরা তা মেনে নেব।

দ্বিতীয়তঃ মধ্যপ্রাচ্য থেকে অন্য দেশের অভ্যন্তরিন বিষয়ে হস্তক্ষেপকারী দেশের সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীগুলো ভালভাবেই জানে যে, কিভাবে পরস্পরের পাশে শান্তিপূর্ণভাবে থাকা যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরব বর্তমানে আর্থ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে এমন  সংকটেরে মধ্যে রয়েছে যে, যে কোনো সময় তাদের শাসন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়তে পারে। সবচেয়ে বিপদজনক হচ্ছে, এ অঞ্চলে দখলদার ইসরাইলের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সৌদি আরবের প্রধান উদ্দেশ্য। সৌদি কর্মকর্তাদের ধারণা আমেরিকা ও ইসরাইলের সহযোগিতায় এ অঞ্চলের দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা ও হঠকারী পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদেরকে রক্ষা করা যাবে। কিন্তু এটা অলীক স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়।

সৌদি শাসকদের এটা বোঝা উচিত ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অতি সংক্ষেপে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অত্যন্ত তাৎপর্য ও অর্থপূর্ণ। সৌদি আরবের বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে কারো যদি সামান্য বুদ্ধি-বিবেচনা ও সাহসিকতা থেকে থাকে তাহলে তাদের নিজেদের অবস্থান বোঝা উচিত এবং এটাও জেনে রাখা উচিত ইরানে হামলা চালানোর ক্ষমতা আমেরিকা ও ইসরাইলের নেই। এ অবস্থায় সৌদি শাসকরা যদি নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেয় তাহলে তারা এমন চোরাবালিতে আটকা পড়বে যা থেকে উদ্ধারের আর কোনো সুযোগ থাকবে না। #


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

Mourining of Imam Hossein
پیام امام خامنه ای به مسلمانان جهان به مناسبت حج 2016
We are All Zakzaky
telegram