ইরানে সামরিক কুচকাওয়াজে সন্ত্রাসী হামলা: সর্বোচ্চ নেতার প্রতিক্রিয়া

ইরানে সামরিক কুচকাওয়াজে সন্ত্রাসী হামলা: সর্বোচ্চ নেতার প্রতিক্রিয়া

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহওয়াজ শহরে সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুদের বিদ্বেষ, ক্ষোভ ও হতাশার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

আবনা ডেস্কঃ ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহওয়াজ শহরে সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুদের বিদ্বেষ, ক্ষোভ ও হতাশার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
সৌদি আরব ও ব্রিটেনের সমর্থনপুষ্ট 'আল-আহওয়াজিয়া' নামের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গতকাল (শনিবার) এই হামলা চালায় এবং এরই মধ্যে তারা হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। সন্ত্রাসীরা সেনা সদস্য ও উপস্থিত সাধারণ দর্শকদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত ২৫ জন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী শহীদ ও আহতদের পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাদেরকে ধৈর্য ধরার তওফিক দিতে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। সর্বোচ্চ নেতা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উদ্দেশে বলেন, "দ্রুততম সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসীদের সহযোগীদের চিহ্নিত করে আদালতের কাছে সোপর্দ করতে হবে, এটা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দায়িত্ব।" সর্বোচ্চ নেতা বলেন, "যারা নারী-শিশুসহ নিরপরাধ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে তারা হচ্ছে মানবাধিকার রক্ষার মিথ্যা দাবিদারদের লোক এবং ইরানের সামরিক বাহিনী যে জাতীয় ঐক্য ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করছে তা তারা সহ্য করতে পারে না।"
যেকোনো সন্ত্রাসী হামলার পর প্রথমেই যে প্রশ্ন সামনে আসে তা হচ্ছে কে বা কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। নিঃসন্দেহে আহওয়াজ শহরে সামরিক কুচকাওয়াজে যারা হামলা চালিয়েছে তারা এর আগেও আমেরিকা ও এ অঞ্চলের একটি দেশের সমর্থন নিয়ে একই ধরনের হামলা চালিয়েছে। এই সন্ত্রাসীগোষ্ঠী গতবছর ইরাক-ইরান যুদ্ধক্ষেত্র পরিদর্শনকারী 'রহিয়ানে নূর' কাফেলায় হামলা চালিয়েছিল। এ ধরণের ন্যক্কারজনক হামলা এবং আল-আহওয়াজিয়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর একজন মুখপাত্রকে লন্ডনের একটি টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে হামলার দায়িত্ব স্বীকারের অনুমতি দেয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আমেরিকা, সৌদি আরব ও দখলদার ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন নামে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে তুলেছে এবং প্রকাশে ও অপ্রকাশে তাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে এ অঞ্চলে নিজেদের অশুভ লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এই তিন অপশক্তি পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বিপদজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যেমনটি তার বাণীতে বলেছেন, "ইরানে অনিরাপত্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে আমেরিকার নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যের পুতুল সরকারগুলোর ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় আহওয়াজে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের স্বাধীন নীতি ও শক্তিমত্ত্বা ইরানি জাতির প্রতি আমেরিকার বিদ্বেষ ও ক্ষোভের প্রধান কারণ। দায়েশসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইরাক ও সিরিয়ায় পরাজিত হওয়ার পর ইরানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা থেকে বোঝা যায় শত্রুরা এখন ইরানকে টার্গেট করেছে। বর্তমানে যেসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আমেরিকা সমর্থন দিচ্ছে একসময় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তালিকায় তাদের নাম ছিল কিন্তু এখন নেই। এ কারণে মার্কিন মদদপুষ্ট এসব সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।#


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

Arba'een
Mourining of Imam Hossein
Pesan Haji 2018 Ayatullah Al-Udzma Sayid Ali Khamenei
We are All Zakzaky