সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ;

ইয়েমেন, বাহরাইন ও ইরাকে শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রধান বাধা সৌদি আরব

  • News Code : 859386
  • Source : ABNA
Brief

লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান বলেছেন: মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও আমেরিকার এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা হচ্ছে ইরান। এটাই হচ্ছে ইরানের সাথে তাদের প্রধান সমস্যা। এ কারণেই ইরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদেরকে সহযোগিতার উদ্ভট অভিযোগ তুলেছে তারা।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): লেবাননের হিজুবল্লাহ বাহিনী প্রধান গত রোববার (৮ অক্টোবর) লেবাননের নর্থ বুকা অঞ্চলের ‘আল-আইন’ এলাকায় অনুষ্ঠিত ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনের ২ শহীদ ‘আলী হাদি আল-আশিক’ ও ‘মুহাম্মাদ হাসান নাসিরুদ্দীন’-এর শাহাদাতের সপ্তম দিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছেন।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ নিজের বক্তৃতার শুরুতে হিজবুল্লাহর দুই যোদ্ধার পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও অভিনন্দন জানান। এরপর পবিত্র মহররম মাসে শাহাদাত প্রাপ্ত দুই শহীদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন: নাসিরুদ্দীন ২০ বছর বয়সে শহীদ হয়েছেন এবং শৈশব থেকে ধর্মীয় বিষয়াদির প্রতি তার আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মত। শহীদ আলী হাদি আল-আশেক ওরফে ‘হাজ্ব আব্বাস’ সম্পর্কে লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান বলেন, ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবাননকে ১ম বারের মুক্ত করার যুদ্ধে যে সকল কমান্ডার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাদের একজন হাজ্ব আব্বাস। এছাড়া লেবাননের দ্বিতীয় বিজয়েও তিনি হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডারদের একজন ছিলেন।
সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, তাকফিরি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আল-কুসাইরের অভিযান থেকে শুরু করে সাম্প্রতিককালে উরসাল ও আল-কালামুন এলাকার যুদ্ধেও তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল।
লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রধান বলেন: যুদ্ধের ফ্রন্ট লাইনে উপস্থিত থাকাটা হাজ্ব আব্বাসের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি। তিনি যে কোন যুদ্ধের সময় ফ্রন্ট লাইনে যুদ্ধে রত যোদ্ধাদের সাথে যোগ দিতে কখনই পিছুপা হননি।
লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান বলেন, শহীদদের রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন বিজয় অর্জিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতের বিজয়গুলোরও কারণ হবে। তারা সিরিয়ার আল-বাদিয়া -যার মোট আয়তন হাজার হাজার কিলোমিটার- এলাকায় শহীদ হয়েছেন। ডেইর এয-যোর, আল-মায়াদিন ও আল-বুকামাল এবং সিরিয়া-ইরাকের সীমান্ত এ এলাকার অন্তর্ভুক্ত। ঐ এলাকায় সংঘর্ষের বিকল্প ছিল না। দায়েশ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমাদেরকে এ সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিককালে দায়েশ বহু গ্রাম ও শহর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। কারো কারো অভিমত এমন ছিল যে, সিরিয়া ও ইরাক সীমান্ত পর্যন্ত দায়েশকে ধাওয়া করা বন্ধ করা উচিত। কিন্তু এর অর্থ হল, দায়েশ পূনরায় হামলা করবে। কারণ দায়েশের সামনে অন্য কোন টার্গেট নেই। সন্ত্রাসী এ দলের একমাত্র কাজ হচ্ছে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ। যদি সিরিয় বাহিনী ও প্রতিরোধ আন্দোলনের মুজাহিদদের চেষ্টা না থাকতো তবে যুদ্ধের পরিস্থিত অন্য দিকে মোড় নিত।
নাসরুল্লাহ বলেন, কারো কারো মত দায়েশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিপক্ষে এবং এ যুদ্ধকে বিলম্বিত করার পক্ষে; মূলতঃ এটাই মার্কিনীদের চাওয়া।
তিনি বলেন: আমেরিকা কখনই চায় না লেবাননের সীমান্তবর্তী উচঁ স্থানগুলোতে দায়েশ নিশ্চিহ্ন হোক। এ কারণেই তারা সরকার ও লেবানন সেনাবাহিনীর উপর চাপ সৃষ্টি করেছে এবং কিছুদিনের জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি সহযোগিতা প্রেরণও বন্ধ রেখেছে। এটা বুঝতে হবে যে, দায়েশ নির্মূল করার ক্ষেত্রে আমেরিকার কোন তাড়াহুড়ো নেই। কেননা মধ্যপ্রাচ্যের সকল সেনাবাহিনী ও এ অঞ্চলের জনগণকে ধ্বংস করা এবং রক্তপাত ঘটানো ব্যতীত অপর কোন লক্ষ্য তাদের নেই। মার্কিনীরা আশাবাদী, দায়েশকে অবশ্যই এ কর্তব্য যতদিন সম্ভব পালন করতে হবে।
তার সংযোজন, আমরা সৌদি আরব ও আমেরিকার পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি ষড়যন্ত্রের মুখে। ঐ ষড়যন্ত্রের প্রধান অংশ হিসেবে তারা চায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে তাদের টার্গেটে পরিণত করতে। মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও আমেরিকার এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা হচ্ছে ইরান। এটাই হচ্ছে ইরানের সাথে তাদের প্রধান সমস্যা। এ কারণেই ইরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদেরকে সহযোগিতার উদ্ভট অভিযোগ তুলেছে তারা।
লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান বলেন, ইরানকে মোকাবিলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকতে হবে। আর এ বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের উপর প্রভাব ফেলবে। হিজবুল্লাহকে প্রতিরোধ করার বিষয়েও নতুন কিছু কথা উঠেছে। তবে রাশিয়া বিষয়টিকে সমর্থন করেনি।
তিনি বলেন: দায়েশের দীর্ঘায়ু কামনা করে আমেরিকা। যদি ইরাকের সরকার ও জনগণের ভূমিকা না থাকত তবে দায়েশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বহুবছর অব্যাহত থাকত। কারণ দায়েশের মূল এজেন্ডাই ছিল লেবানন, সিরিয়া ও ইরাককে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা এবং এ অঞ্চলের সেনাবাহিনী ও জনগণকে ধ্বংস করা।
সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহর সংযোজন, যা কিছু মধ্যপ্রাচ্যে ঘটছে তা সৌদি আরব ও আমেরিকা কর্তৃক মঞ্চস্থ হচ্ছে। নিঃসন্দেহে তাদের এ পরিকল্পনা ইরাক ও লেবাননে ব্যর্থ হয়েছে এবং সিরিয়াতেও পরাজয়ের মুখোমুখি।
তিনি বলেন, ইরাকে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক অবরোধ আরোপ সৃষ্ট সমস্যা নিরসনে অপারগ’। সামের সুবহান হিজুবল্লাহকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তি হিসেবে জানেন এবং এ কথা স্বীকার করেন যে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুধুমাত্র শক্তিশালী আন্তর্জাতিক জোটের মাধ্যমে ছাড়া কোন অবস্থাতেই সম্ভব নয়।
নাসরুল্লাহ বলেন, সৌদি আরব ইয়েমেনের উপর হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং বাহরাইনে সৈন্য প্রেরণ করেছে। পাশাপাশি তারা ইয়েমেনিদেরকে অভ্যন্তরিনভাবে তাদের নিজেদের মধ্যে সংলাপ এবং বাহরাইনিদের নিজেদের মধ্যে সংলাপে বসতে বাধা দিচ্ছে।
সৌদি আরব যখন হস্তক্ষেপ করা থেকে সরে দাঁড়াবে এবং সন্ত্রাসী দলগুলোর প্রতি সহযোগিতা বন্ধ করবে, তখনই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে আসবে। ইয়েমেন, বাহরাইন ও ইরাকে শান্তি প্রক্রিয়ার প্রধান অন্তরায় হচ্ছে সৌদি আরব। সৌদি আরবের পাশাপাশি ইসরাইলও মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তার পথে অন্যতম প্রধান বাধা।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ তার বক্তব্যের শেষাংশে লেবাননের অভ্যন্তরিন বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন: ‘লেবাননের প্রেসিডেন্ট ‘মিশেল অওন’ হিজবুল্লাহ কর্তৃক ক্ষমতায় বসানো কোন ব্যক্তি নন। কিন্তু যা কিছু আমেরিকাকে নিরাশ করেছে তা হল, তারা এদেশে এমন একজন প্রেসিডেন্ট চায়, যিনি মার্কিন দূতাবাসের সাথে যার জোর সম্পর্ক রক্ষা করে চলবেন। কিন্তু মিশেল অওন লেবাননের অধিকাংশ জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন প্রেসিডেন্ট’।#


সম্পর্কিত প্রবন্ধসমূহ

আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

پیام امام خامنه ای به مسلمانان جهان به مناسبت حج 2016
We are All Zakzaky
telegram