ওয়ালস্ট্রিট আন্দোলন দমনকারী ট্রাম্পের মুখে ইরান নিয়ে বক্তব্য মূল্যহীন

ওয়ালস্ট্রিট আন্দোলন দমনকারী ট্রাম্পের মুখে ইরান নিয়ে বক্তব্য মূল্যহীন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের জনগণের প্রতি তার সমর্থনের দাবি করেছেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইরানভীতি ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তার প্রতিটি পদক্ষেপ ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে যাচ্ছে।

আবনা ডেস্কঃ ইরানে কিছু পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে কয়েকটি শহরে ছোটখাট সমাবেশ হয়েছে। একটি পর্যায়ে প্রতিবাদকারীরা বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে এবং তাদের অনেকে কিছু ভাঙচুর চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের এ ঘটনাকে লুফে নেন এবং টুইটার বার্তায় একাধিকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের জনগণের প্রতি তার সমর্থনের দাবি করেছেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইরানভীতি ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তার প্রতিটি পদক্ষেপ ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, "সরকারিভাবে সন্ত্রাসীদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার ক্ষেত্রে ইরানের অবস্থান এক নম্বরে এবং দেশটির মানবাধিকার লঙ্ঘনের নজির রয়েছে।"
বেশ ক'বছর আগে আমেরিকায় ট্রাম্প বিরোধী ওয়ালস্ট্রিট আন্দোলন হয়। ওই আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য যায়। কিন্তু আন্দোলন অত্যন্ত কঠোরভাবে দমন করে সরকার। ওই ঘটনায় ব্যাপকভাবে সমালোচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন ইরানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের প্রতি সমর্থন দিচ্ছেন যা খুবই হাস্যকর। ২০১১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে আমেরিকায় অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রতিবাদে নিউইয়র্কের ওয়ালস্ট্রিটে সরকার বিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই প্রতিবাদ বিক্ষোভ 'ওয়ালস্ট্রিট দখলকর আন্দোলন' নামে পরিচিত।
এই আন্দোলনকারীদের ওয়েব সাইটে লেখা হয়েছে, "আমরা জনসংখ্যার ৯৯ শতাংশ এবং আমাদের ঘরবাড়ি থেকে আমাদেরকে বের করে দেয়া হয়েছে, আমরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত, চরম বায়ু দূষণের শিকার, সামান্য বেতনের বিনিময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কঠিন পরিশ্রম করতে হয়, আইনি সহায়তা থেকেও আমরা বঞ্চিত। অথচ আমাদের বিপরীতে মাত্র এক শতাংশ মানুষ সমস্ত সুযোগ সুবিধার অধিকারী।"
আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রাঙ্কলিন ফিশার ওয়ালস্ট্রিট আন্দোলন শুরুর কারণ সম্পর্কে বলেছেন, "অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করায় সাধারণ মানুষ প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিল। অন্যদিকে কংগ্রেসের রিপাবলিকান দলের সদস্যরা যেকোনো প্রতিবাদ আন্দোলন দমনে ছিল দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।"
ওয়ালস্ট্রিট আন্দোলন শুরুর প্রথম থেকেই মার্কিন সরকার একে গুরুত্বহীন ও বিক্ষিপ্ত আন্দোলন হিসাবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং তাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক হামলার দৃশ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অথচ এ ঘটনা যদি অন্য কোনো দেশে ঘটত তাহলে আমেরিকা ও তার মিত্ররা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলত। ইরানের ব্যাপারে আমেরিকা ঠিকই ওই আচরণই করছে যার কোনো মূল্য নেই।
ইরানের জনগণ এটা ভুলে যায়নি যে, মাত্র তিন মাস আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানি জনগণকে সন্ত্রাসী হিসাবে অভিহিত করে তাদেরকে আমেরিকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। #


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

Arba'een
Mourining of Imam Hossein
Pesan Haji 2018 Ayatullah Al-Udzma Sayid Ali Khamenei
We are All Zakzaky