পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখতে পাল্টা যেসব শর্ত দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখতে পাল্টা যেসব শর্ত দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

সর্বোচ্চ নেতা তার বক্তব্যে আমেরিকাবিহীন পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা তুলে ধরেন।

আবনা ডেস্কঃ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এ বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেছেন, সচেতন ও বাস্তবতার আলোকে বিষয়টি নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত যা হয়তো প্রতিপক্ষের জন্য সুখকর নাও হতে পারে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেছেন।
সর্বোচ্চ নেতা তার বক্তব্যে আমেরিকাবিহীন পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, আমেরিকার চাপ ও ষড়যন্ত্র সত্বেও ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে ইউরোপীয় সরকারগুলোকে নিশ্চয়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তৎপরতার বিষয়ে নাক না গলানোর জন্য ইউরোপের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আমেরিকার পক্ষ থেকে বারবার পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনের ব্যাপারে ইউরোপের উদাসীনতা ও নিষ্ক্রিয়তার ফলে যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে দেয়ার জন্য ইউরোপকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেছেন, ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্সকে অবশ্যই এ নিশ্চয়তা দিতে হবে যে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তৎপরতার বিষয়ে টুশব্দটিও করবে না। এ দু'টি বিষয় ছাড়াও পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখতে হলে ইরানের কাছ থেকে তেল কেনার নিশ্চয়তা বিধান, সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্য ও অর্থ লেনদেনে ইরানের সঙ্গে ইউরোপের ব্যাংকগুলোর সহযোগিতা বজায় রাখা এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইউরোপকে শক্ত ও স্পষ্ট অবস্থান নেয়া-এই তিনটি শর্ত জুড়ে দেন আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার বক্তব্যে চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবশিষ্ট পাঁচটি দেশ বিশেষ করে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে সরকারের আলোচনার জন্য রোডম্যাপ নির্ধারণ করে দিয়েছেন যাতে স্বল্প সময়ের মধ্যে এটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আমেরিকাবিহীন পরমাণু সমঝোতায় ইরানের জনগণের স্বার্থ বজায় থাকবে কি থাকবে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বিষয়টি এ জন্য গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন এবং ইউরোপের কাছ থেক পাকাপাকি নিশ্চয়তা চাইছেন যে, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে পরমাণু বিষয়ে ইরানের সঙ্গে ইউরোপের আচরণ সুখকর ছিল না। এমনকি পরমাণু সমঝোতার পর আমেরিকা বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলেও তার বিরুদ্ধে ইউরোপ কোনো অবস্থান নেয়নি। ব্রিটেনও ইরানের কাছে ইয়েলো কেক বিক্রির পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে ফ্রান্সের টোটালসহ ইউরোপের বড় বড় কোম্পানি ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি আমেরিকা নতুন করে যে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে তার বিরুদ্ধেও ইউরোপ শক্ত কোনো অবস্থান না নেয়ায় ইরান বিষয়টি হাল্কাভাবে দেখতে পারেনা।
ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ইউরোপ সবসময়ই আমেরিকার স্বার্থে কাজ করেছে। এ কারণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, পাশ্চাত্যের ওপর ভর করে ইরানের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। #


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

Arba'een
Mourining of Imam Hossein
Pesan Haji 2018 Ayatullah Al-Udzma Sayid Ali Khamenei
We are All Zakzaky