পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৮

পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৮

আগামী ২৫ জুলাই পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখেই জঙ্গিরা এ হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণ করা হচ্ছে।

আবনা ডেস্কঃ : পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে নির্বাচনী সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৮ জন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মাস্তুং শহরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএস এ হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
আগামী ২৫ জুলাই পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখেই জঙ্গিরা এ হামলা চালায়।
নিহতদের মধ্যে স্থানীয় বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টির প্রার্থী সিরাজ রাইসানি আছেন। তিনি প্রাদেশিক পার্লামেন্টের সদস্য পদে লড়ছিলেন। তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নবাব আসলাম রাইসানির ভাই।
প্রাদেশিক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফায়েজ কাকার জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকালে বেলুচিস্তানের মাসতাং শহরে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। সিরাজ রাইসানিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। বেলুচিস্তান সিভিল ডিফেন্স ডিরেক্টর আসলাম তারিন নিশ্চিত করেছেন, হামলাটি আত্মঘাতী বোমা হামলা ছিল। এতে প্রায় ১০ কেজির মতো বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে।
হাসপাতালের কর্মকর্তা আলী মারদান বলেন, কুয়েত্তার প্রধান বেসামরিক হাসপাতালে কমপক্ষে ৭৩টি লাশ আনা হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তা কাইম লাশারি বলেছেন, মাসতাঙয়ের নওয়াব গাউস বকশ হাসপাতালে আরও ৩৭টি লাশ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কুয়েত্তার বোলান মেডিক্যাল কমপ্লেক্সে ১২টি ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে একটি লাশ রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
নিহত সিরাজ রাইসানি বেলুচিস্তান মুত্তাহিদা মাহাজের (বিএমএম) প্রধান ছিলেন। পরে তার রাজনৈতিক দল নবগঠিত বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টির সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়। তিনি পিবি-৩৫ (মাসতাং) আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে তার বড় ভাই নবাব আসলাম রাইসানির বিরুদ্ধেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল সিরাজ রাইসানির। আসলাম রাইসানি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ২০১১ সালেও একবার সিরাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় তার গাড়িতে গ্রেনেড ছোড়া হয়। হামলায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার কিশোর ছেলে নিহত হয়।
নির্বাচনী প্রচারে মুখর পাকিস্তানে একই দিনে আরও একটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী আকরাম খান দুররানিকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে দুররানির প্রাণ রক্ষা পেলেও ৪ জন নিহত হয়েছে।
আইএস জঙ্গিরা তাদের সংবাদমাধ্যমে এ হামলা দায় স্বীকার করেছে। এর আগে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলে আইএস জঙ্গিরা বেশ কিছু হামলা চালায়।
২০১৪ সালে পেশোয়ারের স্কুলে হামলায় ১৪১ জন নিহত হয়, যার মধ্যে ১৩২ জনই শিশু ছিল। সেই ঘটনার পর গতকালের আত্মঘাতী হামলা সবচেয়ে ভয়াবহ।
এদিন এর কিছুক্ষণ আগেই বান্নু এলাকায় আরেক প্রার্থীর প্রচারে বহরে হামলার ঘটনা ঘটে।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ লন্ডন পাকিস্তানে ফিরেছেন। ফেরামাত্র তাদের বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে কারাগারে নেওয়া হয়। দুর্নীতি মামলায় নওয়াজ শরিফের ১০ ও মরিয়মের ৭ বছর কারাদণ্ড হয়েছে।


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

Arba'een
Mourining of Imam Hossein
Pesan Haji 2018 Ayatullah Al-Udzma Sayid Ali Khamenei
We are All Zakzaky