"ভুলে যাওয়া এক মহিয়সীর কথা "

লেখাটি ৪/৫ বছর আগে বার্তা সংস্থা আবনাতে প্রকাশিত হয়েছিল। হযরত ফাতেমা যাহরা (স.) এর শাহাদাত বার্ষিকীর স্মরণে লেখাটি পাঠকদের জন্য পূণঃপ্রকাশ করা হল।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (আ.)-এর আগমনের পর পৃথিবীতে অসংখ্য মহিয়সী নারীর আগমন ঘটেছে। যাদের কারো কারো সৎকর্মের পাল্লা এতটাই ভারী ছিল, যারা মহান আল্লাহর এতটাই অনুগত ছিলেন যে, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ পৃথিবীতেই তাঁদেরকে বেহেশতের সুসংবাদ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন হযরত মারইয়াম (আঃ) এবং হযরত আসিয়া...।

কিন্তু এমন এক ব্যক্তিত্বের নাম আমরা ভুলে গেছি যাকে মহান আল্লাহ বেহেশতের সুসংবাদের চেয়েও উর্ধ্বে, বেহেশতে প্রবেশকারী সকল নারীর সম্রাজ্ঞী হিসেবে সুসংবাদ দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, তাঁর জীবন বৃত্তান্ত নিয়ে মোটেও আমরা ভাবি না। মহানবী (সাঃ) এর ওফাতের পর যে ক’দিন বেঁচেছিলেন সে দিনগুলো কিভাবে কেটেছে তা নিয়ে আলোচনা করতে আমাদের কার্পণ্য রয়েছে।

আমরা আদৌ কোনদিন জানতে চেষ্টা করেছি যে, তিনি কিভাবে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছিলেন? তাঁর পিতা আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর ওফাতের পর তিনি কতদিন বেঁচে ছিলেন- এ প্রশ্ন হয়ত বা আমাদের দেশের ৯৯% যুবক/যুবতীদের মনে জাগেই না। কেননা, পিতার ইন্তিকালের পর হযরত ফাতেমা যাহরা (আঃ) এর উপর যে মুসিবত আরোপিত হয়েছিল আমাদের সমাজে আজও সে কথা উত্থাপন করা হয় না। অন্য ভাষায় বলতে গেলে এ বিষয়টি ইচ্ছা করেই আলোচনা করা হয় না। এর নেপথ্য কারণগুলো কি খুঁজে বের করা জরুরী নয়?

পাঠক সমাজ যে ধর্মপ্রাণ তা অস্বীকার করার অবকাশ নেই। নবী করিম (সাঃ)-এর কন্যা হযরত ফাতেমা সম্পর্কে অধিক গবেষণা করা জরুরি, কারণ তার মৃত্যুর সাথে সম্পৃক্ত অনেক ঘটনাই যে, ইসলামের জন্য কাদের দরদ রয়েছে আর কাদের নেই সেটার পার্থক্য গড়ে দেয়।

ফাতেমা (আঃ) এর জীবনী সম্পর্কে যারা পরিচিতি লাভ করতে সক্ষম হবেন তারা রাসুল (সাঃ) এর ওফাতের পর মুসলমানদের মাঝে সৃষ্ট বিভেদের মূল কারণ উদ্ঘাটনে সক্ষম হবেন। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ লেখা নানান বিষয়ে বিভিন্ন সাইটে আপলোড করা হলেও এ বিষয়টি নিয়ে আমি খুবই কম লেখা পেয়েছি। আজ অনেক দিন পর তাঁর কথা স্মরণ করে মনটা দুঃখে ভরে এল। রাসুল (সাঃ) এর ইন্তেকাল ও দাফনের পরপরই পর শত্রুর আঘাতে তাঁর গর্বে থাকা সন্তান হারান -যার নাম ছিল ‘মুহসিন’- এবং মাত্র ৯৫ দিনের মাথায় বেহেশতের যুবতীদের সম্রাজ্ঞী মহিয়সী হযরত ফাতেমা যাহরা (আঃ) ভাঙ্গা পাঁজড় নিয়ে এ দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। তিনি তাঁর জানাযাতে মুষ্টিমেয় কিছু সাহাবী ব্যতীত অপর কাউকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেননি।এমনকি তৎকালীন সময়ের খলিফাও তাঁর জানাযায় উপস্থিত হওয়ার অনুমতি পাননি। কেননা, তিনি তাদের উপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। আর বিদায়ের আগে হযরত আলী (আঃ)কে দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে ওসিয়ত করেছিলেনঃ “হে আলী আমাকে রাতের আঁধারে গোসল দিও, রাতের আঁধারে কাফন পরিয়ো এবং রাতের আঁধারে দাফন করো।” আর তাই তো আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবিতালিব (আঃ), ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন (আঃ) (হযরত ফাতেমার দুই সন্তান ও বেহেশতের যুবকদের সম্রাট), সালমান ফারসী (রাঃ), হুযাইফা ইয়েমেনী (রাঃ), মেকদাদ (রাঃ) প্রমুখ (যারা রাসুল (সাঃ) এর অতি ঘনিষ্ঠ সাহাবী হওয়া সত্ত্বেও হযরত আলী (আঃ) এর সমর্থন করায় তাদের সম্পর্কেও আলোচনা করা হয় না এবং রাসুল (সাঃ) এর ওফাতের পর তাদের উপর যে সকল বিপর্যয় নেমে এসেছিল সে সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে অবগত করা হয় না।) ব্যতীত আর কউকে এ জানাযার নামাযে অংশগ্রহণের জন্য খবর দেয়া হয়নি এবং ওসিয়ত মোতাবেক রাতের আঁধারেই তাঁকে দাফন করা হয়েছিল। আর তাই তো আজও তাঁর মাজারের চিহ্নটুকু আমাদের জানা নেই।

হ্যাঁ, প্রিয় পাঠক আজ সেই মহিয়সীর শাহাদাত বার্ষিকী। আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা)-এর পক্ষ থেকে এ বেদনাময় দিবসে সকলকে জানাই শোক ও সমবেদনা।


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

conference-abu-talib
We are All Zakzaky