রুশ বিষয়ে ফ্লিনের সাক্ষ্য: ট্রাম্প কি পদচ্যুত হবেন ?

রুশ বিষয়ে ফ্লিনের সাক্ষ্য: ট্রাম্প কি পদচ্যুত হবেন ?

গত বছরের মার্কিন নির্বাচনে কথিত রুশ হস্তক্ষেপের সম্ভাবনার বিষয়ে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এফ বি আই-এর তদন্ত প্রক্রিয়া আবারও জোরদার হতে পারে।

আবনা ডেস্কঃ গত বছরের মার্কিন নির্বাচনে কথিত রুশ হস্তক্ষেপের সম্ভাবনার বিষয়ে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এফ বি আই-এর তদন্ত প্রক্রিয়া আবারও জোরদার হতে পারে।
এর কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন এফ বি আই-এর তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছেন। আর তা ঘটলে নির্বাচনে বিজয় নিয়ে আবারও সরাসরি বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জের শিকার হয়ে পদচ্যুত হতে পারেন ট্রাম্প।
মাইকেল ফ্লিন ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে ট্রাম্পের প্রথম উপদেষ্টা। তিনি মাত্র ১৭ দিন এই পদে থাকতে পেরেছিলেন। ফ্লিন স্বীকার করেছেন যে নব-নির্বাচিত ট্রাম্পের নির্দেশেই তিনি ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাশিয়ার তৎকালীন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন যদিও তখনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে বহাল ছিলেন বারাক ওবামা।
তদন্তে দেখা গেছে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যেদিন রাশিয়ার ওপর নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবে সই করছিলেন সেদিনই ফ্লিন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাশিয়ার তৎকালীন রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলায়েক-কে বলেন যে নতুন মার্কিন সরকার এইসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। আর মস্কো যেন ওয়াশিংটনের এইসব পদক্ষেপে প্রতিক্রিয়া না দেখায় সেই অনুরোধও তিনি জানিয়েছিলেন সের্গেই কিসলায়েক-কে। মস্কো তার এই অনুরোধকে মেনে নেয় এবং ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ছয় মাস পর্যন্ত রাশিয়া মার্কিন ওই নিষেধাজ্ঞাগুলোর জবাবে কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়নি।
আমেরিকার সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তির ফলে কথিত রাশিয়া-ট্রাম্প সহযোগিতা বিষয়ে অনেক রহস্য বা অস্পষ্টতা দূর হল। এর আগে এটা স্পষ্ট ছিল না যে কার পরামর্শে ফ্লিন রুশদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
এতদিন পর্যন্ত ট্রাম্প বলে আসছিলেন যে রুশদের সঙ্গে মাইকেল ফ্লিনসহ তার ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তি ও এমনকি তার বড় ছেলে জুনিয়র ডোনাল্ডের যোগাযোগ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। কিন্তু এখন যদি ফ্লিন আদালতে এ সাক্ষ্য দেন যে রুশদের সঙ্গে যোগাযোগের ঘটনা সরাসরি ট্রাম্পের নির্দেশে কিংবা তার মেয়ের জামাই জেরার্ড কুশনারের মধ্যস্থতায় ঘটেছে তাহলে সম্ভবত মিথ্যাচার ও আদালতকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠতে পারে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে।
ট্রাম্প যেভাবে এফবিআইএর প্রধানের পদ থেকে জেমস কোমিকে পদচ্যুত করেছেন তা এবং ফ্লিনের বিষয়ে তদন্তে ট্রাম্পের বিরোধিতার কথা কোমি'র মাধ্যমে ফাঁস হওয়ার বিষয়গুলোও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলায় বাড়তি অভিযোগ হিসেবে যুক্ত হবে।
অবশ্য হোয়াইট হাউজ অনেক আগ থেকেই ফ্লিনের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার চেষ্টা চালিয়েছে। আর এ জন্যই নাকি আইনি লড়াইয়ের জন্য জরুরি বিপুল অর্থ সহায়তার যে আবেদন ফ্লিন জানিয়েছিলেন তা মেনে নেননি ট্রাম্পের আইনজীবীরা। এ অবস্থায় ফ্লিন 'ট্রাম্প-রাশিয়া' শীর্ষক মামলার তদন্তকারী রবার্ট মুলারের সঙ্গে এ সমঝোতা করেছেন যে শাস্তি কমিয়ে দেয়ার বিনিময়ে ফ্লিন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন। তাই প্রথম সুযোগেই ফ্লিন দাবি করেছেন যে রাশিয়ার সঙ্গে গোপন আলোচনার নির্দেশটি ট্রাম্প নিজেই সরাসরি দিয়েছিলেন। আর আরও বেশি জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ফ্লিনের মুখ থেকে হয়তো ফাঁস হবে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার টিম ও তার শীর্ষস্থানীয় সহকারীদের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগের বিস্তারিত বিবরণ!
এরিমধ্যে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্ন-কক্ষ বা প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যালঘু ডেমোক্রেট সদস্যদের নেতা ন্যান্সি পেলোসি ফ্লিনের স্বীকারোক্তি সম্পর্কে বলেছেন: রাশিয়া বিষয়ে ফ্লিনের বিরুদ্ধে ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাছে মিথ্যাচারের অভিযোগ মার্কিন ইতিহাসের একটি অন্ধকার অধ্যায়।
নানা সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে ৪৫ তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩৭ তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের পরিণতি ভোগ করতে পারেন। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর নিক্সন ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। মিথ্যাচার ও আদালতকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে ট্রাম্প অনাস্থা ও পদচ্যুতির শিকার হন কিনা সেটা দেখার জন্য আমাদেরকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। #


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

Mourining of Imam Hossein
Pesan Haji 2018 Ayatullah Al-Udzma Sayid Ali Khamenei
We are All Zakzaky