সাদ হারিরির পদত্যাগের বিষয়ে হাসান নাসরুল্লাহ’র বিশ্লেষণ

  • News Code : 866434
  • Source : ABNA
Brief

রিয়াদ কর্তৃক সাদ আল-হারিরিকে আটকে রাখার কথা উল্লেখ করে লেবাননের হিজবুল্লাহ’র মহাসচিব বলেছেন: নতুন একজন প্রধানমন্ত্রীকে লেবাননের উপর চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে সৌদি আরব।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইমাম হুসাইন (আ.) এর চেহলুম এবং হিজবুল্লাহ’র শহীদ দিবস উপলক্ষে বৈরুতের ‘শাহেদ’ সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে বক্তব্য রেখেছেন লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ।
সাদ হারিরির আকস্মিক পদত্যাগের পর এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনি দ্বিতীয়বারের মত বক্তব্য রাখলেন।
হিজবুল্লাহ প্রধান তার বক্তব্যের শুরুতে শহীদ আহমাদ কায়সারের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলেন: শহীদ আহমাদ কায়সার প্রতিরোধ আন্দোলনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন।
এরপর ইমাম হুসাইন (আ.) এর চল্লিশার অনুষ্ঠানের পদযাত্রার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন: বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত জায়েরদের (জেয়ারতকারী) সংখ্যা ২ কোটিতে পৌঁছেছে এবং শুধু ইরান থেকে ২০ লক্ষাধিক জায়ের এ শোক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন।
আরবাইন তথা চেহলুমের সমাবেশকে ইতিহাসে নজীরবিহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন: মহান আল্লাহ্, শাহাদত প্রদানের মাধ্যমে ইমাম হুসাইন (আ.) কে এ মহত্ব দান করেছেন যে, কোটি কোটি জায়ের স্বপরিবারে পায়ে হেটে, পথের শত প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে এ পদযাত্রায় অংশগ্রহণ নেয়।
হিজবুল্লাহর মহাসচিবের সংযোজন: শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আমাদের দখল হয়ে যাওয়া মাটি এবং বন্দীদেরকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। পাশাপাশি ইসরাইলের সকল ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করতে পেরেছি। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে আমরা আমাদের বন্দীদেরকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে ২০০০ ও ২০১৭ সালে নিজেদের দখল হয়ে যাওয়া ভূখণ্ড এবং বন্দীদেরকে মুক্ত করতে পেরেছি। ইসরাইলের হুমকিকে প্রতিহত করার মত সক্ষমতা আমরা দেশের অভ্যন্তরে সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছি। পাশাপাশি দেশে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা এবং দায়েশকে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জাতিসমূহের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নীলনকশা বাস্তবায়নের পথে আমরা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছি এবং এ ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়েছি।
নাসরুল্লাহ বলেন: বর্তমান সময়ে আমরা দায়েশের উপর বিজয়ের শেষ ধাপগুলো অতিক্রম করছি। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরাক ও সিরিয়া থেকে দায়েশকে আমরা ধ্বংস করতে সক্ষম হব (ইনশা আল্লাহ্)। বর্তমানে দায়েশ তার শেষ নিঃশ্বাসগুলো নিচ্ছে। আল-বুকামালে এবং এর আগে সমগ্র সিরিয়াতে যে সাফল্য সিরিয় সৈন্যরা পেয়েছে তার বদৌলতে সিরিয় ও ইরাকি সৈন্যরা নিজ নিজ সীমান্তে পরস্পরের সাথে মিলিত হতে যাচ্ছে; এর থেকে স্পষ্ট হয় যে, দায়েশের দিন ঘনিয়ে এসেছে।
শহীদদের রক্তের বরকতে আজ লেবাননে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিরাজমান এবং আমরা সম্মান ও গৌরবের জীবন-যাপন করছি –এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন: শহীদদের আত্মত্যাগ কোন দল, গোত্র, মাযহাব বা নির্দিষ্ট এলাকার জন্য নয় বরং সকল লেবানিজদের জন্যই। যাতে ফিলিস্তিন দখলকারী ইসরাইলের পক্ষ থেকে যে হুমকি লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রতি দৃশ্যমান তা থেকে লেবানন ও এদেশের জনগণ সুরক্ষিত থাকে।
সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন: গত সপ্তাহ থেকে লেবানন নতুন একটি রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। লেবানন বর্তমানে সম্পূর্ণ নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ এক সময় পার করছে।
তার সংযোজন: বিগত একবছর লেবানন রাজনৈতিক স্থিতিশীল অবস্থার মধ্য দিয়ে পার করেছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিত ছিল কাঙ্খিত। দেশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন, নিজের কাজ সযত্নে শুরু করলেন, সংসদও সক্রিয় হল। নির্বাচন সংক্রান্ত নীতিমালা ও বাজেট পাশ হল, নিরাপত্তা ও সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন অফিস ও আদালতে জনবল নিয়োগ প্রদানের প্রক্রিয়াও শুরু হল। বহুবছর শত্রুতার ইতি টেনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপও অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশে এমন নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিরাজমান ছিল যা বর্তমান বিশ্বে নজীরবিহীন। এর আগেও আমি ইঙ্গিত করেছি যে, লেবানন ছিল আমেরিকার চেয়ে নিরাপদ; ঐদিন থেকে আজ পর্যন্ত আমেরিকাতে যা কিছু ঘটেছে তা এ কথার প্রতি নির্দেশক।
লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রধান বলেন: যখন আমরা অত্যন্ত সুন্দর ও কাঙ্খিত সময় অতিক্রম করছিলাম, যখন রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পারিক সমঝোতার পর্যায় ছিল অনেক উঁচুতে; তখন সৌদি আরব লেবাননের সরকার প্রধানকে তড়িঘড়ি করে ডেকে পাঠায় ও তাকে পদত্যাগে বাধ্য করে এবং এমন একটি বিবৃতিতে পড়তে তাকে বাধ্য করে যা স্বয়ং সৌদি আরব তার জন্য প্রস্তুত করেছিল। আর এ ঘটনার মধ্য দিয়ে লেবানন নতুন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।
সৌদি আরবে পদত্যাগের ঘোষণা দানকারী লেবানিজ প্রধানমন্ত্রীর অস্পষ্ট ভবিষ্যতের প্রতি ইঙ্গিত করে হিজুবল্লাহর মহাসচিব বলেন: তাকে সৌদি আরবে আটকে রাখা হয়েছে এবং তাকে লেবাননে ফিরতে দেয়া হচ্ছে না।
লেবাননের অভ্যন্তরিন বিষয়ে সৌদি আরবের এ হস্তক্ষেপকে অভূতপূর্ব বলে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন: লেবাননের প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা আল-মুস্তাকবাল মুভমেন্টের সাথে এককণ্ঠে বলতে চাই ‘সাদ হারিরিকে লেবাননে ফিরে আসতে হবে’।
সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন: বিশ্লেষণ বশতঃ আমি এ কথা বলছি না, বরং আমার কাছে এমন তথ্য রয়েছে যার ভিত্তিতে বলছি যে, লেবাননে হামলার জন্য ইসরাইলের প্রতি আহবান জানিয়েছে সৌদি আরব। জায়নবাদীরা এখন বিষয়টি বিবেচনা ও বিশ্লেষণ করে দেখছে।
তিনি বলেন: তাদের বিশ্বাস যে, তারা লেবাননের উপর নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী চাপিয়ে দিতে পারবেন। এর আগেও তারা লেবানিজদরকে পরস্পরের প্রতি উস্কে দেয়ার চেষ্টা করেছে। তারা তাদের কাঙ্খিত ফলাফলে পৌঁছুতে ব্যর্থ হয়ে আরব ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে উস্কানী দিয়েছে যাতে তারা লেবাননের উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং লেবানিজদেরকে নিজ নিজ দেশ থেকে বহিস্কার করে।
তার সংযোজন: এটা স্পষ্ট যে, লেবাননের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। এ বিষয়টি বুঝতে আমাদের বাকি নেই যে, হিজবুল্লাহ ও সৌদি আরবের মাঝে সমস্যা রয়েছে। আমরা এটাকে অস্বীকারও করিনা। কিন্তু এটা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হুমকি, নাকি লেবাননের বিরুদ্ধে?
মধ্যপ্রাচ্যে ঘটমান ঘটনাবলী থেকে শিক্ষা নেয়ার প্রতি আহবান জানিয়ে নাসরুল্লাহ বলেন: ‘আম্মানে’ থেকে সৌদি প্রিন্সরা সিরিয়া সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করে সিরিয়াকে ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছে। আজ ঐ সকল প্রিন্সরা কোথায়?
আমরা লেবাননের অভ্যন্তরিন বিষয়ে সৌদি আরবের প্রকাশ্য হস্তক্ষেপের নিন্দা জানাই। সাদ হারিরির সাথে এ ধরনের অবমাননাকর আচরণের আমরা নিন্দা জানাই। লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অবমাননার অর্থ হচ্ছে লেবাননের সকল জনগণের প্রতি অবমাননা। পদত্যাগের ঘোষণাকে আমরা অবৈধ এবং দেশের সংবিধান পরিপন্থী বলে মনে করি। কেননা এটা জোরপূর্বক সংঘটিত হয়েছে। বর্তমান সরকার লেবাননের বৈধ সরকার। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্ববহ একটি বিষয়। কিন্তু সৌদি আরব এটাকে ধ্বংস করে দিতে চায়; যাতে আপনাদের ঘরবাড়িগুলোকে ধ্বংস করতে পারে, সেটাও আবার আপনাদের নিজেদের হাত দিয়েই। এমন কাজ কি আপনারা করবেন?
তার সংযোজন: লেবাননের প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরবে আটকে রাখা হয়েছে, তাকে মুক্তি দিতে হবে। লেবানিজদের উচিত তাকে ফিরিয়ে আনতে সোচ্চার হওয়া। এ পদত্যাগ গ্রহণযোগ্য নয়, এটা অবৈধ এবং বাধ্যতামূলকভাবে এ কাজ করানো হয়েছে, এটাকে আমরা মানি না। কারণ বর্তমান সরকার বৈধ এবং সংবিধান মেনে গঠিত হয়েছে। এটা ঠিক যে, সরকার এখন অধিবেশন বসাতে সক্ষম নয়, কিন্তু সরকার ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ায়নি এবং এক্ষেত্রে নতুন কোন চিন্তাও গ্রহণযোগ্য নয়। শত্রুরা ও ষড়যন্ত্রকারীরাই এমন আকাঙ্খা করে। হারিরি ফিরে আসুক তারপর তার পদত্যাগ গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন: লেবানিজ প্রেসিডেন্ট মিশেল অওন অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে এ রাজনৈতিক সংকটের মোকাবিলা করছেন। মিশেল অওন এ সংকটকে অত্যন্ত প্রজ্ঞার সাথে নিয়ন্ত্রণ করে শত্রুদের ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করেছেন এবং এর মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। যারা এ নীলনকশার সাথে জড়িত, তাদেরকে নিজেদের হিসাবের বিষয়ে পূণর্বিবেচনা করা উচিত, কেননা তারা চরম ভুলের মাঝে রয়েছেন। লেবাননের জনগণের মধ্যকার ঐক্য একটি মৌলিক বিষয়।
নাসরুল্লাহ বলেন: হারিরিকে হত্যার বিষয়ে আল-আরাবিয়া চ্যানেল উদ্ভট অভিযোগ তুলেছে, অথচ নিরাপত্তা বিভাগ এ বিষয়টিকে নাকচ করে দিয়েছে। এরপরও আল-আরাবিয়া এ অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে। যারা হারিরিকে হত্যার ইস্যুটি হাইলাইট করছে তাদের জেনে রাখা উচিত যে, ইসরাইলের যুদ্ধের বিষয়েও বিভিন্ন ধারণা বিদ্যমান। শত্রুরা জানে যে, এ ধরনের যুদ্ধের জন্য মোটা অংকের বাজেট প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সৌদি আরবের চাপও রয়েছে। বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে ইসরাইল লেবাননের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে অথবা লেবাননের অভ্যন্তরে ফেতনা সৃষ্টি করার বিষয়ে তাদের তৎপরতার সম্ভাবনাও ফেলে দেওয়া যায় না।
তিনি বলেন: ইসরাইলের বিষয়টিও দৃষ্টিতে রাখতে হবে। আমরা ইসরাইলের যুদ্ধের বিষয়টিকে বাস্তবতা থেকে দূরে বলে মনে করি। কিন্তু নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ইসরাইল প্রেক্ষাপটে প্রবেশ করেছে এবং হয়তবা অন্য কোন পন্থায় তারা হস্তক্ষেপ করতে পারে; যেগুলোর একটি হচ্ছে, ইসরাইল তার দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যেন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নিজেদের যুদ্ধে তারা সৌদি আরবের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে পরিচয় করায়। নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, এক্ষেত্রে ইসরাইল ও সৌদি আরব একই পথের পথিক।
হিজবুল্লাহর মহাসচিবের সংযোজন: ইসরাইল ফেৎনা সৃষ্টিতে সোচ্চার। গত সপ্তাহে সিরিয়ার দক্ষিনাঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা ঘটেছে। ইসরাইলের সহযোগিতায় সন্ত্রাসীদের একটি দল সিরিয়ার হাদের কুনিয়েত্রা শহরে প্রবেশ করেছে। যেখানের বেশিরভাগ বাসিন্দাই দ্রুজ সম্প্রদায়ের। হাদের অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের পৌঁছুতে ইসরাইল সহযোগিতা করেছে। যদি ঐ এলাকার জনগণ ও সিরিয় বাহিনী সাহসিকতার সাথে তাদের মোকাবিলা না করতো তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারতো। ইসরাইল একই ধরনের পদক্ষেপ লেবাননের বেলাতেও নিতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে যে কোন প্রকার ফায়দা লুটার বিষয়ে ইসরাইলকে সতর্ক করা হচ্ছে, ইসরাইলের এটা ভাবা উচিত হবে না যে, আমরা ভয় পেয়েছি।
ইসরাইলের বিষয়ে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে, অবশ্য স্বয়ং ইসরাইলিরাও এ বিষয়ে সতর্ক এবং এ যুদ্ধের লাভ-ক্ষতির বিষয়ে তারা আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। তারা শুধু নিজেদের স্বার্থের কথাই চিন্তা করে।
তিনি বলেন: সৌদি আরবের সাথে সৃষ্ট সমস্যা থেকে আমরা পলায়ন করবো না। সৌদি আরব সত্যিই ইরানের উপর ক্রোধান্বিত। তাদের কিছুটা রাগ হিজবুল্লাহ’র উপরও রয়েছে। তবে আমরা তাদের ক্রোধের কারণ সম্পর্কে ভালভাবে অবগত। কিন্তু তারা অবমাননকর ভাবে কেন এর প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে তা আমাদের বোধগম্য নয়।
লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান বলেন: ইয়েমেন থেকে হিজবুল্লাহ বাহিনী’র ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি স্বয়ং ইয়েমেনিদের অবমাননা হিসেবে বিবেচিত। ইয়েমেনিরাই ঐ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ইয়েমেনিরা অত্যন্ত দক্ষ হয়ে উঠেছে। যখন হুথিরা যুদ্ধে ব্যবহৃত ড্রোন নির্মাণের বিষয়ে কথা বলে তখন তারা তাদের কথা বিশ্বাস করে না। কিন্তু তাদের উচিত ইয়েমেনিদের এ সক্ষমতাকে মেনে নেয়া। তারা ইয়েমেনিদের সক্ষমতাকে আমলে না নেয়ার ফলেই বর্তমানে এ যুদ্ধে পরাজয়ের মুখোমুখি।
তিনি বলেন: ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলছে তারা। কিন্তু ইরান ও হিজবুল্লাহ ইয়েমেনের কোন স্থানে রয়েছে? ইয়েমেনের জনগণের আত্মত্যাগের ফলেই পরিস্থিতি এ পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা পরাজয় থেকে দূর সরতে এখন ইরান ও হিজবুল্লাহকে দুষছে। সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশ কাতারের মাঝে যা কিছু ঘটেছে সে বিষয়ে আমরা কোন পক্ষের সমর্থন করিনি। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা সকলেই সাক্ষী যে, সৌদি আরব ও তার মিত্ররা পরাজিত হয়েছে।
সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন: বাহরাইনেও তাদের ভুল নীতি ঐ দেশের জনগণের দৃঢ় মনোবলে চীড় ধরাতে পারেনি। দমননীতি অবলম্বনকারী বাহরাইন সরকার বর্তমানে দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
তিনি তার বক্তৃতার শেষে বলেন: সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে তার এতসব পরাজয়কে দেখে লেবাননে এসেছে। লেবাননে সৌদি আরবের প্রভাব ছিল এবং ইরানের প্রভাব রয়েছে; কিন্তু এ দুইয়ের মাঝে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সৌদি আরব লেবাননের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, কিন্তু ইরান তা করে না।#


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

پیام امام خامنه ای به مسلمانان جهان به مناسبت حج 2016
We are All Zakzaky
telegram