‘শতাব্দির সেরা চুক্তি’ নামের প্রতারণা মানবে না ফিলিস্তিনিরা

‘শতাব্দির সেরা চুক্তি’ নামের প্রতারণা মানবে না ফিলিস্তিনিরা

মার্কিন সরকার জাতিসংঘের মাধ্যমে এতদিন ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য যে সাহায্য দিত তা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে এ বিল পাস হয়েছে।

আবনা ডেস্কঃ ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা- পিএলও’র নির্বাহী কমিটির সচিব সায়েব এরিকাত মার্কিন সিনেটে ফিলিস্তিন বিষয়ক একটি প্রস্তাব পাসের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ওই প্রস্তাবে মাত্র ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি শরণার্থীকে স্বীকৃতি দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
মার্কিন সরকার জাতিসংঘের মাধ্যমে এতদিন ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য যে সাহায্য দিত তা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে এ বিল পাস হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫৫ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী বসবাস করছেন। অথচ মার্কিন সিনেট সাহায্য দেয়ার জন্য মাত্র ৪০ হাজার ফিলিস্তিনিকে স্বীকৃতি দিতে চায়। এই বিল পাসের আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে, ফিলিস্তিনিদের জন্য গঠিত সম্ভাব্য রাষ্ট্রে যেন ৫৫ লাখ ফিলিস্তিনি ফিরতে না পারে সেই ব্যবস্থা করা। এখন থেকে আমেরিকা মাত্র ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি শরণার্থীকে ফিলিস্তিনের নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে বাকি নাগরিকদের রাষ্ট্রচ্যুত করতে চায়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফিলিস্তিন সংকট সমাধানের জন্য ‘শতাব্দির সেরা চুক্তি’ নামের যে কথিত শান্তি প্রস্তাব তুলে ধরেছেন সেটি আরো বেশি ভয়ঙ্কর। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মুসলমানদের প্রথম ক্বেবলা সমৃদ্ধ শহর বায়তুল মুকাদ্দাস ইহুদিবাদী ইসরাইলকে দেয়া হবে, ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা তাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে পারবে না এবং জর্দান নদীর পশ্চিম তীরের অনেক সংকীর্ণ এলাকা ও গাজা উপত্যকাকে নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হবে। আমেরিকার এই প্রস্তাব সম্পূর্ণভাবে ইসরাইলের মর্জিমাফিক তৈরি করা হয়েছে যেখানে ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ মোটেই রক্ষিত হয়নি।
ইহুদিবাদী ইসরাইল গত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদেরকে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে দেয়নি। কিন্তু তেল আবিবের এ পদক্ষেপকে সবাই অবৈধ হিসেবে দেখেছে এবং মুসলিম দেশগুলো বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেয়নি। কিন্তু এবার সেই অবৈধ কর্মকে বৈধতা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অথচ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৪ নম্বর প্রস্তাবে সুস্পষ্টভাবে ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের পূর্বপুরুষদের ভিটেমাটিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি তাদেরকে বাস্তুচ্যুত করার জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ফিলিস্তিন সংকট সমাধানের জন্য যেসব কথিত শান্তি পরিকল্পনা উত্থাপন করেছেন সেগুলো ট্রাম্পের বর্তমান পরিকল্পনার চেয়ে অনেক ভালো ছিল। তাই ফিলিস্তিনি জনগণসহ মুসলিম বিশ্ব কখনোই মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথিত ‘শতাব্দির সেরা চুক্তি’ মেনে নেবে না।#


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

Pesan Haji 2018 Ayatullah Al-Udzma Sayid Ali Khamenei
We are All Zakzaky