মাদক দিয়ে শিশু মেরে তাকে আসাদের রাসায়নিক হামলা বলেছে ব্রিটিশ গোষ্ঠী

  • News Code : 823361
  • Source : parstoday
Brief

সুইডেনের একটি দৈনিক জানিয়েছে, ‘সিরিয় শিশুদের ত্রাণ সংস্থা’র নামে সক্রিয় হোয়াইট ক্যাপ বা হোয়াইট হ্যাট নামের একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বাশার আসাদ সরকারের চেহারায় কলঙ্ক লেপন এবং এই সরকারের বিরুদ্ধে ভুয়া রিপোর্ট তৈরির জন্য মাদক-দ্রব্য প্রয়োগ করে নবজাতক ও শিশুদের হত্যার পদক্ষেপ নিয়েছে।

আবনা ডেস্ক: সুইডেনের একটি দৈনিক জানিয়েছে, ‘সিরিয় শিশুদের ত্রাণ সংস্থা’র নামে সক্রিয় হোয়াইট ক্যাপ বা হোয়াইট হ্যাট নামের একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বাশার আসাদ সরকারের চেহারায় কলঙ্ক লেপন এবং এই সরকারের বিরুদ্ধে ভুয়া রিপোর্ট তৈরির জন্য মাদক-দ্রব্য প্রয়োগ করে নবজাতক ও শিশুদের হত্যার পদক্ষেপ নিয়েছে।
দৈনিক আল আহাদ জানিয়েছে, সুইডেনের মানবাধিকার বিষয়ক চিকিৎসকদের সংস্থা (SWEDRHR) হোয়াইট ক্যাপ বা হোয়াইট হ্যাট নামের ওই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রতারণা তুলে ধরেছে। সুইডিশ ওই সংস্থা জানিয়েছে, স্বেচ্ছাসেবী ত্রাণ তৎপরতার ছদ্মাবরণে সক্রিয় সন্ত্রাসী এই গোষ্ঠী সিরিয়ার শিশুদের রক্ষার পরিবর্তে তাদেরকে হত্যা করেছে যাতে এই হত্যাযজ্ঞকে সিরিয় সরকারের কাজ বলে গণমাধ্যমে প্রচার করা যায়।
সুইডিশ বিশেষজ্ঞরা সিরিয় শিশুদের ওপর রাসায়নিক হামলার ছবি হিসেবে প্রচারিত ওইসব ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখেছেন কথিত ত্রাণকর্মীরা বড় বড় সিরিঞ্জ দিয়ে একটি শিশুর হৃদপিণ্ডে অ্যাড্রেনালিন ঢুকিয়ে দিচ্ছে, অথচ রাসায়নিক হামলায় আহত শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসায় তা ব্যবহার করা হয় না। এ ছাড়াও সিরিঞ্জের গোড়ায় চাপ দেয়া হয়নি। অর্থাৎ ওই শিশুকে কোনো ওষুধ দেয়া হচ্ছিল না।
এই ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করে সুইডিশ ডাক্তাররা বলেছেন, সিরিয়ার ওই শিশুদের শরীরে উচ্চ মাত্রার নিষিদ্ধ ড্রাগ বা মাদক দ্রব্য প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং এরই প্রভাবে তারা মারা গেছে। তাদের শরীরে রাসায়নিক গ্যাসের বা বিষক্রিয়ার কোনো ধরনের নিদর্শনই দেখা যায়নি। আসলে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার ও উদ্ধার-তৎপরতার ভিডিও না পাঠিয়ে সন্ত্রাসী ওই গোষ্ঠী শিশুদের ওপর নির্যাতন এবং হত্যাযজ্ঞের ভিডিও সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে পাঠিয়েছে বলে ওই সুইডিশ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
হোয়াইট ক্যাপ বা হোয়াইট হ্যাট বেসামরিক সিরিয় শিশু ও নাগরিকদের রক্ষার জন্য সক্রিয় বলে দাবি করলেও আসলে এই গোষ্ঠীকে চালাচ্ছে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা জেমস লুভমিজারার।
হোয়াইট ক্যাপ বা ‘সাদা টুপি’ নামের এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে তোলা হয় ২০১৩ সালের মার্চ মাসে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-সিক্সের হয়ে এটি সক্রিয় রয়েছে সিরিয়ায়।
জনসেবার ছদ্মাবরণে এই গোষ্ঠী সিরিয়ার বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার-যুদ্ধ চালাচ্ছে।
মার্কিন দৈনিক নিউজউইক জানিয়েছে, ‘হোয়াইট ক্যাপ’ বা হোয়াইট হ্যাট শান্তি ও ত্রাণ তৎপরতার নামে সিরিয়ার আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং জনমতকে আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে।
আর এই তৎপরতার অংশ হিসেবেই ‘সাদা টুপিধারীরা’ নানা ধরনের ভুয়া ও প্রোপ্যাগান্ডার ফিল্ম তৈরি করছে যাতে সিরিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পর্কে বাস্তবতার পুরো উল্টো চিত্র তুলে ধরা যায়।
সাদা টুপিধারীরা এখন তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে আননুসরার সহায়তায় সিরিয়ায় তৎপর রয়েছে এবং বাস্তবে তারা এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীরই সদস্য হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি অস্কার সংস্থা হোয়াইট ক্যাপ বা সাদা টুপি গোষ্ঠীর কথিত প্রামাণ্য ও শর্ট-ফিল্মকে পুরস্কারও দিয়েছে যা মোটেই অপ্রত্যাশিত নয়। এর আগে গত বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে হোয়াইট ক্যাপ গোষ্ঠী নোবেল পুরস্কারের প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল।#


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

پیام امام خامنه ای به مسلمانان جهان به مناسبت حج 2016
We are All Zakzaky
telegram