সৌদি-কাতার সংকট দীর্ঘকাল জিইয়ে রাখতে চায় ট্রাম্প ও পাশ্চাত্য

  • News Code : 842297
  • Source : Parstoday
Brief

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন কাতার ও তার প্রতিবেশী কয়েকটি আরব দেশের বিরোধ নিরসনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি এই আরব দেশগুলো সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফিরে গেছেন।

আবনা ডেস্কঃ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন কাতার ও তার প্রতিবেশী কয়েকটি আরব দেশের বিরোধ নিরসনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি এই আরব দেশগুলো সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফিরে গেছেন।
গত সোমবার কুয়েত সফরের মাধ্যমে টিলারসন মধ্যপ্রাচ্য সফর শুরু করেন। এরপর তিনি সৌদি আরব থেকে আবার কুয়েতে যান।
সৌদি সরকার ও তার কয়েকটি মিত্র সরকারের সঙ্গে কাতারের বিরোধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে কুয়েত।
গত কয়েক দিনে সেই কুয়েত ছাড়াও দু’বার কাতারও সফর করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু বিরোধ নিষ্পত্তিতে সামান্য অগ্রগতিও ঘটেনি।
টিলারসন এই সফরে সন্ত্রাসীদের অর্থের উৎস মোকাবেলার বিষয়ে কাতারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করলেও দোহা বলেছে, এর সঙ্গে সাম্প্রতিক সৌদি-কাতার সংকটের কোনো সম্পর্ক নেই।
অবশ্য এই চুক্তির ফলে দোহা কথিত সন্ত্রাসী বা উগ্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে অর্থ পাঠাতে পারবে না বলে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন। দোহার সঙ্গে ওই চুক্তি স্বাক্ষরের পরই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদিতে যান। সেখানে তিনি কাতারের ওপর অবরোধ আরোপকারী চার আরব সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দেন। দোহার সঙ্গে মার্কিন সরকারের ওই চুক্তির পরও সৌদি সরকার ও তার মিত্ররা কাতারের ব্যাপারে নমনীয় হননি। তারা এই চুক্তিকে অর্থহীন বলে অভিহিত করেছেন।
সৌদি সরকার ও তার তিন আরব মিত্র সরকার চলমান বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কাতারকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক হ্রাস ও তুর্কি সেনা ঘাঁটি বন্ধ করাসহ অবশ্যই ১৩টি শর্ত মানতে হবে বলে জোর দিয়ে আসছে। কিন্তু এই দাবির কাছে নতজানু হচ্ছে না দোহা। কাতার বলছে, এসব শর্ত কাতারের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে সেসব মানা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে মার্কিন সরকারের কর্মকর্তারা কাতার সংকটের বিষয়ে পরস্পর-বিরোধী নানা কথা বলছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, দোহা সন্ত্রাসবাদে সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিভাগ বলছে, সন্ত্রাসবাদে দোহার মদদ দেয়ার কোনো প্রমাণ নেই। সৌদি-কাতার সংকটে টিলারসন যখন নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা দেখানোর চেষ্টা করছেন তখন ট্রাম্প প্রকাশ্যেই সৌদির পক্ষ নিয়েছেন। ট্রাম্পের এই অবস্থা দেখেই সৌদি সরকার ও তার মিত্ররা দোহার ব্যাপারে নমনীয় হচ্ছে না।
মনে হচ্ছে পাশ্চাত্য ও বিশেষ করে ট্রাম্প নিজ স্বার্থেই সৌদি-কাতার সংকটকে দীর্ঘ সময়ের জন্য জিইয়ে রাখতে চায়। কারণ এ ধরনের সংকট মধ্যপ্রাচ্যে তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক স্বার্থসহ নানা ধরনের স্বার্থ, বিশেষভাবে অস্ত্র ব্যবসাটাকে আরও রমরমা করার জন্য সহায়ক।
উল্লেখ্য মিশর, আরব আমিরাত ও বাহরাইন সৌদি সরকারের নেতৃত্বে কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করে এবং এই দেশটির সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে। কিছুকাল আগে সৌদি আরবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সফরের কয়েকদিন পরই এই অবরোধ আরোপ করা হয়। এইসব সরকার বলছে, কাতার সরকার ইসরাইল-বিরোধী হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে সন্ত্রাসবাদে সহায়তা দিচ্ছে।#


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

پیام امام خامنه ای به مسلمانان جهان به مناسبت حج 2016
We are All Zakzaky
telegram