দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের খবর

আফগান-ইরাক যুদ্ধফেরত বৃটিশ সেনাদের মানসিক দুর্ভোগ রেকর্ড পর্যায়ে

  • News Code : 773714
  • Source : Mzamin
Brief

আফগানিস্তান ও ইরাকে যুদ্ধ করা বৃটিশ যোদ্ধাদের মানসিক দুর্ভোগ এখন রেকর্ড পর্যায়ে। তারা মারাত্মক মানসিক ব্যাধিতে ভুগছেন।

আবনা ডেস্ক: আফগানিস্তান ও ইরাকে যুদ্ধ করা বৃটিশ যোদ্ধাদের মানসিক দুর্ভোগ এখন রেকর্ড পর্যায়ে। তারা মারাত্মক মানসিক ব্যাধিতে ভুগছেন। তাই অনলাইন ইন্ডিপেন্ডেন্টে এডাম লুশার লিখেছেন, আমরা এখন আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের প্রকৃত মূল্য দিতে শুরু করেছি। সেনাবাহিনীতে বর্তমানে কর্মরত অথবা সাবেক কর্মকর্তা বা সদস্যদের সরকার মানসিক অসুস্থতার জন্য যে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে তাও পৌঁছেছে রেকর্ড পর্যায়ে।  এসব মানুষকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য গঠন করা হয়েছে আর্মড ফোর্সেস কমপেনসেশন স্কিম। এর বিশ্লেষকরা দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে যে পরিসংখ্যান দেখিয়েছে তাতে দেখা যায়, মানসিক ব্যাধিতে ভোটা এসব সদস্যকে যে ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে তার সংখ্যা বছরে শতকরা ৩৭৯ ভাগ করে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯-২০১০ সালে এর পরিমাণ ছিল ১২১ জন। ২০১৫-১৬ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৫৮০। ১১ বছরে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। কি ধরনের মানসিক ব্যাধিতে তারা আক্রান্ত অথবা তারা আদৌ যুদ্ধে গিয়েছেন কিনা তা পরিষ্কার করে বলা হয় নি। তবে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের পূর্ব সময়ের চেয়ে বেশি। আফগানিস্তান ও ইরাকের যোদ্ধাদের মধ্যে এমন লক্ষণ বেশি এবং তারা সহায়তা চাইছেন। এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হ্েচছ। এডাম লুশার লিখেছেন, আমরা কেবল হিমশৈলের অগ্রভাগ দেখতে পাচ্ছি। এতে আফগানিস্তান ও ইরাকে যোদ্ধারা কি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন সেই ভীতির প্রকাশ পাচ্ছে। বর্ষীয়ান যোদ্ধারা দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেছেন, অদৃশ্য মানসিক ক্ষত নিয়ে যেসব নারী-পুরুষ রয়েছেন তারা এখনও আর্মড ফোর্সেস কমপেনসেশন স্কিমের সহায়তার জন্য লড়াই করছেন। কথা ছিল তাদেরকে এ সংস্থা যথাসম্ভব সহায়তা দেবে। ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধ করেছেন ডিন আপসন (৩৬)। তার দেখা দিয়েছে পোস্ট-ট্রাউমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিটিএসডি)। তিনি বলেছেন, তারা আমার বিষয়ে কোন কেয়ার করে না। সত্য কথা হলো কি, আমরা যুদ্ধ করেছি আমাদের দেশের জন্য। যুদ্ধ বিষয়ক তিনটি সফর করেছি। তার বিনিময়ে কিছুই পাই নি। তিনি রয়েল ইঞ্জিনিয়ারস কোরের সাবেক সদস্য। বলেন, দৃশ্যমান ক্ষতের বিষয়টি তারা আমলে নিচ্ছে না। যদি অঙ্গহানি হয় তাহলে তারা সহায়তা দেবে। কিন্তু ক্ষত যদি অদৃশ্য হয় সেক্ষেত্রে তারা কিছুই দিতে চায় না। তিনি বলেন, অনেক সেনা সদস্য আছেন, যারা কোন পথ না পেয়ে সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করেন। তার মতে, আগামী এক দশকের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে এমন অসুস্থ যোদ্ধাদের একটি জোয়ার শুরু হবে। দাতব্য সংস্থা কমব্যাট স্ট্রেস-এর মেডিকেল সেবা বিভাগের পরিচালক ডা. ওয়াল্টার বুসুত্তিল বলেছেন, মানসিক ব্যাধি এমন একটি বিষয়, যা প্রকাশ পেতে কয়েক বছর সময় লেগে যায়। অনেক সেনা সদস্যের মধ্যে এমন লক্ষণ দেয়া দিতে পারে চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর। আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধফেরত সেনাদের মধ্য থেকে তাই এমন ক্ষতিপূরণ দাবি বৃদ্ধি পেতে পারে। এখন পর্যন্ত এ রকম সেনা সদস্যের যে সংখ্যা পাওয়া গেছে সে সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা কেবল হিমশৈলীর অগ্রভাগ। আমরা এখনও জানি না এই হিমশৈলী কতটা বড়। যদি এটা ছোটখাট হয় তাহলে আমরা খুব, খুব ব্যস্ত হয়ে পড়বো। যদি এটা প্রকা- এক হিমশৈলী বা আইসবার্গ হয় তাহলে আমরা ভয়-অভিভূত হয়ে পড়বো। অল্প কয়েক বছরেই এ সমস্যা দূর হয়ে যাবে না। ইঙ্গিত মিলছে এমন মানুষ সাহায্যের জন্য আসতেই থাকবে। আমি বলবো না যে, এটা কতদিন থাকবে, কি পরিমাণ মানুষ এ সাহায্য নিতে আসবেন। আমি বলছি না যে, এটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিন্তু এ সংখ্যা, প্রবণতা প্রতি বছর বাড়ছে। এ নিয়েই আমি উদ্বিগ্ন। এ জন্য আমাদের তহবিল প্রয়োজন। আমাদের যেকোন দিক থেকে সহায়তা প্রয়োজন। ডাক্তার ওয়াল্টার বুসুত্তিল রয়েল এয়ারফোর্সে কাজ করেছেন ১৬ বছর। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী ও জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগ যুদ্ধের এসব সেনাদের ক্ষত বা সমস্যা সমাধানে চেষ্টা বৃদ্ধি করেছে। বিশেষ করে যারা আগেভাগে সাহায্য চেয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সেবার মান ভাল। কিন্তু এ সেবা যথেষ্ট নয়। সব খানেই বিষেশজ্ঞের সঙ্কট রয়েছে। অনেক চিকিৎসকই সেনাবাহিনীতে কাজ করেন নি। ফলে সামরিক সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের ধারণার অভাব রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ বাস্তবেই গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে আর্মড ফোর্সেস কমপেনশেসন স্কিম পরিচালনা করে ভেটের‌্যানস ইউকে। এর আগে এটা পরিচালনা করতো ওয়ার পেনশসন নামের একটি প্রশাসন। তারপর ২০০৫ সালে এর হাতবদল হয়। তখন থেকেই মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ২৪০০ সদস্যকে সফলতার সঙ্গে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ৩০১৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে তিন বচরে এর অর্ধেক সদস্যকে এ সেবা দেয়া হয়েছে।  এখন ইঙ্গিত মিলছে যে, আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের মানসিক ক্ষতের ভয়াবহতা সবেমাত্র প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। এমন সংখ্যা গত বছরে শতকরা ৩৫ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৪২৯ থেকে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮০।


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

Mourining of Imam Hossein
پیام امام خامنه ای به مسلمانان جهان به مناسبت حج 2016
We are All Zakzaky
telegram