আলোর পথে গ্রিক দ্বীপের শরণার্থী শিশুরা

  • News Code : 787853
  • Source : jjdin
Brief

এসব শরণার্থী শিশুকে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হচ্ছেগ্রিক দ্বীপ কিয়স। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা থেকে পালিয়ে সেখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে বহু মানুষ।

আবনা ডেস্ক: এসব শরণার্থী শিশুকে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হচ্ছেগ্রিক দ্বীপ কিয়স। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা থেকে পালিয়ে সেখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে বহু মানুষ। ফলে সেখানে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি শরণার্থী শিবির। আর শরণার্থী শিশুদের জন্য একটি প্রকল্প চালু হয়েছে সেখানে। এই প্রকল্পের আওতায় শিশুদের নানা রকম শিক্ষা দেয়া হচ্ছে।
যেমন, একটি শরণার্থী শিবিরের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট রোজা। পিঠে ঝোলানো ব্যাগ। আনন্দে লাফাচ্ছে সে। আর বলছে, 'ভালো স্কুল, ভালো স্কুল।' রোজা আসলে সিরিয়া থেকে আসা শরণার্থী। তার মতো আরো কিছু শিশু শরণার্থী এখন স্কুলে যাচ্ছে। ২৭০টি শিশু রয়েছে এই দ্বীপে, যারা ইংরেজি শিখছে। এর পাশাপাশি শিখছে অঙ্ক, শিল্পকলা এবং অন্যান্য শিক্ষা।
একটি সুইস বেসরকারি সংস্থা 'বি অ্যাওয়ার অ্যান্ড শেয়ার' (বিএএএস বা বাস) চলতি বছর মে মাস থেকে শরণার্থী শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। পুরনো একটি রেস্তোরাঁকে বদলে সেখানে স্কুল বানানো হয়েছে। ২০টি শক্তিশালী দল এসব শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের পড়ালেখা শেখানো হচ্ছে এখানে। আর কিশোর-কিশোরীদের জন্য আছে হাতে-কলমে ব্যবহারিক শিক্ষাপদ্ধতি। রান্না থেকে বাজার করা পর্যন্ত_ সবকিছুই শেখানো হয় এই কার্যক্রমে। এছাড়া আছে পরিচ্ছন্নতা শিক্ষাও।
ব্রিটিশ স্বেচ্ছাসেবী নিকোলাস মিলেত বলেন, 'আমাদের কার্যক্রম অন্য আর দশটা সাধারণ স্কুলের মতো নয়। আমাদের পাঠ্যসূচি আছে। তবে আমরা যেসব শিক্ষা দেই, তাতে এসব শিশু এমনটা অনুভব করে, যেন তারা নিজেদের দেশেই আছে।'
'বাস'-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক জার্মান তরুণ জ্যাকব রোহদে জানান, 'এটা ঠিক যে, এসব শিশুর গ্রিসের সাধারণ স্কুলে পড়ালেখা করাটাও জরুরি। কেননা, এতে গ্রিক শিশুদের সঙ্গে মিশে তাদের সমাজ-সংস্কৃতি সম্পর্কে একটা ধারণা পেতে পারে।'
২৮ বছর বয়সী জেনেবা অন্য একটি শরণার্থী শিবিরে থাকেন, এসেছেন মালি থেকে। জেনেবা জানিয়েছেন, তিনি চান, তার শিশু যেন সেরাটা পায়। কারণ, মেয়েটির জন্যই তার এখানে আসা। বড় মেয়েটি যৌনাঙ্গচ্ছেদের পর সংক্রমণে মারা যাওয়ায় এই মেয়েটিকে ঘিরেই তার যত স্বপ্ন। গ্রিসে বর্তমানে ৬০ হাজার শরণার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত দুই হাজারের বয়স ৮ বছরের নিচে।
অন্যদিকে, গ্রিসের শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহ থেকে 'আফটার আওয়ার' ক্লাস শুরু করেছে কেবল শরণার্থীদের জন্য। অর্থাৎ, সাধারণ স্কুলগুলোতে ক্লাস শেষ হওয়ার পর শরণার্থীরা পড়ালেখা করবে। দেশের এমন ২০টি স্কুলে এখন পড়ালেখা করছে ১৫০০ শরণার্থী শিশু।
'শরণার্থী সাপোর্ট নেটওয়ার্ক'-এর সদস্য কাটসিভেলি জানান, শরণার্থী শিশুদের বাসায় বসে কিছু করার থাকে না। এটা তাদের জন্য খুবই খারাপ। কারণ, এখনই তাদের মানসিক বৃদ্ধির সময়। আর সামনেই শীত আসছে। তখন তারা খেলাধুলাও করতে পারবে না। তাই তাদের স্কুলে যাওয়াটা জরুরি। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার এখনই সময়। 'সাপোর্ট নেটওয়ার্ক' এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল।
অক্টোবরের শেষ নাগাদ অন্তত ১০ হাজার শরণার্থী শিশুকে গ্রিসের বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংবাদসূত্র : ডিডাবিস্নউ নিউজ, এএফপি


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

پیام امام خامنه ای به مسلمانان جهان به مناسبت حج 2016
We are All Zakzaky
telegram