আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার বাংলাদেশী সদস্য :

বাংলাদেশের জনগণ, ইরান ও রাহবারকে বিশেষ সম্মানের চোখে দেখে

  • News Code : 275702
  • Source : Abna
আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনা (কোম শাখা) : আহলে বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থার সাধারণ পরিষদের বাংলাদেশী সদস্য হলেন হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সাইয়্যেদ ইবরাহিম খলিল রাজাভী। তিনি বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট আলেম এবং এদেশে আহলে বাইত (আ.) এর অনুসারীদের সুবিধা-অসুবিধা দেখাশুনা করে, পাশাপাশি দীর্ঘদিন যাবত আহলে বাইত (আ.) এর মাযহাবের প্রচারের কাজেও নিয়োজিত। তিনি ৪ বছর পূর্বেও মাজমা (আহলে বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থা) –এর সাধারণ পরিষদের সভায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি মাজমা’র বিভিন্ন কর্মসূচী বিশেষতঃ বার্তা সংস্থা আবনায় বাংলা ভাষার সংযোজনের বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। যা কিছু পড়বেন তা হচ্ছে হুজ্জাতুল ইসলাম রাজাভী কর্তৃক প্রদত্ত বার্তা সংস্থা আবনাকে দেয়া সাক্ষাতকার।

আবনা : আবনা’র সাথে কি আপনি পরিচিত?

-জ্বী, আমি আবনা সম্পর্কে পরিচিত এবং এ বার্তা সংস্থার সাথে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতাও করেছি। বাংলাদেশের শিয়াদের সম্পর্কিত বিভিন্ন খবরাখবর (এ বার্তা সংস্থার জন্য) আমরা প্রেরণ করে থাকি। যদিও এ বিষয়ে আমাদের নিজস্ব ওয়েব সাইট ও পত্রিকাও রয়েছে।

আবনা : বাংলাদেশের শিয়াদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমাদেরকে বলুন?

-আল হামদু লিল্লাহ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) নিরাপত্তার দিক থেকে বাংলাদেশের শিয়াদের কোন সমস্য নেই। যেহেতু বাংলাদেশের সংবিধানে সম্যতা শীর্ষক আইন রয়েছে এবং সকল মাযহাবকে একই দৃষ্টিতে দেখা হয়। এমনভাবে যে, যদি একজন শিয়া সুন্নি হয়ে যায় বা একজন সুন্নি শিয়া মাযহাব গ্রহণ করে তবে আইনী দিক থেকে সে অপরাধী নয়, এদিক থেকে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা তার রয়েছে। সুন্নিরা শিয়াদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে, বিপরীতে শিয়ারা সুন্নিদের সাথে, এদিক থেকেও বাংলাদেশে কোনরকম বাধ্যবাধকতা নেই।

আবনা : বাংলাদেশ সকল মাযহাব কি স্বাধীনভাবে তাবলিগ করতে পারে?

-জ্বী, বাংলাদেশ একটি সেক্যুলার দেশ এবং সব মাযহাবই আইনের গণ্ডিতে থেকে নিজেদের মাযহাবের তাবলিগ ও প্রচার কার্যক্রম চালাতে পারে।

আবনা : বাংলাদেশের জনগণের কত শতাংশ শিয়া মাযহাবের অনুসারী?

-শতাংশে পৌঁছায় না, তবে বর্তমানে বাংলাদেশের শিয়াদের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। বাংলাদেশের জনসংখ্যার তুলনায় এ সংখ্যা অতি নগন্য। কিন্তু শিয়া মাযহাবের অনুসারীরা এদেশে বিশেষ সম্মানের অধিকারী। শিয়াদের সংখ্যা কম হওয়া সত্ত্বেও শিয়ারা দেশে ব্যাপী পরিচিত। উদাহরণ স্বরূপ যদি আপনি বিমানবন্দরে অবতরণের পর শিয়া কোন কেন্দ্রের খোঁজ করেন তবে আপনাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে।

আবনা : বাংলাদেশে আহলে বাইত (আ.) ও শিয়াদের শত্রুদের তত্পরতা সম্পর্কে আমাদেরকে বলুন।

বাংলাদেশে ওয়াহাবীরা, ওয়াহাবী নাম নিয়ে তত্পরতা চালায় না। তার কারণ হচ্ছে আমাদের দেশে সুফি মতবাদে বিশ্বাসীদের সংখ্যা অনেক বেশী। বাংলাদেশ ১২ পীরের দেশ হিসেবে প্রসিদ্ধ। আমাদের দেশেই ১২ জন আওলিয়া ছিলেন যাদের মারফতে বাংলাদেশের মুসলমানরা প্রসার লাভে সক্ষম হয়েছে। এ আওলিয়াগণ আহলে বাইত (আ.) এর অনুসারী ছিলেন। আর আমার গবেষণা অনুযায়ী তাদের কেউ কেউ ১২ ইমামের অনুসারীও ছিলেন। এ কারণেই ওয়াহাবীরা বাংলাদেশে ওয়াহাবীয়্যাতের ব্যানারে তত্পরতা চালাতে পারে না, আর সরকারও এ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক। আর তাই তারা আহলে সুন্নাতের নামে তত্পরতা চালায়। এমনভাবে যে, তারা বিভিন্ন মসজিদকে সুন্দর ও সংস্কার করার কাজে অথবা দান-খয়রাত করার মাধ্যমে প্রবেশ করে, অতঃপর তারা আস্তে আস্তে তাদের তত্পরতাকে আহলে সুন্নাতের নামে শুরু করে। দুঃখজনকভাবে এ বিষয়টি সম্প্রতি শুরু হয়েছে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিয়াদের বিরুদ্ধে তত্পরতাও তারা চালায়।

আবনা : এ ধরণের তত্পরতা বোমা বিস্ফোরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কি তারা পরিচালনা করে?

-প্রথম অবস্থায় তারা একটু উগ্রতা মনোভাব দেখালেও সরকার কঠোরভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় এবং বেশ কয়েকজনকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে যারা হিজবুল মুজাহিদীন নামক একটি সংগঠনের নাম নিয়ে তত্পর ছিল। বাংলাদেশে এদেরকে আহলে হাদীসও বলা হয়, প্রকৃত অর্থে তারা ওয়াহাবীদেরই একটি দল, সশস্ত্র ওয়াহাবীদের।

আবনা : ইরান সম্পর্কে বাংলাদেশের জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি কি?

-আপনারা অবগত যে, অতিতে উপমহাদেশের ভাষা ফারসী ছিল, এ কারণে বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রেই ফার্সী সংস্কৃতি প্রচলিত। যদি আপনি বাংলা ভাষাকে দেখেন তবে বুঝতে পারবেন যে, এর অনেক শব্দই ফার্সী ভাষা হতে এসেছে। উদাহরণ স্বরূপ আমরা ((شهید)) শব্দটিকে বাংলা ভাষায় ‘শহীদ’ই বলে থাকি। এ কারণে বাংলাদেশ ও ইরান এ দু’টি দেশের সংস্কৃতিতে অনেক যৌথ বিষয় রয়েছে। অন্য দিক থেকে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের বিজয়ের পর যারা বাংলাদেশকে একটি ইসলামি দেশে রূপান্তরিত করতে তত্পর ছিল তারা অবাক হয়ে যান যে, কিভাবে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের বিজয় হয়েছে। আমি জামায়াতে ইসলামীর (উচ্চতর সদস্যদের) সাথে কথা বলেছি তারা বলেন যে, দীর্ঘ ৬০ বছর তত্পরতা চালানোর পরও আমরা জাতীয় সংসদে মাত্র ১০টি আসন নিতে সক্ষম হয়েছি, কিন্তু ইমাম খোমেনী (রহ.) কিভাবে বিজয়ী হলেন? আমি তাদেরকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছি। সুতরাং বাংলাদেশের জনগণ ইরানকে বিশেষ সম্মানের চোখে দেখে, বিশেষতঃ ইসলামি বিপ্লবের মহান নেতা ও ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষণ এদেশের জাতীয় দৈনিকসমূহের বিশেষ স্থানে প্রকাশিত হয়।

আবনা : বাংলাদেশের শিয়াদের কোন রাজনৈতিক দল রয়েছে কি না?

-রাজনীতিতে তত্পর এমন কোন দল শিয়াদের নেই। কিন্তু বিভিন্ন সংগঠন রয়েছে যারা মাযহাবী কার্যক্রম পরিচালনা করে।

আবনা : আমরা জানি যে, চার বছর পূর্বে আহলে বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থার সাধারণ পরিষদের সভায় আপনি উপস্থিত ছিলেন, যদি সম্ভব হয় তবে আমাদেরকে বলুন যে, ঐ সময় কি প্রত্যাশা করতেন এবং তার কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে?


Pesan Haji 2018 Ayatullah Al-Udzma Sayid Ali Khamenei
We are All Zakzaky