হিজবুল্লাহর আধ্যাত্মিক পিতা ছিলেন আয়াতুল্লাহ বাহজাত : নাসরুল্লাহ

  • News Code : 745474
  • Source : ABNA
Brief

প্রথম থেকে আমরা ইমাম খোমেনি (রহ.) এর ভক্ত ছিলাম এবং ইসলামি বিপ্লবের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ –এ কথা উল্লেখ করে লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান বলেন, আমাদের ইরান সফরগুলোতে আয়াতুল্লাহ বাহজাতের সাথে সাক্ষাত করা ছিল আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচীর অন্যতম। এ সময় আমরা তার প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ থেকে উপকৃত হতাম।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা –আবনা-:  লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান ‘হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ’ আল-মানার চ্যানেলকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে বিশিষ্ট আরেফ ‘আয়াতুল্লাহ আল-উজমা শেইখ মুহাম্মাদ তাকি বাহজাত (রহ.)’ কে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

শিয়া বিশ্বের জনপ্রিয় মারজা আয়াতুল্লাহ বাহজাতের সাথে তার পরিচয়ের বিষয়ে তিনি বলেন: ১৯৮৫ সালে একটি দলের সাথে আমি ইরান সফরে যাই। ঐ সময় আমার বয়স ছিল ২৫ কি ২৬। ঐ সফরে ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাতে আমরা লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিষয় -বিশেষতঃ প্রতিরোধ আন্দোলনের বিষয়- তুলে ধরছিলাম।

সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন: সেবার আমি হিজবুল্লাহ’র কয়েকজন নেতার সফরসঙ্গি হয়েছিলাম। আমি কোমে যাওয়ার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করলে আমার সফরসঙ্গি কর্মকর্তারা আমাকে কোমে আয়াতুল্লাহ বাহজাতের সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে জোর তাগিদ দিয়েছিলেন। ঐ সময় কোম সম্পর্কে আমাদের ধারণাও ছিল অত্যন্ত কম। আয়াতুল্লাহ বাহজাতের সাথে প্রথম সাক্ষাতের সময় আমি সৈয়দ আব্বাস মুসাভি (রহ.)সহ হিজবুল্লাহ নেতাদের একটি টিমের সাথে ছিলাম। দলের মধ্যে আমি ছিলাম সর্বকনিষ্ট। সাক্ষাত অনুষ্ঠানে আমাদের মাঝ থেকে একজন নৈতিকতা বিষয়ে নির্দেশনা প্রদানের জন্য আয়াতুল্লাহ বাহজাতের কাছে অনুরোধ জানালে জবাবে তিনি বলেছিলেন : জানা বিষয়গুলোর উপর আমল করুন, গুনাহ থেকে দূরে থাকুন, প্রথম সময়ে নামায আদায় করুন, বেশী সংখ্যায় সালাওয়াত (দরুদ) পাঠ করুন এবং বেশী বেশী পরিমাণে ইস্তিগফার করুন।

ইসরাইলের সাথে যুদ্ধরত লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল হিসেবে আমরা তাঁর সাক্ষাতে গিয়েছিলাম। তখন এ বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলাম যে, ইসলামি, ঈমানি ও জিহাদি এ মুভমেন্টের সাথে জড়িত হওয়া এবং ইমাম খোমেনি’র নেতৃত্বকে গ্রহণ করার কারণেই তিনি আমাদেরকে সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছেন।

লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী ও প্রতিরোধ আন্দোলনের সৈন্যদের উপর আয়াতুল্লাহ বাহজাতের প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন: হিজবুল্লাহ’র শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা সকলেই তাঁর সাক্ষাতে আসতেন এবং তাঁর কাছ থেকে নির্দেশনা চাইতেন। আর তিনিও আমাদের অনুরোধ রক্ষা করতেন।

‘তিনি ছিলেন আমাদের আধ্যাত্মিক পিতা’ –এ কথা উল্লেখ করে হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন: ইমাম খোমেনি (রহ.) এর ওফাতের পর বিষয়টির গুরুত্ব আমাদের কাছে আরো বেড়ে যায়, যখন আমরা দেখতাম যে, আমাদের ওয়ালিয়ে আমর আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী যখনই যেয়ারতের উদ্দেশ্যে কোম শহরে আসতেন আয়াতুল্লাহ বাহজাতের সাথে সাক্ষাত এবং তার থেকে নির্দেশনা গ্রহণের জন্য তিনি উদগ্রীব থাকতেন। আর আমরা তো এ নেতার সৈন্য মাত্র, তাই আমাদের হিসাবটাও স্পষ্ট।

আয়াতুল্লাহ বাহজাত ছিলেন একজন ফকীহ, আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব এবং অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী –এ কথা উল্লেখ করে হাসান নাসরুল্লাহ বলেন: প্রথম সাক্ষাতেই আমি আয়াতুল্লাহ বাহজাতের ভক্ত হয়ে গিয়েছিলাম।

প্রথম থেকে ইমাম আমরা খোমেনি (রহ.) এর ভক্ত ছিলাম এবং ইসলামি বিপ্লবের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ –এ কথা উল্লেখ করে লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান বলেন, ইরান সফরগুলোতে আয়াতুল্লাহ বাহজাতের সাথে সাক্ষাত করা ছিল আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচীর অন্যতম। এ সময় আমরা তার প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ থেকে উপকৃত হতাম।

সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন: আয়াতুল্লাহ বাহজাতের সাথে ঐ সাক্ষাতগুলোতে আমরা লেবানন এবং এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষদের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন পেশ করতাম। আর তিনিও অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে আমাদের কথাগুলো শুনতেন এবং আমাদেরকে নির্দেশনা দিতেন। তিনি ঈমান, তাকওয়া এবং দৃঢ় আকিদার অধিকারী হওয়া এবং সেগুলোর প্রতি আমল করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করতেন। হিজবুল্লাহও ঐ সকল বিষয়ের প্রতি অত্যাধিক গুরুত্ব দিত এবং দেয়।

আয়াতুল্লাহ বাহজাতের এক বার্তার বিষয়ে লেবাননের হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন: ৩৩ দিনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে কোমে অধ্যায়নরত লেবানিজ এক ছাত্র আমার সাথে দেখা করতে এসে বললেন যে,  আয়াতুল্লাহ বাহজাত আপনাকে আজকের পর থেকে এই দোয়াটি সর্বদা পড়তে বলেছেন :

))اللهم اجعلنی فی درعک الحصینة التی تجعل فیها من ترید((

প্রতিদিন সকালে ও রাতে ৩ বার করে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: এ নির্দেশনার বিশেষ কোন অর্থ রয়েছে? তিনি (ঐ ছাত্র) বললেন: আমি জানি না, তিনি আমাকে বলেছেন যেন বার্তাটি আপনাকে পৌঁছে দেই।

ঐ সময় আমি মনে করলাম হয়তবা কোন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। আমি আমার নিরাপত্তার বিষয় যেমন বিস্ফোরণ বা গুপ্তহত্যার কথা ভাবলাম। কয়েক মাস পর যুদ্ধ শুরু হল এবং ইসরাইলিরা যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই আমার অবস্থানকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপের পরিকল্পনা করেছিল। ইসরাইলিরা উপর্যপুরি বোমা নিক্ষেপের পর, তাদের ভাষ্যমতে তারা আমি যে ভবনে অবস্থান করছিলাম সেটাকে চিহ্নিত করে ঐ ভবনকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমা বর্ষণ করে। এরপর আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, যুদ্ধের সময় সুরক্ষিত থাকার জন্য আয়াতুল্লাহ বাহজাত এ দোয়াটি আমার জন্য পাঠিয়েছিলেন, যুদ্ধের আগের জন্য নয়।

৩৩ দিনের যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন: কোম থেকে আগতদের মাঝে অপর এক ছাত্র ফোনে আমাকে বলেছিলেন যে,  আয়াতুল্লাহ বাহজাত এ বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন যে, “নিশ্চিত থাকুন এ যুদ্ধে আপনারা বিজয়ী হবেন”। যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহে এ বার্তা আমাদের কাছে পৌঁছেছিল, যখন বিজয়ের কোন আলামতই আমাদের সামনে ছিল না।

সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন : আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীও যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহে পাঠানো এক বার্তায় আমাকে বলেছিলেন যে, “এ যুদ্ধ আহযাবের যুদ্ধের সাদৃশ্য। জেনে রাখুন পবিত্র কুরআনের আয়াতের ভিত্তিতে আপনারা এ যুদ্ধে বিজয়ী হবে এবং হিজবুল্লাহ মধ্যপ্রাচ্যের একটি শক্তিতে রূপান্তরিত হবে”। তখন আমি হিজবুল্লাহ’র এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে –যিনি এ বার্তা নিয়ে এসেছিলেন- বলেছিলাম : সুস্থভাবে এ যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে পারাটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট, মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হওয়া পরের কথা।#


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

پیام امام خامنه ای به مسلمانان جهان به مناسبت حج 2016
We are All Zakzaky
telegram