মাজমা’র মহাসচিবের সাথে সাক্ষাত করলেন সিরিয়ার গোত্রপতিরা

  • News Code : 750357
  • Source : ABNA
Brief

সিরিয়ার বিভিন্ন গোত্রের প্রধান ও আশায়ের সম্প্রদায়ের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার (মাজমা) মহাসচিবের সাথে সাক্ষাত ও মতবিনিময় করেছেন।

হলে বাইত বার্তা সংস্থা –আবনা- : সিরিয়ার হোমস, হাসকা ও রিফ দামেস্ক অঞ্চলের বিভিন্ন গোত্রের প্রধান ও আশায়ের সম্প্রদায়ের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার (মাজমা) মহাসচিবের সাথে সাক্ষাত ও মতবিনিময় করেছেন। গতকাল (মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল) এ সাক্ষাতে আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার মহাসচিব সিরিয়ার গোত্র প্রধানদেরকে স্বাগত জানান। এরপর তিনি ইসলামি বিপ্লবের পূর্বে ও পরে বহু বছর যাবত এ দেশে অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন: সিরিয়ার জনগণ শুধু আমাদের বন্ধু নয় বরং তারা আমাদের ভাইও বটে।

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন আখতারি বলেন: স্বৈরাচারী সাদ্দাম কর্তৃক ইরানের উপর আরোপিত যুদ্ধের সময় ইরানি জাতির প্রতি সিরিয়ার জনগণ ও সরকারের সমর্থনের কথা কখনই ভুলবে না ইরানের জনগণ।

অতঃপর তিনি এদেশের বর্তমান পরিস্থিতির উপর আলোকপাত করে বলেন: এখন সকল আরব ও পশ্চিমা দেশ সিরিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। তারা এ দেশকে ধ্বংস করে দিতে চায়। এর কারণ হচ্ছে তারা সর্বদাই প্রতিরোধ আন্দোলনের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালিয়েছে।

জনাব আখতারি বলেন: ইতিপূর্বে যেভাবে হাফেজ আসাদ আমাদের সমর্থন জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনায় ইরানের সাহসী যুবকরা বর্তমানে সিরিয়া সরকার ও জাতির সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে।

ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনকে সমর্থনের কারণেই সিরিয়াকে সহযোগিতা করছে ইরান -এ কথা উল্লেখ করে দামেস্কে ইরানের সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন: তাকফিরি সন্ত্রাসীদের অনিষ্ট থেকে সিরিয়া ও পবিত্র মাজারগুলো মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

ইসলামি বিপ্লবের প্রথমদিকে সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন: ইরানেও অনেক সন্ত্রাসী গোষ্ঠি’র উপস্থিতি ছিল; যারা জনগণের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিত। ইমাম খোমেনি (রহ.) নির্দেশ দিলেন, ‘তাদেরকে প্রতিহত কর’। অতঃপর সরকার জনগণের সহায়তায় ঐ সন্ত্রাসীদের উপর বিজয় লাভ করে। অতএব, সিরিয়ার জনগণের উচিত সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় সরকারের সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া।

তিনি বলেন: সিরিয়া সরকার এবং স্বয়ং বাশার আসাদ নিজেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যুদ্ধে লক্ষণীয় বিজয় অর্জন করলেও, সিরিয়ার জনগণের সহযোগিতা ছাড়াই তিনি একাকি সন্ত্রাসীদের ধ্বংসাত্মক তৎপরতা রুখতে পারবেন না। বোমা বিস্ফোরণ ও আত্মঘাতী হামলার মত বিষয়গুলো স্বয়ং জনগণের সহযোগিতাতেই হ্রাস ঘটানো সম্ভব।

সকল ক্ষেত্রে সিরিয়ার সরকারের প্রতি দেশটির বিভিন্ন গোত্রের সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন: আশায়ের সম্প্রদায়ের প্রধান হিসেবে আপনাদের ভূমিকা ও অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা জনগণকে অবগত করুন। যাতে ঐ অবগতির ফলশ্রুতিতে তাকফিরি সন্ত্রাসীরা দমন হয়।

মাজমা’র মহাসচিব সবশেষে সিরিয়ার আশায়ের সম্প্রদায়ের গোত্রপতিদের ইরান সফরের বিষয়ে সফলতা কামনা করে বলেন: ভবিষ্যত আপনাদের এবং আপনাদের জনগণেরই। অচিরেই সিরিয়াতে সন্ধি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমি আশাবাদি।

এ সাক্ষাতের শুরুতে সিরিয়ার গোত্র প্রধানদের মধ্য থেকে ১০ জন তাদের বক্তব্যে সিরিয়ার প্রতি মহামান্য রাহবার, ইরান সরকার ও ইরানের জনগণের সহযোগিতার বিষয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন: যদি এ সকল সহযোগিতা না থাকতো তবে পশ্চিমা ও আরব দেশগুলোর সহযোগিতায় তাকফিরি সন্ত্রাসীরা সিরিয়াকে দখল করে নিত।

তারা তাকফিরি সন্ত্রাসীদের কিছু অপরাধকর্মের নমুনা উল্লেখ করে বলেন: তাকফিরি সন্ত্রাসীরা দেশের অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে এবং হাজার হাজার লোকের রক্ত ঝরিয়েছে। জায়নবাদী ইসরাইল, পশ্চিমা ও আরব দেশগুলো বাশার সরকারের পতনের জন্য সন্ত্রাসীদেরকে সহযোগিতা করছে। মূলতঃ তারা এর মাধ্যমে প্রতিরোধ আন্দোলনকে দূর্বল করতে চায়।

সিরিয়ার আশায়ের সম্প্রদায়ের প্রধানরা বলেন: আমরা আশা করবো যে, ইরান যেন সর্বোচ্চ সামর্থ নিয়ে অতি দ্রুত সিরিয়ার বাজারে প্রবেশ করে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে। যাতে যে সকল আরব ও পশ্চিমা দেশ আমাদের জনগণের সাথে শত্রুতা করেছে তাদের জন্য বিনিয়োগের কোন ক্ষেত্র খোলা না থাকে।

তারা বলেন: দেশের অবকাঠামো ও পাওয়ার হাউজগুলো ধ্বংসের কারণে সিরিয়ার বিদ্যুত কোম্পানিগুলো বিদ্যুত সরবরাহ করতে পারছে না এবং সেগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে।

হোমস, হাসকা ও রিফ দামেস্কে’র গোত্রপতিরা ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি ইমাম খোমেনি (রহ.) এর স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলেন: সিরিয়ার বিভিন্ন গোত্র সিরিয়া সরকার ও বাশার আসাদকে সমর্থন করে। পাশাপাশি সিরিয়ার জনগণের প্রতি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সহযোগিতাকে কখনই ভুলবে না।

এ বৈঠকে আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার সিরিয়া ও লেবানন প্রতিনিধি ‘হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সৈয়দ হাসান মুসাভি তাবরিজি’ও উপস্থিত ছিলেন।

বলাবাহুল্য, সিরিয়ার বিভিন্ন গোত্রপতি ও আশায়ের সম্প্রদায়ের নেতারা ইরানের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বদের সাথে সাক্ষাতের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কেন্দ্র পরিদর্শন এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অর্জন সম্পর্কে পরিচিত হয়ে ইরানের সাথে শিল্প ও ব্যবসায়িক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এ সফর করছেন।#


সম্পর্কিত প্রবন্ধসমূহ

আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

Pesan Haji 2018 Ayatullah Al-Udzma Sayid Ali Khamenei
We are All Zakzaky