$icon = $this->mediaurl($this->icon['mediaID']); $thumb = $this->mediaurl($this->icon['mediaID'],350,350); ?>

আজ হস্তী বাহিনী ধ্বংসের ও প্রথম মসজিদ নির্মাণের বার্ষিকী

  • News Code : 497004
  • Source : IRIB
Brief

১৪৮৮ চন্দ্র বছর আগে হিজরি-পূর্ব ৫৩ সনের বা ৫৭০ খ্রিস্টিয় সনের এ দিনে (১২ ই রবিউল আউয়াল) বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন বলে কোনো কোনো সূত্রে উল্লেখ করা হয়।

বার্তা সংস্থা আবনা : ১৪৮৮ চন্দ্র বছর আগে হিজরি-পূর্ব ৫৩ সনের বা ৫৭০ খ্রিস্টিয় সনের এ দিনে (১২ ই রবিউল আউয়াল) বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন বলে কোনো কোনো সূত্রে উল্লেখ করা হয়।

একই দিনে পবিত্র কাবা-ঘর আক্রমণ করতে আসা ইয়েমেনের আবিসিনিয় গভর্নর আবরাহা তার হস্তী বাহিনীসহ ধ্বংস হয়। আল্লাহর ইচ্ছায় কিছু আবাবিল পাখির মুখে থাকা ক্ষুদ্র কঙ্কর আবরাহার হস্তী বাহিনীর ওপর বর্ষিত হলে তারা চর্বিত ঘাসের মত দলিত-মথিত হয়।

(বলা হয়, আবরাহা চেয়েছিল ইয়েমেনে একটি বিকল্প কাবা-ঘর বা মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে যাতে এর মাধ্যমে ব্যবস্থা ও আধিপত্য বিস্তার করা যায়। কিন্তু তার আহ্বানে কেউ সাড়া দেয়নি।)

ইতিহাসে এসেছে, আবরাহার সেনারা কুরাইশ গোত্রের প্রধান ও বিশ্বনবী (সা.)'র দাদা হযরত আবদুল মুত্তালিবের উটগুলো নিয়ে যাওয়ায় তিনি আবরাহার সঙ্গে দেখা করে তার উটগুলো ফেরত চান। আবরাহা ভেবেছিল আবদুল মুত্তালিব এসেছেন কাবা ঘরে হামলা না চালানোর জন্য তার কাছে কাকতি-মিনতি করতে। তাই বিস্মিত আবরাহা বলে: কাবা ঘর রক্ষা নিয়ে তোমার চিন্তা নেই? হযরত ইব্রাহিম (আ.)'র পুত্র ইসমাইল (আ.)'র বংশধর ও একত্ববাদে বিশ্বাসী আবদুল মুত্তালিব বলেন, এই ঘরের যিনি মালিক (আল্লাহ) তিনিই তার ঘর রক্ষা করবেন, উটের মালিক হিসেবে আমি কেবল আমার উটগুলো ফেরত চাই।

অবশ্য বিশ্বনবী (সা.)র পবিত্র আহলে বাইতের বর্ণনা অনুযায়ী রাসূল (সা.)র জন্মদিন ১৭ই রবিউল আউয়াল। ৫ দিনের এই ব্যবধানের মধ্যে সেতু-বন্ধন হিসেবে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনী (র.) এই দিনগুলোর মধ্যে (১২-১৭ রবিউল আউয়াল) ইসলামী ঐক্য সপ্তাহ পালনের প্রথা চালু করেছেন। গত তিন দশকেরও বেশি সময়ের ধরে এই ঐক্য সপ্তাহ শিয়া ও সুন্নি মুসলমানের ঐক্য জোরদারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে।

১৪৩৪ চন্দ্র বছর আগে এই একই দিনে (১২ ই রবিউল আউয়াল) বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)র নির্দেশে ইয়াসরিব বা মদীনা শহরের কাছে কুবা গ্রামে নির্মিত হয় ইসলামের প্রথম মসজিদ। বিশ্বনবী (সা.)র হিজরতের ঘটনা ঘটেছিল একই বছর পয়লা রবিউল আউয়াল তারিখে।

মদীনায় প্রবেশের আগে বিশ্বনবী (সা.) এখানে কয়েক দিন অবস্থান করেছিলেন যাতে চাচাতো ভাই আলী ইবনে আবি তালিব (আ.) মক্কা থেকে এখানে তাঁর সঙ্গে মিলিত হন। হিজরতের জন্য বিশ্বনবী (সা.)'র রওনা হওয়ার রাতে আলী (আ.) তাঁর বিছানায় শুয়ে মহানবী (সা.)-কে হত্যার ষড়যন্ত্রটি নস্যাত করেন।

এ ছাড়াও রাসূল (সা.) তাঁর কাছে মক্কাবাসীদের গচ্ছিত আমানতগুলো ফেরত দেয়ার জন্য আলী (আ.)-কে দায়িত্ব দেন। আলী (আ.) সেইসব দায়িত্ব পালন করায় মদীনার দিকে তিন দিন পর রওনা হন।

কয়েক দিন পর আলী (আ.)ও কুবা গ্রামে এসে পৌঁছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নিজের মা তথা রাসূল (সা.)'র চাচী ফাতিমা বিনতে আসাদ (সা.আ.) এবং নিজের ভবিষ্যত স্ত্রী ও বেহেশতি নারীদের প্রধান নবী-কন্যা হযরত ফাতিমা (সা.)সহ বনি হাশিম গোত্রের মহিলারা।

কুবা মসজিদে নামাজ আদায় করার ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ইসলামী বর্ণনায়। কারণ, মদীনায় প্রবেশের আগে এই মসজিদেই প্রথম বারের মত জুমা নামাজ আদায় ও এই নামাজের ইমামতি করেছিলেন বিশ্বনবী (সা.)। আর সেটাই ছিল ইসলামের ইতিহাসের প্রথম জুমার নামাজ।