ঈসা (আ.)'র নীতি সর্বপ্রথম বিকৃত করে পল: জেফারসন

  • News Code : 619986
Brief

আজ হতে ১৯৪৭ সৌর বছর আগে ৬৭ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে রোমে মারা যায় খ্রিস্ট ধর্মকে বিকৃত করার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব পল।

আবনা : আজ হতে ১৯৪৭ সৌর বছর আগে ৬৭ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে রোমে মারা যায় খ্রিস্ট ধর্মকে বিকৃত করার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব পল।
তার আসল নাম ছিল 'সল' বা 'সাউল'।
পল ছিল একজন ইহুদি। সে খ্রিস্ট ধর্মের মধ্যে ইহুদি, রহস্যবাদ ও কথিত আধ্যাত্মিক জ্ঞানবাদের সমন্বয় ঘটায়। বলা হয় রোমান সম্রাট নীরো পলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন। কিন্তু এই দাবির সপক্ষে কোনো দলিল-প্রমাণ নেই।
পল ছিল হযরত ঈসা (আ.) ঘোর বিরোধী। কিন্তু ঈসা (আ.)'র মিশন শেষ হওয়ার পর পল হঠাৎ নিজেকে যিশু খ্রিস্টের অনুসারী বলে দাবি করে। দামেস্কে যাওয়ার পথে সে স্বপ্নে কিছু দেখেছিল বলে দাবি করে। কিন্তু সেসব দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন পণ্ডিত ও বিশেষজ্ঞরা।
পলই এটা প্রচার করে যে ঈসা নবীর মধ্যে রয়েছে আল্লাহর বৈশিষ্ট্য। সে ঈসা বা যিশুকে আল্লাহর পুত্র বলে দাবি করতে থাকে। এই মহান নবীকে ক্রুশ-বিদ্ধ করা হয়েছিল এই কল্প-কাহিনীকেও সেই ছড়িয়ে দেয়। পলই খ্রিস্ট ধর্মের মধ্যে তিন খোদার মতবাদ বা ত্রিত্ববাদ চালু করে।
মূর্তি পূজারী রোমানদের কাছে পছন্দনীয় করার জন্যই পল এই ত্রিত্ববাদ চালু করে। ফলে তার মতবাদকে প্রত্যাখ্যান করে ইহুদি ও ঈসা নবীর খ্যাতনামা শিষ্যরাসহ একত্ববাদী খ্রিস্টানরা।
উল্লেখ্য, আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা ও তৃতীয় প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসন পল সম্পর্কে লিখেছেন: 'যিশুর নীতিমালাকে সর্বপ্রথম বিকৃতকারী হল পল।'
বাইবেলের নিউ টেস্টাম্যান্টের নিম্নোক্ত বক্তব্যও পলের প্রতারণা তুলে ধরে: "সে হঠাৎ সিনাগগগুলোতে (ইহুদিদের ধর্মমন্দির) প্রচার করতে থাকে যে যিশু হলে আল্লাহর ছেলে। যারাই একথা শুনল তারাই হতবাক হল ও প্রশ্ন করলো, 'এই ব্যক্তিই কি সেই লোক নয় যে জেরুসালেমে (বায়তুল মুকাদ্দাসে) বিপর্যয় বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে? সেখানে এই নামে যাদের ডাকা হয় তাদের মধ্যে সে কি অন্যতম নয়? সে কি প্রধান পুরোহিতদের কাছে তাদের বন্দী করে নেয়ার জন্য আসেনি?' " (অ্যাক্টস অফ অ্যাপোস্টলস, ৯:২২)
ইহুদিরা যখন সাধু বা সন্ন্যাসী স্টেফেনের বিচার করছিল পল তখন সেখানে ছিল। পাথর ছুঁড়ে স্টেফেনকে হত্যার যে রায় দেয়া হয়েছিল তা অনুমোদন করেছিল পল। এরপর পল প্রকাশ্যেই ঈসা (আ.) বিখ্যাত শিষ্য সাধু পিটারের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হয়েছিল। ওই বিবাদকে 'এন্টিয়কের ঘটনা' বলা হয়ে থাকে। ধর্মীয় পবিত্র আইনগুলোকে বিকৃত করা নিয়েই ওই বিরোধ দেখা দিয়েছিল।
পল স্বীকার করে যে এমনকি সাধু বারনাবাস- যিনি বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)'র আবির্ভাব সম্পর্কে ঈসা নবীর সুসংবাদ ও ভবিষ্যদ্বাণীর কথা উল্লেখ করেছেন- ওই বিরোধের ক্ষেত্রে পিটারের পক্ষ নিয়েছিলেন এবং শিগগিরই একটি উত্তপ্ত বিতর্কের পর তাকে ত্যাগ করেন।
এল মাইকেল হোয়াইট 'ফ্রম জেসাস টু ক্রিস্টিয়ানিটি বা যিশু থেকে খ্রিস্টবাদ' শীর্ষক বইয়ে লিখেছেন: 'পিটারের সঙ্গে পলের দ্বন্দ্ব ছিল একটি রাজনৈতিক ঔদ্ধত্য বা দম্ভের পরিপূর্ণ ব্যর্থতা এবং পল শিগগিরই এন্টিয়ক ছেড়ে যেতে বাধ্য হয় অবাঞ্ছিত ব্যক্তি হিসেবে যেখানে সে আর কখনও ফিরে আসেনি।'
পল অ-ইহুদিদের মধ্যে সমর্থক সৃষ্টি আশায় খৎনার বিরোধিতা করে এবং শুকর ও মদকে হালাল করতে বলে। এ ছাড়াও সে একত্ববাদী ধর্মের প্রায় সব শিক্ষারই বিরোধিতা করে। এভাবে সে জন্ম দেয় কথিত খ্রিস্টবাদের যার সঙ্গে মহান নবী ঈসা (আ.)'র কোনো সম্পর্কই নেই। #আইআরআইবি


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

ইসলামের মহান সেনাপতি জে. কাসেম সোলাইমানি ও আবু মাহদি আল-মুহানদিস
We are All Zakzaky
conference-abu-talib
No to deal of the century