$icon = $this->mediaurl($this->icon['mediaID']); $thumb = $this->mediaurl($this->icon['mediaID'],350,350); ?>

'সিরিয়া ইস্যুতে সরবরা ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে নীরব কেন?'

  • News Code : 431583
  • Source : IRIB
Brief

ফিলিস্তিনের সংগ্রামী দল শহীদ আলআকসা ব্রিগেডস সিরিয়ার ব্যাপারে আরব লীগের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছে।

বার্তা সংস্থা আবনা : ফিলিস্তিনের সংগ্রামী দল শহীদ আলআকসা ব্রিগেডস সিরিয়ার ব্যাপারে আরব লীগের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছে। এর পাশাপাশি দলটি লেবাননের ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্ক সুদৃঢ় রয়েছে বলেও ঘোষণা দিয়েছে।

শহীদ আলআকসা ব্রিগেডস সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছে, আরব বিশ্বে ইহুদিবাদী-মার্কিন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এ ষড়যন্ত্রের আওতায় 'আরব বসন্ত' বা আরব গণজাগরণকে  আরবদের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে ইসরাইলের নিরাপত্তা রক্ষার বসন্তে রূপান্তরিত করার চেষ্টা চলছে। দলটি বলেছে, মার্কিন সরকার  'আরব বসন্ত'-কে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ইসরাইলকে রক্ষা ছাড়াও মুসলমানদের প্রথম কেবলা 'আল-আকসা' মসজিদের ইহুদিকরণের শয়তানি মার্কিন লক্ষ্যও এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।  আর মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই কথিত আরব বসন্তের প্রতি অভূতপূর্ব সমর্থন দিচ্ছে ওয়াশিংটন।

আরব লীগের কঠোর সমালোচনা করে ফিলিস্তিনের শীর্ষস্থানীয় এই সংগ্রামী দলটি বলেছে, "ইহুদিবাদী দখলদারিত্ব সবকিছু গ্রাস করছে বা জ্বালিয়ে দিচ্ছে, অথচ আরব লীগ ফিলিস্তিনের অসহায় জনগণকে অস্ত্রে সজ্জিত করার কথা কখনও বলেছে বলে আমরা কখনও শুনিনি যদিও এই মজলুম জনগণ শত শত বছর ধরে তাদের মাতৃভূমিকে রক্ষার চেষ্টা করে আসছে; আরব লীগ  ফিলিস্তিন, লেবানন ও ভূমধ্য এবং লোহিত সাগরের আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী ইহুদিবাদী জঙ্গি বিমানের ওপর কখনও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে বলেও আমরা কখনও শুনিনি।"

শহীদ আলআকসা ব্রিগেডস আরো বলেছে, "আরব লীগ কি দেখেনি আরব বসন্তের আগে ২০০৮ সালে এবং  ওই বসন্তের পরে ১০১২ সালে (ইসরাইলি হামলায়) পুরোপুরি পুড়ে যাওয়া আমাদের শিশু ও নারীদের লাশ। সে সময় আরব লীগ মেয়াদ-উত্তীর্ণ বা বাতিল হয়ে যাওয়া কিছু ওষুধ ও কিছু পঁচে-যাওয়া বিছানার চাদর পাঠানো ছাড়া আর কী পাঠিয়েছে? ছয় বছর ধরে গাজায় অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের জন্য কী করেছে আরব লীগ? আরব জাতির আলেমরা পুরোপুরি দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ফিলিস্তিনে জিহাদ করার ফতোয়া দিয়েছেন বলেও আমরা কখনও শুনিনি।"

শহীদ আলআকসা ব্রিগেডস ইরান, সিরিয়া ও হিজবুল্লাহকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রধান সাহায্যদাতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, "যে সত্যটি সবারই জানা উচিত স্পষ্টভাবে তা হল, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রধান মদদদাতা ও অস্ত্র সরবরাহকারী এবং পশ্চিমা সরকারগুলোকে চ্যালেঞ্জকারী শক্তিগুলো যারা ফিলিস্তিনের ইসরাইল-বিরোধী দ্বিতীয় ইন্তিফাদা বা গণজাগরণে সহায়তা যুগিয়েছে তারা হল: ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান, সিরিয়ান আরব প্রজাতন্ত্র (আসাদ সরকার) ও লেবাননের হিজবুল্লাহ। এই তিন সহায়তাকারীর মধ্যে সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর নেতৃত্বাধীন হিজবুল্লাহ হচ্ছে শীর্ষস্থানীয় সহায়তাকারী, যে দলটি আমাদের দিয়েছে অস্ত্র ও গোলা-বারুদ এবং ফিলিস্তিন প্রতিরোধ আন্দোলনের শক্তি জোরদারের জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তাই আমরা বলছি, হিজবুল্লাহ তোমায় ধন্যবাদ।"

শহীদ আলআকসা ব্রিগেডস লেবাননের ইসরাইল বিরোধী কিংবদন্তীতুল্য সফল প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ এবং এর নেতা সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর সঙ্গে কৌশলগত সুদৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে বলেছে: "সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে,  কম্পাস বা দিকদর্শন যন্ত্রের কাঁটা সব সময়ই মুসলমানদের বরকতময় প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদের দিকে ঘোরানো থাকবে ও ইহুদিবাদী দখলদারিত্বের অবসান না ঘটা পর্যন্ত ফিলিস্তিন সংকটটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে থাকবে।"

ফিলিস্তিনের শহীদ আলআকসা ব্রিগেডস বিশ্বের মুক্তিকামী সব মানুষকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে: পবিত্র আল আকসা মসজিদের ইহুদিকরণ ইহুদিবাদী-মার্কিন ষড়যন্ত্রের সর্বশেষ অংশ হওয়া সত্ত্বেও মুসলমানরা কেবল তা তাকিয়ে দেখছে এবং পরস্পর যুদ্ধ করছে।

শহীদ আলআকসা ব্রিগেডস  বিশ্বের মুক্তিকামী জনগণসহ ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোকে ইহুদিবাদী-মার্কিন ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে: আমেরিকা ও ইসরাইল এটা জেনে রাখুক যে  মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসার ইহুদিকরণ প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য যা শেষ পর্যন্ত ইহুদিবাদী ইসরাইল ও এর সমর্থকদের ধ্বংস করবে।

ফিলিস্তিনের শহীদ আলআকসা ব্রিগেডস মুসলিম বিশ্বের আলেমদেরকে  সাম্প্রদায়িক উস্কানি ব্যবহারকারী "ইহুদিবাদী-মার্কিন ষড়যন্ত্রের" ফাঁদে না পড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে: আমাদের আসল ও একমাত্র জিহাদ হল ইহুদিবাদী শত্রুর বিরুদ্ধে।

শহীদ আলআকসা ব্রিগেডস সিরিয়ায় রক্তপাত থামাতে আরব ও মুসলিম জাতিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, জাতীয় সংলাপই সিরিয়ার সংকট সমাধানের একমাত্র উপায়।