$icon = $this->mediaurl($this->icon['mediaID']); $thumb = $this->mediaurl($this->icon['mediaID'],350,350); ?>

‘শত শত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানবে সিরিয়ায়, হিজবুল্লাহও লক্ষ্য’

  • News Code : 459475
  • Source : IRIB
Brief

মিশরের প্রখ্যাত বর্ষীয়ান সাংবাদিক হাসনাইন হাইকাল সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ব্যাপারে প্রশ্ন করেছেন, "এর আগেই সিরিয়ায় এক লাখেরও বেশি মানুষ মারা গেছে যাদের বেশিরভাগই হল বেসামরিক নাগরিক, কিন্তু তা সত্ত্বেও এই শয়তানসুলভ স্নেহ কেন তখন উথলে উঠেনি? এক বৃহত আগ্রাসনের ইচ্ছার মধ্যেই এর উত্তর রয়েছে এবং গোটা মধ্যপ্রাচ্য হল এই আগ্রাসনের টার্গেট।"

বার্তা সংস্থা আবনা : মিশরের প্রখ্যাত বর্ষীয়ান সাংবাদিক হাসনাইন হাইকাল সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ব্যাপারে প্রশ্ন করেছেন, "এর আগেই সিরিয়ায় এক লাখেরও বেশি মানুষ মারা গেছে যাদের বেশিরভাগই হল বেসামরিক নাগরিক, কিন্তু তা সত্ত্বেও এই শয়তানসুলভ স্নেহ কেন তখন উথলে উঠেনি? এক বৃহত আগ্রাসনের ইচ্ছার মধ্যেই এর উত্তর রয়েছে এবং গোটা মধ্যপ্রাচ্য হল এই আগ্রাসনের টার্গেট।" 

হাসনাইন হাইকাল  এটাও তুলে ধরেছেন যে সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহীদের মোকাবেলায় সিরিয়ার সরকারি বাহিনী যখন সুপরিকল্পিত অভিযানের আওতায় একের পর এক বিভিন্ন অঞ্চলে বিজয় অর্জন করছিল তখনই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সাজানো ঘটনা ঘটিয়ে দামেস্ক সরকারের বিরুদ্ধে  এই অস্ত্র ব্যবহারের অপবাদ প্রচার করা হল।

হাইকালের ভাষায়: “ সৌদি গোয়েন্দামন্ত্রী বান্দারের (সন্ত্রাসী) সেনারা এবং এ অঞ্চলে  ক্ষমতা হারাতে-বসা আমেরিকার পুতুল(সরকার)গুলোর জন্য এমন একটা নাটক সাজানোই দরকার হয়ে পড়েছিল। আর এই  সফল নাটক সাজাতে কোরবানি দেয়া হয় বহু নারী ও শিশুকে যাতে শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে  ক্ষমতায় থাকা আসাদ সরকারকে কোন্ ঠাসা করা যায়। এরপর শুরু হয়ে গেল সিরিয়ার সরকারকে শিক্ষা দেয়ার জন্য রণ-দামামা। আসলে একমাত্র সরাসরি হামলার মাধ্যমেই কী আমেরিকা ও তার মিত্ররা যুদ্ধক্ষেত্রের ভারসাম্যকে নিজেদের অনুকূলে আনতে চাইছে যাতে জেনেভা-২ বৈঠককে আবারো জীবন্ত করা যায়? না, বরং আরো বড় লক্ষ্য হল হিজবুল্লাহকে ঠেকানো।"

হাইকালের মতে, যুদ্ধ অনিবার্য, যদিও তা ঠিক কখন শুরু হবে তা বলা মুশকিল। তিনি লিখেছেন, এটাই স্বাভাবিক যে প্রতিরোধ শিবিরকে জানিয়ে দিয়ে যুদ্ধ শুরু করা আমেরিকার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ, প্রতিরোধ-শিবির খুবই শক্তিশালী। প্রতিরোধ-শিবির এতই শক্তিশালী যে তাকে হারাতে হলে জরুরি আগাম বা আকস্মিক হামলা, জরুরি প্রতারণা ও সব সেনাদের সুসংগঠিত করা এবং দরকার ব্যাপক মাত্রায় ভারী গোলা-বর্ষণ। তবে তাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি হল সেইসব সশস্ত্র (সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহী) দলগুলোকে স্থলপথে সিরিয়ায় ঢুকিয়ে দেয়া যারা আসলে পাশ্চাত্য ও আমেরিকার হয়ে  (প্রক্সি) যুদ্ধ চালাবে। কারণ, তারা (ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ব্রিগেডের কমান্ডার) কাসেম সোলায়মানির এই হুঁশিয়ারীকে খুব ভালভাবেই বুঝতে পেরেছে যে, “মার্কিন সেনারা সিরিয়ায় আসার সময় কফিনগুলোও সঙ্গে নিয়ে আসবেন।”

হাইকালের মতে, সুসংঘবদ্ধ হওয়া ও সামরিক বিন্যাস গড়ে তোলার প্রস্তুতি নেয়ার জন্যই আগ্রাসীদের  কিছু সময় দরকার। একইসঙ্গে জনমতকে প্রভাবিত করার জন্যও দরকার রয়েছে সময়ের যদিও জনমতকে তারা সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে মোটেই গুরুত্ব দেয় না। বরং যথাযথভাবে শক্তিগুলোকে সংঘবদ্ধ করাই তাদের জন্য এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 

শত শত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানবে সিরিয়ায়

হাইকাল লিখেছেন, যুদ্ধের জিরো আওয়ারে দূরপাল্লার শত শত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানবে সিরিয়ার  বিমানবন্দরগুলোয়, ঘাঁটিগুলোয়, সেনানিবাসে ও কৌশলগত অস্ত্রের গুদামগুলোতে এবং এমনকি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদের ওপরও হামলা হতে পারে। একইসঙ্গে সমন্বিত পদক্ষেপ হিসেবে জর্দান থেকে ঢুকে পড়বে ৪০  হাজার প্রশিক্ষিত ( দেশদ্রোহী দালাল বা বিদ্রোহী) সেনা। মার্কিন সেনারাই এতদিন তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে যাতে কিভাবে দারআ অঞ্চল দিয়ে দামেস্কের দিকে এগিয়ে যাওয়া যায়। অন্যদিকে তুরস্ক সীমান্ত-সংলগ্ন আলেপ্পো ও ইদলিব অঞ্চল দিয়ে (পঞ্চম) বাহিনী ঢুকবে। লজাকিয়া থেকে আলাভিয়ুন পর্বত দিয়েও ঢুকবে পশ্চিমা-মদদপুষ্ট বিদ্রোহীরা। 

সিরিয়া সীমান্ত-সংলগ্ন পূর্ব লেবানন দিয়েও ঢুকবে পাশ্চাত্যের মদদপুষ্ট (ওয়াহাবি-তাকফিরি-বিদ্রোহী) বাহিনী। লেবাননের আইনুল হালওয়া শরণার্থী শিবিরসহ ফিলিস্তিনিদের অন্যান্য শরণার্থী শিবিরে ৫ হাজার যোদ্ধাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে রাখা হয়েছে যাতে তারাও একই সময়ে অন্যান্য বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর মত আসাদ-বিরোধী এই অভিযানে শরিক হয়।

ইসরাইলের ঐতিহাসিক প্রতিশোধের স্বপ্ন

আর আমেরিকার অবৈধ সন্তান ইসরাইল  ২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত ৩৩ দিনের যুদ্ধে হিজবুল্লাহর কাছে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য আসাদ-বিরোধী পশ্চিমা ও তাকফিরি সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে সর্বাত্মক সহায়তা দেয়া অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নিজেও যুদ্ধে জড়িত হবে। তাই হাইকাল (সম্ভাব্য) এই যুদ্ধকে আহজাবের (দলগুলোর) যুদ্ধ বলে অভিহিত করছেন। এক্ষেত্রে দলগুলো বলতে তিনি পশ্চিমা ও তাদের সেবাদাস স্থানীয় সরকারগুলোকে বুঝিয়েছেন। (ঠিক যেভাবে ইহুদিরা কাফির ও মূর্তিপূজারী আরব গোত্রগুলোকে  বিশ্বনবী-সা.সহ মুসলমানদের নির্মূল করার আশায় তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত যুদ্ধে  অংশ নিতে সুসংগঠিত করেছিল বলে ওই যুদ্ধকেও বলা হয় আহজাব-এর যুদ্ধ বা খন্দকের যুদ্ধ। পরিখা খননের মাধ্যমে মদীনাকে সুরক্ষিত করা হয়েছিল বলে ওই যুদ্ধকে খন্দকের যুদ্ধও বলা হয়। হযরত আলী (আ.)’র হাতে বেশ কয়েকজন দুর্ধর্ষ কাফির কমান্ডার নিহত হওয়ায় সেই যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল সম্মিলিত কাফির বাহিনী।)

সবশেষে হাইকাল লিখেছেন: আমি যুদ্ধের সম্ভাব্য দৃশ্যগুলো ও সম্ভাবনাগুলো নিয়ে কখনও কিছু বলব