$icon = $this->mediaurl($this->icon['mediaID']); $thumb = $this->mediaurl($this->icon['mediaID'],350,350); ?>

''হামলা না চালালে ইরানের কাছে খাটো হবে আমেরিকা'

  • News Code : 460124
  • Source : IRIB
Brief

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হ্যাগেল বলেছেন, আমেরিকা যদি সিরিয়ায় হামলা না চালায় তাহলে ইরানের কাছে আমেরিকার মর্যাদা প্রশ্নের সম্মুখীন হবে।

বার্তা সংস্থা আবনা :  মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হ্যাগেল বলেছেন, আমেরিকা যদি সিরিয়ায় হামলা না চালায় তাহলে ইরানের কাছে আমেরিকার মর্যাদা প্রশ্নের সম্মুখীন হবে।

তিনি বলেছেন, আমরা (আমেরিকা) সিরিয়ার বিদ্রোহীদের ব্যাপক সহায়তা দিয়েছি এবং তাদেরকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার অফেরতযোগ্য অর্থ দিয়েছি এবং সিআইএ (মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা) বিদ্রোহীদের অস্ত্র সাহায্যও দিয়েছে। আর এ অবস্থায় আমেরিকা যদি সিরিয়ায় হামলা না চালায় তাহলে ইরানের কাছে আমেরিকার গ্রহণযোগ্যতা বা ভাবমর্যাদা প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। হ্যাগেল সম্প্রতি মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটিতে এই বক্তব্য রেখেছেন।

মার্কিন সরকারের কোনো কোনো কর্মকর্তা এটাও বলেছেন যে, সিরিয়ায় হামলা না চালালে ইরানের স্পর্ধা বেড়ে যাবে। সিরিয়ার বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তুলে হ্যাগেল বলেছেন, এ অস্ত্রের ব্যাপারে যে আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি আছে তা ধ্বংস করে দেয়ার জন্যই সিরিয়া এই অস্ত্র ব্যবহার করেছে।

সিরিয়া রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগকে বানোয়াট বলে অস্বীকার করে আসছে। সিরিয়ার সরকারি সেনারা যখন প্রতিটি ফ্রন্টে বিজয়ী হচ্ছিল তখন তাদের মাধ্যমে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা এবং তাও দামেস্কে অবস্থিত জাতিসংঘের দপ্তরের খুব কাছেই ব্যবহার করার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না বলে নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন। সাধারণত পরাজিত বা দুর্বল পক্ষই এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।

সিরিয়ায় গত আগস্ট মাসে সংঘটিত কথিত রাসায়নিক হামলায় কত মানুষ নিহত হয়েছে তা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা ও তাদের মিত্ররা একেক জন একেক পরিসংখ্যান দিয়েছেন। কেউ বলেছেন, নিহতের সংখ্যা আড়াইশরও কম, কেউ বলছেন প্রায় সাড়ে তিনশ এবং কেরি বলেছেন প্রায় সাড়ে ১৪০০!

উল্লেখ্য, এর আগে সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের হাতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে এবং জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তারা এ সংক্রান্ত তদন্ত রিপোর্টে তা উল্লেখ করেছিলেন।

সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের হাতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাসহ সম্প্রতি সরকারি সেনাদের হাতে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ সম্পর্কে তদন্তে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকদের সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে আসছে সিরিয়া সরকার। অন্যদিকে বিদ্রোহীরা এ ব্যাপারে জাতিসংঘের তদন্ত টিমের তদন্ত কাজে আগেও যেমন বাধা দিয়েছে, বর্তমানেও বাধা দিয়ে যাচ্ছে বলে খবর এসেছে।

রাশিয়াও বলেছে যে, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সঙ্গে বিদেশী সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোসহ বিদ্রোহীরাই জড়িত। মস্কো বলেছে, বিদ্রোহীদের এলাকা থেকে তাদেরই ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে রাসায়নিক অস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় এবং এ ব্যাপারে স্যাটেলাইট থেকে তোলা প্রামাণ্য ছবিও রাশিয়ার কাছে রয়েছে। 

এর আগে গত জানুয়ারি মাসে ডেইলি মেইল বলেছিল, পাশ্চাত্য সিরিয়ার বিদ্রোহীদের কাছে রাসায়নিক অস্ত্র দিয়েছে এবং এই অস্ত্র ব্যবহারের পর তার দায় সিরিয়ার সরকারের ওপর চাপানোর পরিকল্পনা নিয়েছে আমেরিকা ও তার মিত্ররা।

আমেরিকার কর্মকর্তারা বলছেন, মানবিক কারণে তথা মানব-প্রেমের উতসাহ নিয়েই তারা নাকি সিরিয়ায় হামলা চালাতে চান। কেরি আর ওবামা বলছেন, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। কিন্তু গত প্রায় তিন বছর ধরে সিরিয়ায় লেলিয়ে দেয়া নানা দেশের ছেড়ে দেয়া ফাঁসির আসামীসহ আলকায়দার বিদ্রোহী ও সন্ত্রাসীদের হাতে পাশবিক কায়দায় বিপুল সংখ্যক  বেসামরিক সিরিয় নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুদের হত্যাকাণ্ড এবং সেসবের ভিডিও দৃশ্য প্রচারিত হওয়ার ব্যাপারে তারা মুখ খুলছেন না। আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইয়েমেনে আলকায়দাকে দমনের নামে এই আমেরিকাই ড্রোন হামলা চালিয়ে বহু নিরপরাধ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে। এমনকি মার্কিন ড্রোন ও বিমান বিয়ের আসরে বোমা নিক্ষেপ করে হত্যা করছে নিরপরাধ বেসামরিক জনগণকে।

ইরাকের আবুগারিব ও গুয়ান্তানামো বন্দী শিবিরে মার্কিন বর্বরতা এবং জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পরমাণু বোমার বিস্ফোরণসহ ভিয়েতনামে মার্কিন সেনাদের হাতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের রেকর্ডধারী মার্কিন সরকার ইরাকের হালাবজায় সাদ্দামের বাহিনীর হাতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের (ফলে ৫ হাজার ইরাকি নিহত হওয়ার ব্যাপারেও) কখনও তদন্তের উদ্যোগ নেয়নি। কারণ, তাতে ফেঁসে যাবে সাদ্দামকে এইসব অস্ত্র সরবরাহকারী খোদ মার্কিন ও পশ্চিমা সরকারগুলোই। তাই মানবাধিকারের ব্যাপারে বুশ-ব্লেয়ার-চেনি ও হাল আমলের ওবামা-কেরিদের মায়াকান্না এবং মানব-দরদের ওয়াজ-নসিহত যে স্রেফ কুম্ভীরাশ্রু ও কপটতা তা সবার কাছেই স্পষ্ট।

আসলে সিরিয়ায় সন্ত্রাসী লেলিয়ে দেয়ার ও সম্ভাব্য মার্কিন হামলার মূল কারণ হল, আরব এই দেশটির আসাদ সরকার ইসরাইল বিরোধী ইরান, হিজবুল্লাহ ও হামাসের সঙ্গে সহযোগিতা করে আসছে। ২ বছর আগেও ইসরাইল সিরিয়াকে প্রস্তাব দিয়েছিল যে ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন কর। যদি তা কর তাহলে যুদ্ধ হবে না, বরং গোলান মালভূমি  ফেরত দেব। কিন্তু সিরিয়া তার নীতিতে অনঢ় থেকেছে।