কুবানির যুদ্ধে মার্কিন ও তুর্কি সরকারের কপটতা ফাঁস

  • News Code : 652758
  • Source : IRIB
Brief

সিরিয়া ও ইরাকে সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত তাকফিরি গ্রুপ আইএসআইএল গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে ও অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে সিরিয়ার আলেপ্পো প্রদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা কুবানি দখল করে নেয়।

আবনা : সিরিয়া ও ইরাকে সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত তাকফিরি গ্রুপ আইএসআইএল গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে ও অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে সিরিয়ার আলেপ্পো প্রদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা কুবানি দখল করে নেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইএসআইএল মার্কিন সরকার ও মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্রদের মদদে জন্ম নেয়া সত্ত্বেও এই সরকারগুলো তাকফিরি এই গ্রুপের নৃশংসতা ও অমানবিক তৎপরতার কারণে বিশ্ব জনমতের চাপের মুখে এই গ্রুপের বিরুদ্ধে লোক-দেখানো একটি অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে। এই সরকারগুলো বিশ্ব-জনমতকে ধোঁকা দেয়ার জন্যই সম্প্রতি গঠন করেছে আইএসআইএল-বিরোধী জোট। কিন্তু তাদের আসল উদ্দেশ্য হলো তাকফিরি এই গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে ধর্মীয় ও জাতিগত বিভাজনের ভিত্তিতে সিরিয়া ও ইরাকের মানচিত্রে পরিবর্তন আনা এবং আসাদ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা। সিরিয়ার কুর্দিদের অনেকেই মনে করেন তাদেরকে ইরাকি কুর্দিস্তানে চলে যেতে বাধ্য করতে চায় সাম্রাজ্যবাদীরা। সিরিয় কুর্দিদের ওপর তুর্কি সরকারের কর্তৃত্ব চাপিয়ে দেয়াও মানচিত্র পরিবর্তনকামীদের অন্যতম লক্ষ্য।
তুর্কি সরকারের মদদপুষ্ট 'জেবহাতুন নুসরা' নামের তাকফিরি গোষ্ঠী গত মার্চ মাসে সিরিয়ার লাতাকিয়া প্রদেশের কাসাব শহর দখল করলে সেখানকার কুর্দি ও তুর্কম্যানরাসহ নানা ধর্মীয় সম্প্রদায় ও জাতির প্রায় দুই লাখ মানুষ তুর্কি সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এখন আবারও এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে সিরিয় কুর্দিরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। গত অক্টোবর মাসে এ লক্ষ্যেই কুবানির এক তৃতীয়াংশ দখল করে নেয় আইএসআইএল। কুবানিতে কুর্দি প্রতিরক্ষা যোদ্ধাদের যথাযথ সহায়তা না দিয়ে ওয়াশিংটন এটা প্রমাণ করেছে যে আইএসআইএল-এর বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ স্রেফ আই-ওয়াশ বা জনগণকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা এবং সিরিয়ার কৌশলগত কিছু অঞ্চল দখলে রাখার প্রয়াস মাত্র। আইএসআইএল গত আগস্ট মাসে ইরাকি কুর্দিস্তানে হামলা চালালে ওয়াশিংটন খুব দ্রুত কুর্দিস্তান স্বায়ত্তশাসিত সরকারের সেনাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে। আইএসআইএল জুলাই মাসে ইরাকের মুসেল দখল করে। আর একই সময়ে তেল-সমৃদ্ধ কারকুক দখল করে নেয় কুর্দি সরকারি সেনারা। এর পাশাপাশি আইএসআইএল কুবানিতে অবরোধ শুরু করে। কিন্তু ওয়াশিংটন এক্ষেত্রে অক্টোবর মাসের প্রথম পর্যন্ত কেবলই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
গত ৮ ই অক্টোবর পেন্টাগন ঘোষণা করে যে সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিমান হামলা কুবানিতে সন্ত্রাসী আইএসআইএল-এর অগ্রাভিযান থামাতে পারবে না। বরং ওয়াশিংটন উত্তর সিরিয়ায় তুর্কি সেনা ও ট্যাংক প্রবেশের আহ্বান জানায়। তুর্কি সরকার এর জবাবে জানায় যে, আঙ্কারা কেবল তখনই সিরিয়ায় সেনা পাঠাবে যখন মার্কিন সরকার ও তার কথিত জোট সিরিয়ায় একটি নো-ফ্লাই জোন গঠন করবে যাতে আসাদ সরকারের পতনের পরিবেশ সৃষ্টি করা সহজ হয়। তুর্কি সরকার ২০১১ সাল থেকেই সিরিয়ায় এ ধরনের একটি অভিযান চালানোর সুযোগ খুঁজছিল এবং এ জন্য সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের নিয়ন্ত্রিত একটি বাফার জোন ও নো-ফ্লাই জোন গঠনের দাবি জানিয়েছিল। অবশ্য এবার তুরস্ক সরকার শান্তিকামীতা ও মানবিক সাহায্যের নামে এইসব প্রস্তাব তুলেছে। তুর্কি সংসদ গত দোসরা অক্টোবর সিরিয়ায় ও সেখানকার কুর্দিস্তানে হামলার একটি বিলও পাশ করেছে। এক্ষেত্রে এরদোগান সরকার খুব সতর্কভাবে অগ্রসর হচ্ছিল। কুবানি যাতে পুরোপুরি আইএসআইএল'এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায় সে জন্য এই তাকফিরি সন্ত্রাসী গ্রুপকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিয়েছে আঙ্কারা।
কিন্তু তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ বিভাগের সমন্বয়ের অভাবে তাদের গোয়েন্দা সংস্থার অস্ত্রের চালানবাহী কয়েকটি ট্রাক আননুসরা গ্রুপসহ সিরিয়ার সরকার বিরোধী সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্র পৌঁছে দেয়ার সময় আদানার পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ধরা পড়ে যায়। পুলিশ ওইসব চালান আটক করে।
কুবানিতে হামলা চালানোর জন্য তুর্কি সরকার ভারী অস্ত্রে সজ্জিত আইএসআইএল-এর সেনাদের কাছে বিপুল অস্ত্র সরবরাহ করেছিল বলে নানা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির চেষ্টা করায় প্রাণ দিতে হয়েছে ইরানের প্রেস টিভি'র সাংবাদিক সেরেনা শিমকে। লেবাননি বংশোদ্ভূত এই মার্কিন নারী সাংবাদিক এটা ফাঁস করতে চেয়েছিলেন যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লোগো বহনকারী ট্রাকে করে আইএসআইএল-এর কাছে অস্ত্র সরবরাহ করছিল তুরস্ক। গত ১৯ অক্টোবর এক রহস্যময় গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হন শিম। এর আগে তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা অভিযোগ করেছিল যে শিম তুরস্কের সরকার বিরোধী দলগুলোর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছেন যা তিনি জোরালোভাবে নাকচ করে দেন।
সিরিয়া বিরোধী সন্ত্রাসী বা বিদ্রোহীদের সহায়তা দেয়ার ব্যাপারে আঙ্কারার প্রত্যক্ষ ভূমিকাকে ধামাচাপা দিতেই তুর্কি সরকার দাবি করতে থাকে যে তুর্কি সীমান্ত দিয়ে ইরাক ও সিরিয়ায় বিদেশী যোদ্ধাদের অনুপ্রবেশ রোধ করা বা সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এই সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।
কিন্তু কুবানির যুদ্ধ পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার পাশাপাশি আঙ্কারা তার এই অবস্থানও বদলাতে থাকে। আঙ্কারা সিরিয়া সীমান্তে তার নিশ্ছিদ্র নিয়ন্ত্রণকে ব্যবহারের মাধ্যমে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করে। তুরস্ক বিদেশী মদদপুষ্ট আইএসআইএল ও আননুসরার সন্ত্রাসীসহ সিরিয়া ও ইরাক বিরোধী সন্ত্রাসীদেরকে অবাধে তার সীমান্ত ব্যবহারের এবং অতিক্রমের সুযোগ দিয়ে আসছে। কিন্তু আঙ্কারা অবরুদ্ধ কুবানিতে আইএসআইএল-এর হামলা মোকাবেলার জন্য স্বেচ্ছাসেবীদেরকে সিরিয়া-তুর্কি সীমান্ত অতিক্রমের অনুমতি দেয়নি। ফলে খাদ্য ও পানি সংকটসহ মানবিক সংকটের শিকার সেখানকার জনগণ ও স্বল্প সংখ্যক কুর্দি প্রতিরোধকারীদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠছিল। এ অবস্থায় ঘরে ও বাইরে তীব্র চাপের মুখে তুর্কি সরকার গত পয়লা নভেম্বর ১৫০ জন পিশমার্গা কুর্দি যোদ্ধাকে কুবানিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়।
কুবানি থেকে নিজেদেরই সৃষ্ট উগ্র তাকফিরি গোষ্ঠী আইএসআইএলকে তাড়িয়ে দেয়ার অজুহাতে মার্কিন সরকার ও তার স্থানীয় মিত্র তুর্কি সরকার সিরিয়াতে সেনা পাঠানোর এবং দেশটির উত্তরাঞ্চলে বাফার জোন গড়ার যে প্রস্তাব দিয়েছিল দামেস্ক তা নাকচ করে দিয়েছে। দামেস্ক বলেছে, এ জাতীয় প্রস্তাবের উদ্দেশ্য হলো সিরিয়ায় প্রকাশ্য আগ্রাসন চালানোর পথ খুলে দেয়া। তুরস্ক এ ব্যাপারে ইরান, চীন ও রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য অপেক্ষা করে। সিরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরান ও রাশিয়া আরব এই দেশটিতে সেনা পাঠানোর বিরুদ্ধে আঙ্কারাকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দেয়। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাফার জোন গঠনের তুর্কি-মার্কিন খাহেশকে অবৈধ ইচ্ছা বলে উল্লেখ করে মস্কো। রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যালেক্সান্ডার লুকাশেভিচ এক বক্তব্যে এটা তুলে ধরেন যে সিরিয়ায় মার্কিন বোমা হামলার ফলে সংকট আরো জটিল হয়েছে এবং এর ফলে আইএসআইএল-এর সন্ত্রাসীরা নিজেদের আড়াল করার জন্য বেসামরিক জনগণের মধ্যে আরো ব্যাপক মাত্রায় মিশে গেছে। এখন প্রশ্ন হলো এটা কি একটি কাকতালীয় ঘটনা যে, মার্কিন সরকার আইএসআইএল-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পরপরই গ্রুপটি সিরিয়ায় বেশ কিছু অঞ্চল জয় করতে সক্ষম হয়েছে? আর এটা কি কাকতালীয় যে কুবানি অঞ্চলেই রয়েছে সিরিয়ার বেশিরভাগ তেল-ক্ষেত্র?
আইএসআইএল-এর সঙ্গে যুদ্ধরত কুবানির অধিবাসী ও প্রতিরোধ যোদ্ধারা বার বার বাইরের সাহায্য চেয়েছেন। কিন্তু তারা এর পাশাপাশি সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিমান থেকে বোমা বর্ষণকে পুরোপুরি অকার্যকর বা নিষ্ফল বলে মন্তব্য করেছেন। সিরিয় কুর্দিস্তানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও বলেছেন যে আইএসআইএল-এর অবস্থানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কথিত বিমান হামলা ব্যর্থ হয়েছে।
কুবানির গণ-প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো বেশ কয়েক বার বিবৃতি দিয়ে বলেছে, মার্কিন বোমা হামলার ফলে কুবানি বা সিরিয়ার অন্যত্র তাকফিরি গ্রুপ আইএসআইএল-এর সন্ত্রাসীরা কখনও পিছু হটবে না এবং এ ধরনের হামলা কখনও তাদের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না। কুবানির গণ-প্রতিরক্ষা ইউনিট ওয়াই পি জি’র কর্মকর্তা জাভান ইব্রাহিম আইএসআইএল-এর মোকাবেলায় সিরিয়া, ইরাক ও ইরানকে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেয়ার এবং সব দেশের কুর্দিদেরকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ওয়াই পি জি বা গণ-প্রতিরক্ষা ইউনিট ও সিরিয়ার কুর্দিরা যেখানে রয়েছে সেখানে আইএসআইএল-বিরোধী কথিত মার্কিন জোটের তৎপরতা ব্যর্থতা ছাড়া অন্য কিছুর মুখ দেখেনি বলেও তিনি জানান।
আররাক্কায় বিমান হামলা ছিল সিরিয়ায় মার্কিন অভিযানের সূচনা। সিরিয়ায় আইএসআইএল-এর নানা অবস্থানে মার্কিন ও তাদের সেবাদাস আরব সরকারগুলোর বিমান হামলা শুরু হওয়ার আগেই সন্ত্রাসীরা ওইসব অবস্থান ছেড়ে চলে গেছে। বরং সিরিয়ার নানা শিল্প স্থাপনা, কলকারখানা ও বেসামরিক জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ওপর বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বিমান। এমনকি সিরিয়ার বেসামরিক জনগণের অনেক বাড়িঘর ও গমের গুদামও মার্কিন বিমানের নির্বিচার বা এলোপাথাড়ি হামলায় ধ্বংস হয়েছে। এ থেকে স্পষ্ট যে পেন্টাগন সিরিয়াকে শত্রুর দেশ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং এ জন্যই দেশটির শক্তি খর্ব করতে সেখানকার অবকাঠামোগুলোর ওপর হামলা করছে। ব্যাপক সমালোচনা ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মার্কিন সরকার কুবানির প্রতিরোধ যোদ্ধাসহ সেখানকার অধিবাসীদের জন্য বিমান থেকে ওষুধ ও অস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করে। অবশ্য এইসব অস্ত্রের একটা অংশ কুবানিতে আইএসআইএল-এর নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে তাদের সন্ত্রাসীদের হাতে পড়ে। এইসব অস্ত্রের মধ্যে ছিল গ্রেনেড, রকেট-চালিত গ্রেনেড ও গোলা-বারুদ।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে 'ভুল হিসাবের ফসল' বলে মন্তব্য করে। আরো বলে যে, আইএসআইএল-এর কাছে অস্ত্র পৌঁছুক এটা নাকি তাদের উদ্দেশ্য ছিল না! কিন্তু পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন সেনারা ইচ্ছে করেই এই কাজ করেছে।
মার্কিন সরকারের মত তুর্কি সরকারও একান্তই অনিচ্ছায় ও বিশ্ব-জনমতের চাপের মুখে গত পয়লা নভেম্বর ইরাকি কুর্দিস্তানের একদল পিশমার্গা যোদ্ধাকে তুরস্ক সীমান্ত দিয়ে সিরিয়ার কুবানিতে ঢোকার সুযোগ দেয়। এইসব যোদ্ধা তুরস্কের সহযোগী কেআরজি বাহিনীর সদস্য। অথচ তুর্কি সরকার কুর্দি গণবাহিনী বা ওয়াই পি জি ও ওয়াই পি জে'র মত গ্রুপগুলোকে তুর্কি সীমান্ত দিয়ে কুবানিতে ঢোকার অনুমতি দেয়নি। কুবানিতে তুরস্কের ক্ষতিকর ভূমিকার কথা সবার কাছে স্পষ্ট বা ফাঁস হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় আইএসআইএল যোদ্ধাদের হাতে কুবানির পতন ঘটলে তুরস্কে নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স দল পিকেকে ও তুর্কি সরকারের মধ্যে আলোচনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং তুর্কি কুর্দিস্তানে ব্যাপক গণ-বিদ্রোহ শুরু হতে পারে বলে আঙ্কারা আশঙ্কা করছিল।
আসলে এটা স্পষ্ট যে আইএসআইএল-কে পরাজিত করা মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বোমা বর্ষণের উদ্দেশ্য নয় মোটেই। বরং এই জোট সিরিয় সমাজ-কাঠামোকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে চাইছে যাতে দেশটিকে একটি অকার্যকর দেশ হিসেবে তুলে ধরা যায়। আর এ লক্ষ্যেই মার্কিন হামলার টার্গেট হচ্ছে পাইপলাইনসহ সিরিয়ার জ্বালানী স্থাপনা ও অবকাঠামোগুলো। পেন্টাগন এ ব্যাপারে সাফাই দেয়ার জন্য বলছে যে, এইসব স্থাপনা ধ্বংস করা না হলে আইএসআইএল তা ব্যবহার করে তেল-গ্যাস বেচে অর্থ আয় করতে থাকবে! মার্কিন এই যুক্তি যে স্রেফ অপযুক্তি তার প্রমাণ হলো আইএসআইএল তার দখলে আসা সিরিয়ার তেল তুরস্কের কাছে বিক্রি করছিল ট্রাক লরির মত গাড়ি বহরের মাধ্যমে। অবশ্য তারা ইরাকের তেল তুরস্কের কাছে বিক্রি করছিল ইরাকি পাইপ লাইন ব্যবহার করেই। আর আইএসআইএল-এর চুরি করা বেশিরভাগ তেলের উৎস হলো ইরাক, সিরিয়া নয়। অথচ ইরাকের পাইপ লাইন ধ্বংসের পদক্ষেপ নেয়নি পেন্টাগন। উল্লেখ্য, আইএসআইএল-এর কাছ থেকে ইরাক ও সিরিয়ার তেল কিনছে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র। এমনকি ইরাকে নিযুক্ত ইউরোপীয় জোটের প্রতিনিধি জানা হাইবাস্কোভাও স্বীকার করেছেন যে ইইউ'র দেশগুলো ইরাকের চোরাই তেল কিনছে আইএসআইএল-এর কাছ থেকে।
তাই এটা স্পষ্ট সিরিয়া ও ইরাকে আইএসআইএল-এর ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন নীতি অনুসরণ করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সরকার এখনও সিরিয়ায় পোড়ামাটি নীতি অনুসরণ করছে। আর তুরস্ক সিরিয়ার কুর্দিদের হাতের মুঠোয় আনতে চাইছে বা অন্তত তাদের নিষ্ক্রিয় ও অকেজো করে রাখতে চাইছে। ঠিক এ কারণেই কুবানিতে যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল তুর্কি যোগসাজশে এবং এ ব্যাপারে নীরব দর্শকের ভূমিকা রেখেছিল ওয়াশিংটন। সিরিয়ার সরকারের কাছে এটা স্পষ্ট ছিল যে আইএসআইএল-বিরোধী কথিত মার্কিন কোয়ালিশন একটি আই-ওয়াশ মাত্র এবং এ ধরনের ধোঁকাবাজির আশ্রয় নিয়ে মার্কিন সরকার শেষ পর্যন্ত দামেস্কের বিরুদ্ধেই সেনা অভিযান চালাবে যদি পেন্টাগন মনে করে এই লক্ষ্য অর্জনের যথাযথ অজুহাত ও পরিবেশ তৈরি হয়ে গেছে। এ অবস্থায় গত ৬ ই নভেম্বর সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ মুয়াল্লিম লেবাননের দৈনিক আল আখবারকে বলেছেন যে সিরিয়া এস-থ্রি হান্ড্রেড বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম সরবরাহের কাজ ত্বরান্বিত করতে রাশিয়ার কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যাতে সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলা মোকাবেলার প্রস্তুতি নেয়া যায়। #


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

ইসলামের মহান সেনাপতি জে. কাসেম সোলাইমানি ও আবু মাহদি আল-মুহানদিস
We are All Zakzaky
conference-abu-talib
No to deal of the century