$icon = $this->mediaurl($this->icon['mediaID']); $thumb = $this->mediaurl($this->icon['mediaID'],350,350); ?>
আয়াতুল্লাহ সুবহানী;

মহানবী (স.) এর উপর পরিপূর্ণ দরুদ প্রেরণ করতে হবে

  • News Code : 200388
  • Source : ABNA
আয়াতুল্লাহ আল উজমা জাফার সুবহানী হযরত মহানবী (স.) হতে বর্ণিত এক হাদীসের প্রতি ইশারা করে বলেন: দুঃখজনকভাবে কেউ কেউ মহানবী (স.) এর উপর দরুদ প্রেরণ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসকে উপেক্ষা করে এবং উক্ত দরুদকে অসম্পূর্ণভাবে পাঠ করে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: ইমাম সাদিক ইন্সটিটিউটের প্রদান আয়াতুল্লাহ আল উজমা জাফার সুবহানী গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সূরা হাশরের ধারাবাহিক তাফসীরের ক্লাসে দরুদ পড়ার পদ্ধতি সম্পর্কে বলেন: আল্লাহর রাসূল (স.) হতে দরুদ প্রেরণের পদ্ধতির উপর বর্ণিত একটি হাদীসের –যা সুন্নি এবং শিয়া উভয় সূত্র মারফত বর্ণিত হয়েছে- ভিত্তিতে জানা গেছে যে, তিনি (স.) বলেছেন: যদি তোমরা চাও আমার উপর দরুদ পাঠ করতে তবে বল: হে আল্লাহ! তুমি দরুদ প্রেরণ কর মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের (মুহাম্মাদ (স.) এর বংশধর) উপর। যেভাবে তুমি প্রেরণ করেছো ইবরাহিম ও আলে ইবরাহিমের উপর’। দুঃখজনকভাবে কেউ কেউ এ হাদীস উপেক্ষা করে ‘আলে মুহাম্মাদ’ শব্দদ্বয়কে বাদ দিয়ে দরুদ প্রেরণ করে।

তিনি বলেন: এ কর্ম আল্লাহর রাসূল (স.) এর সুন্নতের পরিপন্থী। যদি তারা ‘আলে মুহাম্মাদ’ শব্দদ্বয়কে সংযুক্ত করার পর পূনরায় ‘আসহাবে মুহাম্মাদ’ শব্দদ্বয়কে সংযোজন করে তবে সেটাও হবে মহানবী (স.) এর হাদীসের পরিপন্থী। কেননা আল্লাহর নবী (স.) বলেছেন: ‘মুহাম্মাদ ওয়া আলে মুহাম্মাদ’। এর বেশীও নয় কমও নয়।

ইমাম সাদিক (আ.) ইনস্টিটিউটের প্রধান বলেন: কেন আমরা মহানবী (স.) এর হাদীস হতে নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে নেব। আর যখন স্বয়ং তিনি রাস্তা বাতলে দিয়েছেন তখন কেন আমরা ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করবো!

শিয়াদের এ মারজা সূরা হাশরের তৃতীয় আয়াতে উল্লিখিত ‘আযাব’ শব্দটির অর্থ সম্পর্কে বলেন: কারো কারো মতে এ আয়াতে যখন মহান আল্লাহ বলেন: এ আয়াতে বলা হচ্ছে: ‘আল্লাহ্ যদি তাদের নির্বাসন অবধারিত না করতেন, তবে তাদেরকে দুনিয়াতে শাস্তি দিতেন’ –এর অর্থ হচ্ছে এ আযাব হল ঐ আযাব যা আদ ও সামুদ গোত্রের উপর অবতীর্ণ হয়েছিল। কিন্তু এ ধরনের ব্যাখ্যা করলে অন্যান্য সমস্যার সৃষ্টি হবে। কেননা পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে যে, পয়গম্বর এবং ইস্তিগফার এ দু’টি জিনিস মানুষের জন্য দু’টি নিরাপদ স্থানের ন্যায়। আর যতদিন পর্যন্ত এ দুই উম্মতের মাঝে উপস্থিত থাকবে ততদিন আযাব অবতীর্ণ হবে না।

তিনি বলেন: এ আয়াতে আযাবের অর্থ হল এরূপ যে, মুসলমানরা যখন অহুদের যুদ্ধ কেবলমাত্র শেষ হয়েছিল এবং যদিও বিজয়ের নিশ্চয়তা দেয়া হত তা সত্ত্বেও পূনরায় নতুন যুদ্ধভাবে একটি যুদ্ধ শুরু করার শক্তি মুসলমানদের মাঝে ছিল না। আর তাই মহান আল্লাহ যুদ্ধকে ইহুদীদের নির্বাসনে রূপান্তরিত করলেন।

আায়াতুল্লাহ সুবহানী আরো বলেন: স্বদেশ হতে নির্বাসিত হওয়া, আল্লাহর আযাব অপেক্ষা গুরুতর ছিল। কেননা এর ফলে ইহুদীরা তাদের অর্জিত সকল কিছু ফেলে যেতে বাধ্য হয়েছিল।

তিনি বলেন: যদি তারা জিহাদের মাধ্যমে ধ্বংসপ্রাপ্ত হত তবুও তাদের দূর্দশা ও কষ্ট শেষ হত না। কেননা তাদের সকল কর্মকাণ্ড পরকালে আযাবরূপে জাহির হত এবং তারা কঠিন আযাবে নিমজ্জিত হত। কিন্তু এখন তারা (পৃথিবীতে তারা দূর্দশাগ্রস্থ এবং) পরকালের আযাবও তাদের জন্য অবশিষ্ট রয়েছে।

আয়াতুল্লাহ সুবহানী বলেন: এটা মনে করা উচিত হবে না যে, ইহকাল ও পরকালে মহান আল্লাহর আযাব বিনা কারণেই ঘটবে। তারা (ইহুদীরা) মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (স.) এর সাথে শত্রুতার কারণে পার্থিব আযাবের সম্মুখীন হয়েছে। আর এ পৃথিবীতে ঘরছাড়া ও পরকালে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হয়েছে।

তিনি আজারবাইজানের সরকারের ছলচাতুরতার প্রতি ইশারা করে বলেন: এ দলটি তাদের কর্মতৎপরতা শুরুর কিছুদিন পর হতে আল্লাহর সাথে শত্রুতার পথ অবলম্বন করে মার্কসিজম ও বস্তুবাদের পথের প্রচারক হিসবে আত্মপ্রকাশ করেছে। কিন্তু আমরা দেখেছি যে ১৩২৫ সালের (সৌরবর্ষ) ২১শে আবান (ফার্সী মাস) তারা ক্ষমতায় পৌঁছার সাথে সাথে ক্ষমতাচ্যুত হয়। আর এটাই হচ্ছে মহান আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (স.) এর সাথে শত্রুতা পোষণের ফল।#