$icon = $this->mediaurl($this->icon['mediaID']); $thumb = $this->mediaurl($this->icon['mediaID'],350,350); ?>
আয়াতুল্লাহ্ রেজা উস্তাদি :

বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন কোন ব্যক্তি শিয়া ইতিহাস অস্বীকার করতে পারবে না

  • News Code : 306874
  • Source : আবনা

ইরানের পবিত্র কোম নগরী’র জুমআর খতিব বলেছেন : মহানবী (স.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মাযহাবের অনুসারী হতে পেরে আমরা গর্বিত এবং বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন কোন ব্যক্তি শিয়া মাযহাবের ইতিহাসকে অস্বীকার করতে পারবে না।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পবিত্র কোম নগরী’র জুমআর খতিব আয়াতুল্লাহ রেজা উস্তাদি, হযরত ফাতেমা যাহরা (সা. আ.) এর পবিত্র শাহাদাত বার্ষিকী এবং ‘আয়াতুল্লাহ আল উজমা হুজ্জাত কুহ কামরেয়ী’র স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে –যা কোমের ফিকাহ প্রশিক্ষণ বিষয়ক কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়- বলেছেন : অতিতকাল হতে শিয়া মাযহাবের অস্তিত্বের বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়, কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবেই এ প্রশ্নের উত্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন : শিয়া মাযহাবের অস্তিত্বের বিষয়ে সন্দেহের জন্ম দান, এ মাযহাবের বিরোধীদের শত্রুতা ও তাদের কুউদ্দেশ্যেরই প্রমাণ স্বরূপ।

কোমের জুমআর খতিব বলেন : বিদ্যমান বিভিন্ন দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় যে, শিয়া মাযহাবের বিষয়টি স্বয়ং মহানবী (স.) এর যুগ থেকেই উত্থাপিত হয়েছে। যদি এ অবস্থায় কেউ সন্দেহপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে তবে তার অর্থ হচ্ছে, ইতিহাস ও রেওয়ায়েত সম্পর্কে সে অবগত নয়।

হাওযা ইলমিয়া কোমের শিক্ষক পরিষদের সদস্য বলেন : যেভাবে হযরত ইমাম খোমেনী (রহ.) তার রাজনৈতিক ওসিয়ত নামায় লিখেছিলেন, আমরা গর্বিত যে, আমরা এমন একটি মাযহাবের অনুসারী যার প্রতিষ্ঠাতা স্বয়ং মহানবী (স.) এবং আমরাও এ মাযহাবের অনুসারী হয়ে গর্বিত।

আয়াতুল্লাহ উস্তাদি বলেন : মহানবী (স.) এর ইন্তেকালের পর যারা পৃথিবী ও ধোকাবাজদের ধোকায় পড়েনি তাদের সংখ্যা ছিল অতি নগন্য। কিন্তু এটা বলা সত্যিই অন্যায় হবে যে, কোন শিয়াই তখন ছিল না। বরং ঐ সময়েই শিয়াদের একটি অংশ আবু বকরের খেলাফতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন।

যদি শিয়া মাযহাবের জন্ম নতুন কিছু হয়ে থাকে, তবে মুয়াবিয়া কাদের সাথে বিরোধিতা করতো –এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন : মুয়াবিয়া, আলী ইবনে আবি তালিব (আ.) এর শিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে; যদি আলী ও তার শিয়ারা (অনুসারীরা) না থাকতো তবে মুয়াবিয়া কাদের বিরোধিতা করেছিল।

হাওযা ইলমিয়া কোমের শীর্ষস্থানীয় এ শিক্ষক, ইমামগণ (আ.) এর যুগে শিয়াদের বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে বলেন : আমিরুল মু’মিনীন (আ.) এর শাহাদাতের পর হতে ইমাম সাজ্জাদ (আ.) এর যুগ অবধি শিয়ারা অত্যন্ত কষ্টের মাঝে দিনাতিপাত করেছে। কিন্তু ইমাম বাকের (আ.) ও ইমাম সাদেক (আ.) এর যুগে শিয়া মাযহাবের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে; এমনকি স্বয়ং ইমাম সাদিক (আ.) ৪ হাজার রাবী [রেওয়ায়েত বর্ণনাকারী] প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।

শিয়াদের বিরুদ্ধে শত্রুদের শত্রুতা সর্বকালেই ছিল –এ কথা উল্লেখ করে হাওযা ইলমিয়া [ধর্মীয় উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান] কোমের প্রখ্যাত এ শিক্ষক বলেন : চতুর্থ হিজরীতে, মহান আল্লাহর ইচ্ছায় শিয়ারা হুকুমত লাভ করে, কিন্তু ইতিহাসে কুউদ্দেশ্য পোষণকারী ও শত্রুরা তাদের শত্রুতার ধারবাহিকতা রক্ষা করতে গিয়ে চতুর্থ হিজরীতে শিয়া মাযহাবের জন্ম হয় বলে উল্লেখ করেছে। যখন ইতিহাস এর সাক্ষ্য যে, চতুর্থ হিজরীতে সাইয়্যেদুশ শোহাদা (আ.) এর জন্য আযাদারী’র বিষয়টি ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে এবং আহলে বাইত (আ.) এর শিক্ষা জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক আকারে বর্ণিত হয়।

আয়াতুল্লাহ উস্তাদি, শিয়া ও সুন্নিদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির লক্ষ্যে শত্রুদের অপচেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেন : পঞ্চম ও ষষ্ঠ হিজরীতে শিয়া ও সুন্নিদের মাঝে অনেক মতভেদ দেখা দেয়; যেভাবে শত্রুরা আজও শিয়া ও সুন্নিদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টিতে সোচ্চার। এ ইতিহাস হতে শিক্ষা নিতে হবে, কেননা বিভেদ ও মতভেদের সমাধান হত্যা ও রক্তপাত নয়, বরং আলোচনা ও মুনাযিরা’র মাধ্যমে সম্ভব।

তিনি বলেন : কেউ কেউ শিয়া মাযহাবের উত্পত্তি সাফাভী শাসনামলে বলে অভিযোগ তুলেছেন; তারা বলেন যে, প্রথম ১০ হিজরীতে শিয়া মাযহাবের কোন অস্তিত্ব ছিল না। তার এমতাবস্থায় এ ধরণের মন্তব্য করেন যখন শিয়া মাযহাবের ইতিহাস অস্বীকার করা কোন বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়।

ইমাম খোমেনী (রহ.) শিয়া মাযহাবকে বিশ্বের মানুষের মাঝে পরিচিত করেছেন –এ কথা উল্লেখ করে কোমের জুমআর খতিব বলেন : ইমাম খোমেনী’র বৃহৎ খেদমতসমূহের একটি বরং তার সর্ববৃহৎ খেদমত হচ্ছে সমগ্র বিশ্বে শিয়া মাযহাবের পরিচয় তুলে ধরা এবং আজ শিয়া মাযহাব শুধুমাত্র ইসলামি দেশসমূহে নয় বরং সমগ্র বিশ্বে এ মাযহাবের আলো ছড়িয়ে পড়েছে।

তিনি তার বক্তব্যের অপর অংশে হযরত ফাতেমা যাহরা (সা. আ.) হতে একটি রেওয়ায়েত বর্ণনা করে বলেন : ইমামগণ (আ.) এর নির্দেশ পালন আহলে বাইত (আ.) এর সন্তুষ্টির কারণ এবং নিষ্পাপ ইমামগণ (আ.) এর প্রতি শিয়াদের ভালবাসার প্রকাশ স্বরূপ।

আয়াতুল্লাহ উস্তাদি বলেন : বর্তমান যুগে আহলে বাইত (আ.) এর সাথে বন্ধুত্ব ও ভালবাসা রক্ষা করা এবং নিজের আকিদা রক্ষা করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য একটি কাজ, আর তাই জীবনের প্রতি মুহূর্তে মহান আল্লাহকে স্মরণ করা উচিত।#