$icon = $this->mediaurl($this->icon['mediaID']); $thumb = $this->mediaurl($this->icon['mediaID'],350,350); ?>

হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর প্রতি অবমাননার অর্থ হল মুসলমানদের বিজয় ও শত্রুদের পরাজয় : রাহিমপুর আযগাদী

  • News Code : 356459
  • Source : ABNA
ইরানের সাংস্কৃতিক বিপ্লব পরিষদের সদস্য বলেছেন : আহলে বাইত (আ.) এর ব্যখ্যায় ইসলাম ধর্মকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এবং শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের মাঝে সংঘর্ষ এড়িয়ে প্রচার করা বর্তমানে আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সদস্য ও বিশিষ্ট্য শিক্ষক জনাব রাহিম পুর আযগাদী ‘ইসলামি পবিত্র নিদর্শনের প্রতি অবমাননার বিষয়ে পর্যালোচনা ভিত্তিক’ ইরানের হাওযা ইলমিয়া’র আন্তর্জাতিক বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক সভায় বলেছেন : যতদিন পর্যন্ত শত্রুরা ইসলামের বিষয়ে উদ্বিগ্ন থাকবে এবং ইসলাম ধর্মকে একটি সভ্যতার জন্মদানকারী ও তাদের অত্যাচারী সরকারসমূহের প্রতিদ্বন্দী হিসেবে মনে করবে ততদিন তারা ইসলামি নিদর্শনসমূহের প্রতি অবমাননা অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন : যদি ইসলামের যুগ শেষ হয়েই যেত এবং তারা একটি নিস্প্রাণ বস্তুর সম্মুখে অবস্থান করতো তবে তারা কখনই এত পরিমাণে অনুসন্ধান ও গবেষণা করত না। পশ্চিমা বিশ্বে যারা ধর্ম বিষয়ে পড়াশুনা ও ধর্ম বিষয়ক সভার আয়োজন করে, তারা জানে যে, ইসলাম ধর্ম দিনের পর দিন উন্নতি করছে।

‘অবমাননা কোন সময় হতে শুরু হয়েছে’-এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন : ইসলামি সভ্যতা সৃষ্টির বিষয়টি যে দিন হতে উত্থাপিত হয়েছে এবং ইসলাম ধর্ম সংস্কৃতি, নৈতিকতা (ব্যক্তিগত ও সামাজিক উভয় অঙ্গনে), সরকার গঠন এবং সভ্যতার সৃষ্টির দাবী করেছে সেদিন হতে তারা ইসলাম ধর্মের প্রতি অবমাননার অপচেষ্টায় উত্সাহিত হয়েছে।

জনাব রাহিমপুর আযগাদী বলেন : এ ধরণের অবমাননা এক দৃষ্টিকোন হতে স্বয়ং ইসলাম ধর্মেরই স্বার্থসিদ্ধ এবং আরেক দৃষ্টিকোন হতে মন্দ। এ জন্য মন্দ যে, এর মাধ্যমে মহানবী (স.) এর অবমাননায় কাদা ছোঁড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে এবং এ জন্য ভাল যে, এটা স্পষ্ট হয়েছে তারা ইসলাম নামের কোন লাশের বিপরীতে নয় বরং জীবিত একটি ইসলামের সম্মুখে অবস্থান করছে। তারা বুঝতে পেরেছে ইসলাম মৃতদেহ গোসলদানকারীর হাতের কোন লাশ নয় বরং ইসলাম একটি জীবন্ত ধর্ম।

তিনি বলেন : এ ধরণের অবমাননা নতুন কিছু নয়, ক্রশের যুদ্ধ এবং রেনেসা’র সময় হতে ক্যাথোলিকরা অবমাননা করতো; তারা মহানবী (স.) কে কার্ডিন্যাল খ্রিষ্টান ধর্মত্যাগী হিসেবে পরিচয় করাতো। ১২ শতাব্দীর পর হতে তাদের বিভিন্ন শিল্পকর্মে মহানবী (স.) এর ব্যঙ্গাত্মক ছবি উপস্থাপন করতো এবং তারা চাইতো ইউরোপের জন্য একটি অনুদিত কুরআন রাখতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত এ শিক্ষক বলেন : প্রটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায়ের ‘লুটার’ হস্তলিখিত একটি কুরআনের অনুবাদ করে দাবী করেছিল যে, এটা কুরআন। আর তারপর হতে প্রটেস্ট্যান্টরা সকল পবিত্র বিষয় –হযরত ঈসা (আ.), হযরত মারিয়াম (আ.) ও হযরত মুহাম্মাদ (স.) এবং ইসলাম ধর্মের প্রতি অবমাননা করা শুরু করে; কেননা তাদের দৃষ্টিতে একমাত্র মূল্যবোধের অধিকারী বস্তু ছিল শক্তি এবং সম্পদ।

তিনি বলেন : এ কারণেই ওবামা (মার্কিন প্রেসিডেন্ট) মুসলমানদের প্রতিবাদের জবাবে বলেছিলেন : ‘আমাদের দেশেও হযরত মাসীহ এবং মারিয়ামের প্রতি অবমাননা হয়, মুসলমানদের অসন্তুষ্ট হওয়ার কোন কারণ নেই’। যদি তিনি সত্যিই বলে থাকেন, তবে কোন জায়নবাদী এবং শক্তি ও সম্পদ ভিত্তিক কেন্দ্রের প্রতি অবমাননা করা হলে কি ওবামা একই কথা বলবেন।

বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং মিছিলের আয়োজন উত্তম কাজ –এ কথা উল্লেখ করে ইরানের সাংস্কৃতিক বিপ্লব পরিষদের সদস্য বলেন : শুধুমাত্র এতটুকু তত্পরতার মাঝে নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বরং হাওযা ইলমিয়ার (উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) কাঁধে এরচেয়ে গুরুদায়িত্ব রয়েছে। এ অপেক্ষায় থাকবেন না যে, অবমাননা করার পর সোচ্চার হতে হবে এবং মহানবী (স.) কে বিশ্ববাসীর সম্মুখে পরিচয় করাতে হবে।

ইসলাম ধর্মের প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের ক্রোধের কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন : ইসলাম ধর্ম সকল আলোচনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে; ইসলাম ধর্মের মাধ্যমে ক্রুশ ও পুঁজিবাদীদের আলোচনা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। এটি এমন এক যুদ্ধ যাতে ইসলামের শত্রুরা মুসলিম বিশ্বের সম্মুখে এক কাতারে অবস্থান নিয়েছে।

জনাব রাহিম পুর বলেন : যারা বর্তমানে দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়েছে তাদেরকে গুরুত্ব দেবেন না, এরা প্রকাশ্যে দৃশ্যপটে উপস্থিত হলেও এর গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের বাহক গাধা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আপনাদের মনোযোগ যেন ছিন্ন না হয়, তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলিম বিশ্বে আগত ইসলামি জাগরণকে ইতিহাসের একটি তুচ্ছ ঘটনা হিসেবে পরিচয় করানো।

আরব বিশ্বে সকলে ‘আল্লাহু আকবার’ শ্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এদের সকলের মাঝে যে যৌথ বিষয়টি খুঁজে পাওয়া যায় তা হচ্ছে তারা পশ্চিমা ঘেঁষাও নয় আবার ওয়াহাবী ঘেঁষাও নয়, তারা ইসলামপন্থী আর আমাদের আকাঙ্খা এটাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষক ও বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মুসলিম দেশসমূহে ইসলামি জাগরণের সম্মুখে বিদ্যমান বাধা-বিপত্তির কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন : সুন্নি মাযহাবের ফিকাহ ও কালাম শাস্ত্র শিয়াদের থেকে আলাদা। আর তাই ইজতিহাদের মত বিষয় হতে সুন্নি মাযহাব বঞ্চিত এবং একটি মাযহাবে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় না থাকলে এ বিপদের আশংকা করা যায় যে, আরব ইসলামপন্থীরা হয় ওয়াহাবিয়্যাত ও তাকফিরীদের পাতা ফাঁদে পা দিবে অথবা উদারপন্থী মনোভাব নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের শরণাপন্ন হবে।

তিনি আরো বলেন : মোদ্দাকথা হল মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এবং পশ্চিমা বিশ্ব চায় ইতিহাসে দৃষ্টান্তহীন এ পরিবর্তনকে মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় যুদ্ধ, শিয়া ও সুন্নির যুদ্ধ বা সাম্প্রদায়িক যুদ্ধ অথবা বর্ণবাদী যুদ্ধের নামে বিভ্রান্ত করতে। আর এটাই হল তাদের সম্মুখে উন্মুক্ত একমাত্র পথ, দুঃখজনকভাবে এটাই হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় দূর্বলতা।

তারা (ইসলামের শত্রুরা) মহানবী (স.) হতে অসন্তুষ্ট, কেননা মহানবী (স.) এ সকল পরিবর্তনের মূলে –এ কথা উল্লেখ করে ইরানের সাংস্কৃতিক বিপ্লব পরিষদের সদস্য বলেন : ধর্ম ও মাযহাবগত যুদ্ধের নামে যে ফাঁদ পাতা হয়েছে তা হতে সতর্ক থাকতে হবে। ধর্ম বা মাযহাব ভিত্তিক যুদ্ধ কখনই যুদ্ধ-বিগ্রোহের মাধ্যমে সমাধান হয়নি এবং