$icon = $this->mediaurl($this->icon['mediaID']); $thumb = $this->mediaurl($this->icon['mediaID'],350,350); ?>

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর পবিত্র হজ্ববাণী

  • News Code : 359953
  • Source : Radio Tehran

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। ও সালাওয়াতুল্লাহি ও সালামিহি আলার রাসূলিল আ’যামিল আমিন ও আলা আলিহিল মুতাহহিরিনাল মুনতাজাবিন ওসাহবিহিল মাইয়ামিন।

রহমত ও বরকতপূর্ণ হজ্বের মৌসুম আবার এসেছে। সেইসঙ্গে আবার এসেছে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের নূরানী প্রতিশ্রুতির স্থানে উপস্থিত হবার পরম সৌভাগ্যের সময়। এই পবিত্র স্থান এবং এই কাল বা সময় হজ্বযাত্রীদেরকে আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত উন্নয়নের দিকে আহ্বান জানায়। এখানে মুসলিম নারী পুরুষ অন্তর ও ভাষা দিয়ে মহান আল্লাহর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে নিজেদের উপস্থিতির ঘোষণা দিয়ে লাব্বায়িক ধ্বনি তোলেন। সবাই এখানে পরহেজগারী, অভিন্ন বর্ণ এবং ভ্রাতৃত্ব চর্চা করার সুযোগ ও শিক্ষা পান।

হজ্ব একটা প্রশিক্ষণমূলক কর্মশালা। হজ্ব হচ্ছে উম্মাতে ইসলামীর বৈচিত্র, মর্যাদা ও ঐক্যের প্রদর্শনী। হজ্ব হচ্ছে শয়তান এবং তাগুতের বিরুদ্ধে সংগ্রামী চেতনায় উদ্দীপ্ত হবার স্থান। খোদায়ে হাকিম ও কাদির এই স্থানটিকে এমন একটি মহান জায়গায় পরিণত করেছেন যেখানে এসে মুমিনরা নিজেদের প্রকৃত স্বার্থ দেখতে পান। আমরা আমাদের বুদ্ধিদীপ্ত দৃষ্টিকে প্রসারিত করলে দেখতে পাবো ঐশী এই প্রতিশ্রুতি আমাদের ব্যক্তিগত এবং সামাজিক জীবনব্যাপী বিস্তৃত। হজ্বের আচার আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে ইহলোক এবং পরলোকের ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্রণ যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে সামাজিক এবং ব্যক্তিগত জীবনেরও মিশ্রণ।

জাঁকজমকপূর্ণ অথচ অলংকারবিহীন একটি কাবা; স্থায়ী এই কাবাকে ঘিরে অন্তরাত্মা এবং দেহগুলোর বৃত্তাকার আবর্তন; একটি সূচনা ও সমাপ্তির মধ্যে ছন্দোময় ও সুশৃঙ্খল চেষ্টা-প্রচেষ্টা; আরাফাতের ময়দান এবং মুযদালিফার মতো অঙ্গনগুলোতে সবার উপস্থিতি-যেখানে এলে সবার অন্তরাত্মাই সতেজ-সজীব হয়ে ওঠে-ইত্যাদি আনুষ্ঠানিকতাগুলো শয়তানকে মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে সামষ্টিক আক্রমণের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলে। এখানে সবার সমবেত পদক্ষেপ বুঝিয়ে দেয় মানুষ বর্ণের উর্ধ্বে, সব ধরনের ভৌগোলিক সীমারেখারও উর্ধ্বে। হজ্বের এসব আনুষ্ঠানিকতা পরিপূর্ণ ইঙ্গিতবহ ও রহস্যময়.. হজ্বের অনন্য সাধারণ এসব কর্মসূচি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ও গভীর অর্থবহ।

হজ্ব এমন একটি অনুষ্ঠান যা আল্লাহর সঙ্গে অন্তরগুলোকে যেমন সংশ্লিষ্ট বা সম্পৃক্ত করে তেমনি মানুষের শূন্য অন্তরগুলোকে ঈমান ও তাকওয়ার নূরের আলোয় উজ্জ্বল করে তোলে। সেইসঙ্গে ব্যক্তিকে তার অহমিকার বৃত্ত থেকে বাইরে নিয়ে আসে এবং উম্মাতে ইসলামীর বৈচিত্রপূর্ণ সমাবেশের মধ্যে দ্রবণের মতো গলিয়ে মিশিয়ে দেয়।  হজ্বে এসে গুনাহের বিষাক্ত তীরের ফলাগুলো থেকে আত্মরক্ষার জন্যে পরহেজগারীর পোশাক পরিধান করতে হয়, এর ফলে শয়তান এবং তাগুতি শক্তিগুলোকে আক্রমণ করার স্পৃহা সৃষ্টি হয়। এখানে অর্থাৎ হজ্বে এসে হজ্বযাত্রীরা মুসলিম উম্মাহ’র বিশাল বিস্তৃতির একটা নমুনা দেখতে পায় এবং তাদের শক্তি সামর্থ্যের ব্যাপারেও সচেতন হয়। সেজন্যে আশাবাদী দৃষ্টি দিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকায় এবং সৃষ্টিশীল ভূমিকা রাখার ব্যাপারে প্রস্তুতি নেয়ার বিষয়টি উপলব্ধি করে।

হজ্বযাত্রীরা যদি আল্লাহর সাহায্য ও কৃপা লাভে ধন্য হয় তাহলে শ্রেষ্ঠনবীর সঙ্গে তথা ইসলামের সঙ্গে আবার সুদৃঢ় বাইআত গ্রহণের সুযোগ লাভ করে। সেইসঙ্গে আত্মসংশোধন এবং উম্মাতের সংস্কারের জন্যে ‘ইসলাম’ নামক মহান শব্দটি নিজের ভেতরে দৃঢ়তার জন্ম দেয়। এই দু’টিই অর্থাৎ আত্মশুদ্ধি এবং উম্মাহর সংস্কারের দায়িত্ব ও কর্তব্যটি অনিবার্য ও নিরন্তর। দ্বীনী এ দায়িত্বের প্রতি গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিলে এবং প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তাকে ঠিকমতো কাজে লাগালে দেখা যাবে, সমাজ ও আত্মসংস্কারের উপায়গুলো কঠিন নয়। আত্মশুদ্ধির কাজটি শুরু হয় গুনাহের কাজ পরিহার করার চেষ্টা এবং শয়তানী মানসিকতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার মধ্য দিয়ে। আর সমাজ সংস্কারের কাজটি শুরু হয় শত্রুকে চেনা, তার কাজ ও ভূমিকার ব্যাপারে সচেতন হওয়া, শয়তানের শত্রুতা ও প্ররোচনার আঘাতগুলোকে অকেজো করার জন্যে সংগ্রাম করার মধ্য দিয়ে। মুসলমানদের ঐক্য, তাদের দৃঢ় মন এবং অভিন্ন ভাষা থেকে সংগ্রাম করার শক্তি অর্জিত হয়।

সময়ের এই ক্রান্তিলগ্নে মুসলিম বিশ্বের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায় সংঘটিত বিপ্লব। এসব বিপ্লব মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যত নির্মাণ করবে। এসব বিপ্লবের মধ্য দিয়ে এরইমধ্যে ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং তাদ