$icon = $this->mediaurl($this->icon['mediaID']); $thumb = $this->mediaurl($this->icon['mediaID'],350,350); ?>
সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ :

সাম্প্রদায়িক যুদ্ধের তামাশা দেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল / মহানবী (স.) এর প্রতি অবমাননা ইসলামের সম্মুখে বিদ্যমান সর্ববৃহত চ্যালেঞ্

  • News Code : 385153
  • Source : ABNA
লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান বলেছেন : যারা মহানবী (স.) এর প্রতি অবমাননার নেপথ্যে রয়েছে তারা জানে যে, ঘৃণ্য এ কাজের মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য কি। আমরা পূর্বেও বলেছি যে, তারা মুসলমান এবং খ্রিষ্টানদের মাঝে এমনকি মুসলমানদের মাঝে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর অপচেষ্টায়রত।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান ‘সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ’ হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী ও ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে বক্তৃতাকালে মহানবী (স.) এর ব্যক্তিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁর জীবনের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে বক্তব্য শুরু করেন।

মহানবী (স.), ইসলাম ধর্ম তথা তাঁর আনীত দ্বীনের অবমাননায় পরিকল্পিত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে লেবাননের হিজবুল্লাহ প্রধান একে বর্তমানে ইসলামের সম্মুখে বিদ্যমান সর্ববৃহত চ্যালেঞ্জ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন : যখন কোন অবমাননাকর বই, চলচ্চিত্র –যাতে আমাদের ধর্ম সম্পর্কে কোনরূপ পর্যালোচনা করা হয় না- আমাদের সামনে আসে তখন আমাদের উচিত নিজেদের ক্রোধের প্রকাশ ঘটানো। এক্ষেত্রে আমাদের ইতিবাচক একটি কর্তব্যও রয়েছে, আর তা হল বিশ্বকে আল্লাহর রাসূল (স.) এর ব্যক্তিত্ব, তাঁর জীবনবৃত্তান্ত, তাঁর জীবনের বিভিন্ন দিক, তাঁর আনীত ধর্ম এবং তাঁর বাণীসমূহের বিষয়ে পরিচিত করা।

তিনি বলেন : কিছু কিছু বিষয় রয়েছে যা অন্যায়ভাবে মহানবী (স.) এর সাথে সম্পৃক্ত করা হয়, এ বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা তুলে ধরতে হবে এবং সাধারণ মানুষ হতে আলাদা ব্যক্তিত্বের অধিকারী এ ঐশী ব্যক্তিত্বকে বিশ্বের বুকে পরিচয় করাতে হবে।

জনাব নাসরুল্লাহ বলেন যে, যারা মহানবী (স.) এর প্রতি অবমাননার নেপথ্যে রয়েচে তারা জানে যে, ঘৃণ্য এ কাজের মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য কি। আমরা পূর্বেও বলেছি যে, তারা মুসলমান এবং খ্রিষ্টানদের মাঝে এমনকি মুসলমানদের মাঝে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর অপচেষ্টায়রত।

হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন : বর্তমানে সর্বসাধারণের সম্মুখে বিদ্যমান সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, যখন আমরা মধ্যপ্রাচ্যের দিকে দৃষ্টি দেই দেখতে পাই যে, বিভিন্ন আরবি ও ইসলামি দেশে সংঘর্ষ, বিভেদ-বিচ্ছেদ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এ বিভেদ হয়তবা মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের মাঝে অথবা শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যে বলে মনে হয়।

তিনি বলেন : কিন্তু বর্তমানে সংঘর্ষের মূল রূপটি সাম্প্রদায়িক ও মাযহাবগত বিষয় অতিক্রম করেছে; কিছু কিছু আরব দেশ রয়েছে যেগুলোর সকল জনগণই একটি মাযহাবের অনুসারী কিন্তু তাতেও আমরা অস্থিতিশীলতা দেখতে পাচ্ছি। কেননা প্রতিটি আরব ও ইসলামি দেশে বিভিন্ন চিন্তাধারা বিদ্যমান, আর তাই এ অঞ্চলে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জকে শুধুমাত্র সাম্প্রদায়িক সমস্যার মাঝে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়।

জনাব নাসরুল্লাহ্ বলেন : এ বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে যে, লেবানন মধ্যপ্রাচ্যের একটি অংশ এবং আমরাও (হিজবুল্লাহ) এর ক্ষুদ্র একটি অংশ। আর লেবানন এমন একটি দেশ যাতে মধ্যপ্রাচ্যে ঘটমান ঘটনার সর্বাধিক প্রভাব পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তনের বিষয়ে পর্যালোচনা করতে গিয়ে বলতে হয়, মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এমন কিছু সংঘর্ষের মুখোমুখি যে, তা হতে কারো ভয় পাওয়ার কিছু নেই; কেননা এ বিষয়টি ইতিহাসের বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ধারাবাহিক ছিল। এরচেয়ে বড় বিপদ হচ্ছে যে, এ বিপর্যয় ও সংকটের সমাধান আমাদের যদি জানা না থাকে।

তিনি বলেন : বিপজ্জনক বিষয়টি হচ্ছে যে, সৃষ্ট বিপর্যয়ের মোকাবেলায় আমরা যদি কোন সমাধান বের না করতে পারি। কিন্তু যদি দায়িত্বশীলতার সাথে এ বিপর্যয়ের মোকাবেলায় মাঠে নামি তবে আগামীতে ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে এমন নেতিবাচক বিভিন্ন ঘটনাকে পেছনে ফেলতে সক্ষম হব।

তিনি আরো বলেন : মুসলমানদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ ছিল বনি আব্বাস ও বনি উমাইয়ার যুদ্ধ। এ যুদ্ধের সাথে শিয়া ও সুন্নিদের কি সম্পর্ক রয়েছে? এ যুদ্ধ ছিল ক্ষমতা দখলের যুদ্ধ।

হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন : আমাদের সম্মুখে এমন দেশও রয়েছে যে দেশের নাগরিকরা বিভিন্ন ধর্ম বা মাযহাবের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও তাদের মাঝে সর্বক্ষণ সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ লেগে থাকে না। আমার উদ্দেশ্য সকল যুদ্ধ ও সংঘর্ষ নয়; কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগুলোর নেপথ্যে ক্ষমতাসীন শক্তিগুলোর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং শিয়া ও সুন্নি বা ইসলাম বা খ্রিষ্টান ধর্মের সাথে এর কোন সম্পৃক্ততা নেই।

জনাব নাসরুল্লাহ বলেন : কয়েক বছর পূর্বে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বিপজ্জনক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে; কুয়েতের বিরুদ্ধে সাদ্দাম হোসেনের যুদ্ধ, এ যুদ্ধ কি ধর্মের যুদ্ধ ছিল? এ যুদ্ধটি ছিল ভূখণ্ড দখলের যুদ্ধ, কিন্তু কেউ কেউ এ বিষয়টি হতে অন্যায় সুযোগ গ্রহণ করতে পারে।

তিনি আরো বলেন : উত্তম কাজটি হল, সৃষ্ট সংঘর্ষকে রাজনৈতিক দৃষ্টিতে দেখা এবং সাম্প্রদায়িক ও মাযহাবগত দৃষ্টিতে নয়। সকল প্রকার দল ও মাযহাবের বিষয়কে এড়িয়ে যেতে হবে, কেননা হয়তবা কেউ দৈত্যকে যাদুর প্রদ্বীপ হতে বের করে আনতে পারে কিন্তু পূনরায় সেটাকে যাদুর প্রদ্বীপে ফেরাতে ব্যর্থ হয়, তাই আমাদেরকে অবশ্যই এ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন : আমাদেরকে উচিত বুদ্ধিবৃত্তির মাধ্যমে যোক্তিকভাবে এ সমস্যার সমাধান করা। কেননা এটা সংঘর্ষের উত্তম চেয়ে রাস্তা। আর সংঘর্ষ জাতিসমূহ ও দেশসমূহকে ধ্বংস করে দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তা মজা করে বসে তামাশা দেখে।

তিনি তার বক্তব্যের একটি অংশে ইসরাইলের নির্বাচনের প্রতি ইশারা করে বলেন : ইসরাইলের নির্বাচন হতে এ ফলাফলে পৌঁছানো যায় যে, বর্তমানে ইসরাইলের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানের জনপ্রিয়তায় হ্রাস পেয়েছে, যারা অবৈধ এ দেশটির নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। এছাড়া এ নির্বাচনে এমন কোন শক্তিশালী দল ছিল না যে, যথাযথভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার ভূমিকা পালন করতে পারে। আর এ বিষয়টি স্বয়ং নাতানিয়াহুর কথাতেই ফুটে উঠেছে যে, তিনি সর্বদা এ বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, তার দেশে শক্তিশালী কোন দলের প্রয়োজন রয়েছে।

জনাব নাসরুল্লাহ বলেন : ইসরাইলের নির্বাচনের আরো কিছু দিক ছিল নেতৃত্বের সংকট, ধর্মভিত্তিক উগ্রতাবাদীদের মাঝে অস্থিতিশীলতা এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলসমূহের সংখ্যাধিক্য। এ বিষয়টি রাজনৈতিক যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরাইলকে সমস্যায় ফেলে দেব