?>

আফগানিস্তানের পরিস্থিতিতে ইরানের উদ্বেগ প্রকাশ: ফের নামতে পারে শরণার্থীর ঢল

আফগানিস্তানের পরিস্থিতিতে ইরানের উদ্বেগ প্রকাশ: ফের নামতে পারে শরণার্থীর ঢল

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শরণার্থীদেরকে আশ্রয় দিয়েছে যাদের মধ্যে বেশিরভাগই হচ্ছে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের নাগরিক। কোন বৈষম্য ছাড়াই অনেকটাই ইরানি নাগরিকদের মতোই তারা এখানে জীবনযাপন করছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা) : ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদেশি ও অভিবাসন বিষয়ক পরিষদের মহাসচিব মাহাদী মাহমুদী তেহরানে আফগান সংসদের ধর্ম ও সংস্কৃতি বিষয়ক কমিশনের প্রধান আমির গুল শাহীসহ আরো কয়েকজন কর্মকর্তাদেরকে দেয়া সাক্ষাৎ আফগানিস্তানের বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এতে কোন সন্দেহ নেই যে আফগানিস্তানে চলমান সহিংস পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব ইরানের উপরও পড়বে। এর অন্যতম প্রভাবে এ অঞ্চলে শরণার্থী সংকট ভয়াবহ রূপ নিবে। গত বেশ ক'বছর ধরে আফগানিস্তান ও ইরান সরকার আফগান শরণার্থীদেরকে নিজ দেশে ফিরে যেতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করলেও এখনো বিরাট সংখ্যক শরণার্থী দেশে ফিরে যেতে পারেনি। বিশেষ করে আফগানিস্তানে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হওয়ায় এবং সহিংস ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আফগান শরণার্থীর ঢল নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ এবং আফগানিস্তানের অভিবাসন বিষয়ক দফতরের বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে জানা যায়, সম্প্রতি আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে তালেবানের সাথে সরকারি সেনাদের তীব্র সংঘর্ষ হওয়ায় এবং বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে আবার আফগান শরণার্থীর ঢল নামতে পারে। জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ সমন্বয়কারী দফতরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে বহু আফগান নাগরিক তাদের এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। ঘরবাড়ি হারা এসব শরণার্থীদের প্রায় ৬০ শতাংশই হচ্ছে শিশু যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। আফগানিস্তানের অভিবাসন মন্ত্রী নুর আলম রহমান আখলাকি বলেছেন, বর্তমানে প্রায় ২৫ লাখ আফগান নাগরিক ইরানে আশ্রয় নিয়েছে যাদের অনেকের হাতেই পরিচয় পত্র নেই।

বাস্তবতা হচ্ছে, আফগানিস্তানে চলমান নিরাপত্তাহীনতা ও সহিংসতা এবং দেশের ভেতরে ও বাইরে লাখ লাখ মানুষের শরণার্থী জীবনযাপন এইসবই গত বিশ বছর ধরে মার্কিন দখলদারিত্বসহ উগ্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা ও যুদ্ধবিগ্রহের ফল। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মাজিদ তাখত রাভানচি আফগানিস্তান বিষয়ক নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে সেদেশ থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, 'বিদেশি সেনারা আফগানিস্তানে ছেড়ে চলে যাওয়ায় সহিংসতা অব্যাহত রাখার জন্য তালেবানদের সামনে এখন আর কোন অজুহাত নেই। তাই অবশ্যই দ্রুত সহিংসতা বন্ধ করা উচিত। বাহুবল প্রদর্শন না করে তালেবানের উচিত তারা দেশের জন্য যে আন্তরিক সেটা প্রমাণ করা। রাজনৈতিক উপায়ে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তালেবানদের উচিত এই সুযোগকে কাজে লাগানো।'

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে শরণার্থীদের অবস্থাকে আরো সংকটাপন্ন করে তুলেছে। তাই নিঃসন্দেহে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। যদিও বৃহৎ শক্তিগুলোর অমানবিক নিষেধাজ্ঞার কারণে শরণার্থীদের পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে কিন্তু তারপরও ইরান নিজ দেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের দেখাশোনার ক্ষেত্রে কোনো কমতি রাখেনি। ইরান আফগানিস্তানে শান্তি ও নিরাপত্তাকে নিজের শান্তি ও নিরাপত্তা বলে মনে করে। এ কারণে আফগানদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে তেহরান।#

342/


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*