?>

আফগানিস্তানে আইএস জঙ্গিদের নৃশংসতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুযোগ এনে দিতে পারে

আফগানিস্তানে আইএস জঙ্গিদের নৃশংসতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুযোগ এনে দিতে পারে

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি হাসপাতালে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএস জঙ্গিরা বোমা হামলা চালিয়েছে। রাজধানীর কূটনৈতিক পাড়ায় ৪০০ শয্যার সরদার মোঃ দাউদ খান হাসপাতালে ওই সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত এবং আরো ৫০ জন আহত হয়েছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা) : আইএস জঙ্গিদের ওই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর আফগানিস্তানে অবস্থিত জাতিসংঘ প্রতিনিধি ইউনামা এক বিবৃতিতে বলেছেন, হাসপাতালের সাধারণ নাগরিক ও চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। হাসপাতালে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে বলেছেন ইসলামাবাদ যেকোনো সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানায়। এর আগে আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এবং দেশটির সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উচ্চ পরিষদের প্রধান আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহও আলাদা আলাদা বিবৃতিতে হাসপাতালে আইএস জঙ্গিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

তালেবান সরকার আইএস জঙ্গিদের যেকোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মোকাবেলার প্রতিশ্রুতি দিলেও সম্প্রতি তাদের নৃশংস হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। আইএস জঙ্গিদের একের পর এক হামলা আফগানিস্তানের নিরীহ জনগণের জন্য বিরাট সংকটে পরিণত হয়েছে। গত সপ্তাহে কুন্দুয ও কান্দাহার প্রদেশে দুটি শিয়া মসজিদে জুমার নামাজের সময় জঙ্গিদের বোমা হামলার পর তালেবান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জঙ্গিদের মোকাবেলায় তারা ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু হাসপাতালে বর্বরোচিত হামলার পর প্রমাণিত হয়েছে তালেবান আইএস জঙ্গিদের ঠেকাতে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। যদিও রাজধানী কাবুলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তালেবান কিন্তু দেশের অন্যান্য প্রদেশ ও শহরগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে তাদেরকে।

একদিকে আফগানিস্তানে দায়েশ বা আইএস জঙ্গিদের অব্যাহত হামলা অন্যদিকে জঙ্গিদের দমনে তালেবানের ব্যর্থতার কারণে শাসনকার্য ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে তালেবান কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। তাদের মতে আইএস জঙ্গিদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড মোকাবেলায় তালেবানের সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি না থাকাটা এ মূহুর্তে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। তালেবান শুধু যে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হচ্ছে তাই নয় একই সঙ্গে সব দল ও গোত্রের অংশগ্রহণে একটি অংশগ্রহণমূলক সরকার প্রতিষ্ঠায় এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আফগানিস্তানে সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নিরাপত্তাহীনতা বজায় থাকলে এবং নতুন করে গৃহযুদ্ধ বাধলে আমেরিকা আবারো তাদেরই তৈরি দায়েশ বা আইএস জঙ্গি বা অন্যান্য সন্ত্রাসীদের দমনের অজুহাতে আফগানিস্তানে সামরিক হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পেতে পারে। আফগানিস্তান বিষয়ক সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি জালমাই খালিল যাদেহ বলেছেন, আমেরিকা যদি আফগানিস্তানের আল কায়দার পক্ষ থেকে বিপদ অনুভব করে তাহলে ওই দেশটিতে তারা  হামলা চালাবে। এ অবস্থায় ধারণা করা হচ্ছে আফগান তালেবান যদি জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তাহলে আমেরিকা আবারো সন্ত্রাসীদের দমনের অজুহাতে আফগানিস্তানে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার সুযোগ পাবে।#              

342/


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*