?>

আবু তালিবের ঈমানের বিষয়ে সন্দেহকারী গুনাহগার: আলেপ্পোর মুফতি

আবু তালিবের ঈমানের বিষয়ে সন্দেহকারী গুনাহগার: আলেপ্পোর মুফতি

সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের শীর্ষস্থানীয় মুফতি বলেছেন: হজরত আবু তালিবের অন্তর ছিল ঈমানে পূর্ণ। স্পষ্ট বিভিন্ন দলীল ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতীয়মান যে, তিনি অত্যন্ত দৃঢ় বক্তব্যের মাধ্যমে মহানবি (স.) এর প্রশংসা করেছেন।

হলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ‘মহানবি (স.) এর সহযোগী আবু তালিব (আ.) আন্তর্জাতিক সম্মেলনে’ বক্তৃতাকালে সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের বিশিষ্ট সুন্নি মুফতি শায়খ মুহাম্মাদ উকাম তার বক্তব্যের শুরুতে এ সম্মেলন আয়োজনের জন্য আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থা এবং এর কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

হজরত আবু তালিব মু’মিন হওয়ার বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন: যে ব্যক্তি আবু তালিবের ঈমানের বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করবে এর গুনাহ স্বয়ং তারই আমলনামায় লেখা হবে। আবু তালিব ছিলেন মহানবি (স.) এর সাহায্যকারী এবং তাঁকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের পাশাপাশি তাঁকে বিভিন্ন সময় বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেছেন, তাঁর জন্য এবং তাঁর আনীত বার্তার জন্য মুশরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ করেছেন।

তিনি বলেন: হজরত আবু তালিব নিজের কথা ও অবস্থানের মাধ্যমে মহানবি (স.) এর প্রতি সমর্থন জানাতেন। আর যে বছর হজরত আবু তালিব ইন্তিকাল করেন সে বছরই উম্মুল মু’মিনীন হজরত খাদিজা পৃথিবী থেকে বিদায় নেন

সিরিয়ান এ মুফতি সূরা শুরা’র ২২ নং আয়াত ‘বল, ‘আমি (রেসালতের) পারিশ্রমিক বাবদ তোমাদের কাছে আমার  নিকট আত্মীয়দের ভালবাসা ও সৌহার্দ্য ব্যতীত অন্য কোন প্রতিদান চাই না।’ –এর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: আপনাদের উচিত হল, হজরত আবু তালিব প্রসঙ্গে অবস্থান গ্রহণের ক্ষেত্রে এ আয়াতের সাথে সামঞ্জস্যতা রাখা।

শায়খ উকাম সূরা কাহফের ১০৭ নং আয়াত ‘নিশ্চয় যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে তাদের অভ্যর্থনার জন্য আছে ফিরদাউস বেহেশ্ত’  উল্লেখ করে বলেন: এ ধরনের আয়াতের সংখ্যা বহু।

সিরিয়ার শীর্ষস্থানীয় এ আলেম বলেন: হজরত আবু তালিবের অন্তর ছিল ঈমানে পূর্ণ। স্পষ্ট বিভিন্ন দলীল ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতীয়মান যে, তিনি অত্যন্ত দৃঢ় বক্তব্যের মাধ্যমে মহানবি (স.) এর প্রশংসা করেছেন। তিনি তার কবিতায় স্পষ্ট ভাষায় ইসলাম ধর্মের প্রশংসা করেছেন। ইবনে আবিল হাদিদ তার শরহে নাহজুল বালাগাহ গ্রন্থে কবিতাগুলো উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন: ইতিহাসের আরও কিছু সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তাঁর ঈমানের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। হজরত আবু বকর বলেন: সে সত্ত্বার কসম যিনি সত্যকে তোমাদের জন্য প্রেরণ করেছেন, আমি আমার পিতার ইসলাম গ্রহণের চাইতে আবু তালিবের ইসলাম গ্রহণে অধিক আনন্দিত।

সুয়ূতি তার আল-খাসায়েস গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: মৃত্যুর সময় আবু তালিব বনি আব্দুল মুত্তালিবকে ডেকে পাঠায় এবং তাদের উদ্দেশ্যে ওসিয়ত করেন: তোমরা যদি মুহাম্মাদের কথা না শোনো, তাঁকে অনুসরণ না কর, তার নির্দেশ মেনে না চল তবে তোরা সফলকাম হবে না। আমার পর তোমরা তাঁকে অনুসরণ কর এবং তাঁকে সহযোগিতা কর যাতে সুপথ প্রাপ্ত হও।

তানকিহুল গ্রন্থের প্রণেতা বলেছেন: আবু তালিব বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীনভাবে ঈমানের অধিকারী ছিলেন। কিন্তু প্রকাশ্যে ও জনসম্মুখে তিনি ধর্মীয় বিধি-বিধান পালন করতেন না। আহলে সুন্নতের বহু সংখ্যক মনীষী আবু তালিবের ঈমানের প্রমাণে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাদের সবার নাম এখানে উল্লেখ করার অবকাশ নেই তবে তাদের মাঝে সুয়ূতি, যেইনি দাহলান, আল-বোরযাঞ্জি, শা’রানি, সাবকি, কুরতুবি, আবু যোহরা, উরফ প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।#176


সম্পর্কিত প্রবন্ধসমূহ

আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*