?>

আবু তালিব (আ.)-এর কবিতাসমূহ তার মু’মিন হওয়ার প্রমাণ : দাক্কাক

আবু তালিব (আ.)-এর কবিতাসমূহ তার মু’মিন হওয়ার প্রমাণ : দাক্কাক

আইম্মাহ আতহার (আ.) হাওযা ইলমিয়ার পরিচালক বলেছেন: ইমাম আলী (আ.) এর সাথে হিংসা ও শত্রুতার কারণে কিছু কিছু ঐতিহাসিক এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, হজরত আবু তালিব (আ.) কাফের ও মুশরিক হিসেবে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন, অথচ আবু সুফিয়ান ও তার স্ত্রী হিন্দ (হিন্দা) মুসলমান ছিল! কার্যত এ ধরনের আকিদাধারী ঐতিহাসিকরা আলী (আ.) এর শত্রু এবং মুয়াবিয়া ও আবু সুফিয়ানের ভক্ত ও অনুরাগী।

হলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ‘মহানবি (স.) এর সহযোগী আবু তালিব (আ.) আন্তর্জাতিক সম্মেলনে’ বক্তৃতাকালে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন আব্দুল্লাহ দাক্কাক হজরত আবু তালিব (আ.) এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: মহান এ ব্যক্তিত্ব মহানবি (স.) এর জন্মলগ্ন থেকেই তাঁর নবুয়্যতের বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং তাঁর নবুয়্যত ঘোষণার পর আবু তালিব (আ.) ছিলেন আল্লাহর রাসুল (স.) এর পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগী।

তিনি বলেন: ইমাম আলী (আ.) এর সাথে হিংসা ও শত্রুতার কারণে কিছু কিছু ঐতিহাসিক এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, হজরত আবু তালিব (আ.) কাফের ও মুশরিক হিসেবে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন, অথচ আবু সুফিয়ান ও তার স্ত্রী হিন্দ (হিন্দা) মুসলমান ছিল! কার্যত এ ধরনের আকিদাধারী ঐতিহাসিকরা আলী (আ.) এর শত্রু এবং মুয়াবিয়া ও আবু সুফিয়ানের ভক্ত ও অনুরাগী।

আইম্মাহ আতহার (আ.) হাওযা ইলমিয়ার পরিচালক বলেন: অর্থনৈতিক দিক থেকে হজরত আবু তালিব (আ.) ছিলেন অস্বচ্ছল। কিন্তু নিজের বিশেষ ব্যক্তিত্বের কারণে কুরাইশের বোজোর্গ ব্যক্তি হিসেব গণ্য হতেন। ‘সাইয়্যেদুল বুতাহা’ উপাধীতে তার প্রসিদ্ধি ছিল। আল্লাহর রাসুল (স.) এর পূর্বপুরুষরা ছিলেন একত্ববাদী। ইতিহাসের সাক্ষ্যানুযায়ী হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের কেউই মুশরিক ছিলেন না বরং একত্ববাদী ছিলেন।

বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনার মধ্য দিয়ে এ পৃথিবীতে মহানবি (স.) এর আগমন ঘটে –এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন: ভূমিষ্ট হওয়ার সময় থেকেই মহানবি (স.) এর নবুয়্যত লাভের বিষয়ে অবগত ছিলেন হজরত আবু তালিব (আ.)। যখন তিনি আল্লাহর রাসুল (স.) কে সাথে নিয়ে শাম (সিরিয়া) সফরে যান তখন তিনি (স.) অল্পবয়স্ক ছিলেন। ঐ সফরে খ্রিষ্টান ধর্মযাজক হজরত আবু তালিব (আ.) কে জানিয়েছিলেন যে, হজরত মুহাম্মাদ (স.) হচ্ছেন সর্বশেষ নবী।

তিনি বলেন: একসময় মক্কা খরা’র কবলে পড়লে আবু তালিব (আ.) মহানবি (স.) কে এনে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে কসম দেন এবং মক্কায় বৃষ্টি হয়। একইভাবে হজরত আবু তালিব (আ.) এর ‘লামিয়াহ’ ও ‘নাওনিয়্যাহ’ কাসিদার মত অন্যান্য কাসিদা তার ঈমানের স্পষ্ট প্রমাণগুলোর অন্যতম।

ইরানে আয়াতুল্লাহ ঈসা কাসেমের প্রতিনিধি বলেন: মক্কার মুশরিকরা মহানবি (স.) এর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে এক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। কিন্তু উঁইপোকা ঐ চুক্তিপত্র খেয়ে ফেলে। আল্লাহর রাসুল (স.) এ সংবাদ হজরত আবু তালিব (আ.) কে দিয়েছিলেন। তিনি মুশরিকদের কাছে এসে বলেন, যদি এ ঘটনা সত্য না হয়ে থাকে তাহলে আমি মুহাম্মাদ (স.) কে তোমাদের নিকট হস্তান্তর করবো, আর সত্যি হলে তোমরা অবরোধ তুলে নেবে।

তিনি বলেন: হজরত ফাতেমা বিনতে আসাদের ঈমান আনয়নের বিষয়টি সুনিশ্চিত এবং আহলে সুন্নাতও এ বিষয়টিকে মানেন। এখানে কথা হল, মুসলিম নারী কোন কাফের পুরুষের স্ত্রী হতে পারে না এবং হজরত মুহাম্মাদ (স.) হজরত আবু তালিবের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের নির্দেশ হজরত ফাতেমা বিনতে আসাদকে প্রদান করেননি -এ বিষয়টি হজরত আবু তালিব (আ.) এর ঈমান আনয়নের পক্ষে সুনিশ্চিত এক প্রমাণ স্বরূপ।

তিনি বলেন: হজরত আবু তালিব (আ.) যে বছর ইন্তিকাল করেন সে বছরকে হজরত মুহাম্মাদ (স.) ‘আমুল হুযন’ তথা শোকের বছর নামকরণ করেন; এর থেকে তার মর্যাদা প্রমাণিত হয়।#176


সম্পর্কিত প্রবন্ধসমূহ

আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*