?>

আরো জোরদার হচ্ছে ভারত-ইসরাইল সম্পর্ক: কার কত লাভ

আরো জোরদার হচ্ছে ভারত-ইসরাইল সম্পর্ক: কার কত লাভ

ভারত সরকার জানিয়েছে তারা দখলদার ইসরাইলের কাছ থেকে অন্তত ১০০টি যুদ্ধ ড্রোন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে যা হবে অতি উচ্চমানের হামলা ক্ষমতা সম্পন্ন।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা) : গত তিন দশক ধরে ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রয়েছে বিশেষ করে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর নিরাপত্তা ও সামরিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তেলআবিবের সঙ্গে নয়াদিল্লীর সহযোগিতা বহুগুণে বেড়েছে। ৮০’র দশক থেকে ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে গোপন সম্পর্ক শুরু হয় কিন্তু ৯০’র দশকে এসে তা প্রকাশ্য রূপ নেয়। ইসরাইল একটি দখলদার ও অবৈধ রাষ্ট্র জেনেও বেশ কিছু লক্ষ্য নিয়ে ভারত ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ও সহযোগিতা উত্তরোত্তর বাড়িয়ে চলেছে।

প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে, ইসরাইলকে খুশি করে যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিবাদী লবিং গ্রুপের সাহায্যে ভারত ওয়াশিংটনের সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসায় ভারত যতবেশি সম্ভব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে। বলা যায় ভারত এখন দক্ষিণ এশিয়ায় ইহুদিবাদী লবিং গ্রুপের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ভারতের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে, ইসরাইলের কাছ থেকে ফিলিস্তিনিদের দমনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভারত সরকারও কাশ্মিরের মুসলিম জনগণকে মোকাবেলার চেষ্টা করছে। কেননা কাশ্মিরিরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আসছে। রাতের অন্ধকারে দেখা যায় এমন অত্যাধুনিক দুর্বিন  ও ড্রোন ব্যবহার করে ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। এ ধরনের আরো অন্যান্য অত্যাধুনিক গোয়েন্দা যন্ত্রপাতি ইসরাইল ভারতকে সরবরাহ করছে। এ বিষয়টি ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে ভূমিকা রেখেছে। কাতারে মার্কিন ব্রুকিংস গবেষণা সংস্থার দফতর ভারত-ইসরাইল সম্পর্ক মূল্যায়ন করতে গিয়ে লিখেছে, ‘এ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা। বর্তমানে ইসরাইলি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে ভারত’। 

 সম্প্রতি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল সফর করেন। ওই সফরকালে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইসরাইল তাদের নিরাপত্তা বিষয়ক অতি স্পর্শকাতর কিছু স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ দেয়। এটাকে ইসরাইলের গণমাধ্যমগুলো ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ভারত-ইসরাইল গভীর সম্পর্কের প্রমাণ বলে উল্লেখ করেছেন।

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার পেছনে ভারতের তৃতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে, প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের মোকাবেলায় নিজের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু শক্তিকে জোরদার করা। কাশ্মিরের মালিকানা নিয়ে নয়াদিল্লী ও ইসলামাবাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসায় দুই দেশই তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচীর উন্নয়ন ও বিস্তার ঘটাচ্ছে। এ কারণে ভারত ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে।

তবে এতে ইসরাইলও লাভবান হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে কোণঠাসা হয়ে পড়া ইসরাইল ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বিস্তার করে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও নতুন নতুন প্রযুক্তি দিয়ে ভারতকে সহযোগিতা করছে। এর মাধ্যমে ইসরাইল আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া ছাড়াও কোণঠাসা অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে।

যাইহোক, ভারত সরকার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করলেও দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠী এর তীব্র বিরোধী। আরেকটি বিষয় হচ্ছে জ্বালানির জন্য ভারত মুসলিম দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। তাই ইসরাইলের ব্যাপারে সতর্ক পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন#

342/


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*