?>

ইমাম হাসান(আ.)-এর শাহাদাত বার্ষিকী

ইমাম হাসান(আ.)-এর শাহাদাত বার্ষিকী

২৮ সফর হযরত ইমাম হাসান (আ.)-এর শাহাদাত দিবস। ৫০ হিজরির এই দিনে মাত্র ৪৬ বছর বয়সে তিনি মদীনায় শাহাদাত বরণ করেন। মদীনার জান্নাতুল বাকীতে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

আবনা ডেস্কঃ ২৮ সফর হযরত ইমাম হাসান (আ.)-এর শাহাদাত দিবস। ৫০ হিজরির এই দিনে মাত্র ৪৬ বছর বয়সে তিনি মদীনায় শাহাদাত বরণ করেন। মদীনার জান্নাতুল বাকীতে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
ইমাম হাসান ছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর দৌহিত্র এবং আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আ.) ও খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা (আ.)-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র। তাঁর মূল নাম ‘আল-হাসান’। ‘আল-মুজতবা’ ছিল তাঁর উপাধি, আর ‘আবু মুহাম্মাদ’ছিল তাঁর ডাকনাম।
মহানবী (সা.)-এর ওপর যখনই কোন ওহি অবতীর্ণ হত এবং তা তিনি তাঁর সাহাবিদের কাছে প্রকাশ করতেন তখনই ইমাম হাসানও (আ.) সে বিষয়ে অবহিত হতেন। মহানবী (সা.) নতুন নাযিল হওয়া কোন ওহি হযরত ফাতিমা (আ.)-এর কাছে ব্যক্তিগতভাবে জানানোর আগেই তিনি তা হুবহু তেলাওয়াত করে শুনিয়ে তাঁকে হতবাক করে দিতেন। এ ব্যাপারে হযরত ফাতিমাকে (আ.) জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তর দিতেন: 'হাসানের মাধ্যমে ঐ অহী সম্পর্কে তিনি অবহিত হয়েছেন'।
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওফাত লাভের পর থেকে ইসলামী বিশ্বে নানা ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে থাকে। এহেন পরিস্থিতির মধ্যেও ইমাম হাসান (আ.) শান্তিপূর্ণ পন্থায় ইসলামের প্রচার ও শিক্ষা বিস্তারের পবিত্র মিশনে নিজেকে নিষ্ঠার সাথে নিয়োজিত রাখেন। আর এটাই ছিল তাঁর মহান পিতা ইমাম আলী (আ.)-কে সাথে নিয়ে নবী করিম (সা.)-এর শিক্ষা ও মিশন।
আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ূতি অত্যন্ত চমৎকারভাবে ইমাম হাসান (আ.) এর চারিত্রিক সৌন্দর্য্যের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি তাঁর জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করেছেন। নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব, আমানতদারী, ক্ষমা, দানশীলতা ইত্যাদি তাঁর চরিত্রিক সৌন্দর্য্যকে আরো বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে, ইমাম হাসান (আ.) বেশ কয়েকবার তাঁর সকল ধন-সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিয়েছেন। তিনি কখনই কোনো সাহায্য-প্রার্থীকে খালি হাতে ফেরান নি।
ক্ষমতা গ্রহণের পর শান্তিচুক্তির বিপরীতে নবী-পরিবার ও তাঁদের প্রতি অনুরক্তদেরকে নানাভাবে প্রবল চাপের মধ্যে রাখে মুআবিয়া। ইমাম হাসান (আ.) কে চরম প্রতিকূলতা, কষ্ট, কঠোরতা, অত্যাচার-নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করতে হয়েছে।
ইমাম হাসানের প্রতি তাঁর বিরোধীদের বিদ্বেষ শেষ পর্যন্ত তাঁকে হত্যার চক্রান্তে রূপ নেয়। এই চক্রান্তের সাথে যুক্ত হয় ইমাম হাসানের (আ.) স্ত্রী জো'দা (জায়েদা)। জো'দা একদিন ইমাম হাসান (আ.)-কে শরবতের সাথে বিষপান করায় যা তাঁর পাকস্থলিতে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পঞ্চাশ হিজরির ২৮ সফর ইমাম হাসান (আ.) শাহাদাত বরণ করেন। ইমাম হোসাইন (আ.) ও হাশিমী পরিবারের সদস্যরা তাঁর জানাযা ও দাফন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। মদীনার জান্নাতুল বাকীতে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।
তাকাওয়া-পরহেজগারীর দিক দিয়ে ইমাম হাসান ছিলেন তাঁর মাতামহ মহানবী (সা.)-এর এক খাঁটি দৃষ্টান্ত তাঁর পিতা ইমাম আলী (আ.)-এর এক স্মারক।#


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*