?>

ইরাকে সংসদ নির্বাচনে প্রভাবশালী নেতা মোক্তাদা সাদরের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয়

ইরাকে সংসদ নির্বাচনে প্রভাবশালী নেতা মোক্তাদা সাদরের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয়

আগামী শনিবার থেকে ইরাকে আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার অভিযান শুরু হবে। তবে নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক পরিবেশ এখনো খুব একটা অনুকূল নয়। সম্প্রতি মোক্তাদা সাদরের নেতৃত্বাধীন ইরাকের প্রভাবশালী সংগঠন সাদর মুভমেন্ট এ নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে জানা গেছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা) : আগামী ১০ অক্টোবর ইরাকে আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল শনিবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণার কাজ  শুরু হবে। অর্থাৎ দীর্ঘ প্রায় তিন ধরে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সুযোগ পাবেন প্রার্থীরা। কিন্তু এরই মধ্যে সাদর মুভেমন্ট জানিয়ে দিয়েছে তারা আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবে না। মুভমেন্টের নেতা মোক্তাদা সাদর গতকাল টিভি সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন, দুর্নীতিবাজদের হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য আমরা তাদের নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচনে অংশ নেব না এবং যারা দাবি করছে ইরাকের বর্তমান ও ভবিষ্যত সরকারে আমাদের সঙ্গে রয়েছে তাদের সঙ্গেও আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

যদিও মোক্তাদা সাদর তার এই স্পষ্ট অবস্থানের বিষয়টি ইরাকের নির্বাচন কমিশন কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি এবং এটাও হতে পারে এর আগে তিনি যেমন রাজনীতি থেকে সরে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন কিন্তু সরেননি। ঠিক তেমনি নির্বাচনের ব্যাপারেও শেষ পর্যন্ত তিনি কি করবেন তা এখনই বলা কঠিন। কেননা যদিও মোক্তাদা সাদর দাবি করছেন তিনি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন না অথচ একদিকে আগামী নির্বাচনের জন্য তার ৯৫ জন প্রার্থী রয়েছে অন্যদিকে তিনি এও দাবি করেছেন সামনের নির্বাচনে তারা সবচেয়ে বেশি ভোট পাবে এবং তারা প্রধানমন্ত্রীও নির্বাচিত করতে পারবে।

ইরাকি পার্লামেন্ট সদস্য রিয়াজ আল মাসউদি সম্প্রতি দৈনিক আল আখবার পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, ভোটের ওপর সরকার গঠন ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের বিষয়টি নির্ভর করবে যেখানে সাদর মুভমেন্ট ও তাদের অন্য শরীকরা এগিয়ে থাকবে। একইসঙ্গে অতীতের মতোই পছন্দসই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সাদর মুভমেন্ট প্রধান ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে।

এ অবস্থায় সাদর  মুভমেন্ট আদৌ নির্বাচনে অংশ নেবে কি নেবে না সেটা এখনই বলা কঠিন। নির্বাচনের ব্যাপারে মোক্তাদা সাদরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরাকের নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র জামানে গালাঈ বলেছেন, প্রার্থীদের যেসব তালিকা তারা পেয়েছেন তাতে কারো পক্ষ থেকে নির্বাচন বয়কট করার কোনো আলামত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

কোনো কোনো পর্যবেক্ষক বলছেন, নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ব্যাপারে মোক্তাদা সাদরের বক্তব্যের পেছনে দুটি  উদ্দেশ্য থাকতে পারে। প্রথমত, হতে পারে এটা নির্বাচনী প্রচারণায় এগিয়ে থাকার একটা কৌশল। কেননা নির্বাচন অনুষ্ঠানের এখনো তিন মাস বাকি রয়েছে। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হতে পারে বর্তমান সরকারের আমলে যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেমন হাসপাতালে আগুন লাগা কিংবা সাম্প্রতিক সহিংসতায় ১৩০ জন বেসামরিক মানুষ হত্যার মতো ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা না থাকার বিষয়টি প্রমাণ করা।

যাইহোক, মোক্তাদা সাদরের নেতৃত্বাধীন সাদর মুভমেন্ট আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা তা  আগামীতে বোঝা যাবে। #

342/


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*