?>

'উত্তর প্রদেশে তফসিলি জাতি, দুর্বল এবং মুসলিমদের উপর নিপীড়ন বেড়েছে'

'উত্তর প্রদেশে তফসিলি জাতি, দুর্বল এবং মুসলিমদের উপর নিপীড়ন বেড়েছে'

ভারতের মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি বলেছেন, উত্তর প্রদেশে তফসিলি জাতি, দুর্বল এবং মুসলিমদের উপর নিপীড়ন বেড়েছে। এখন মুসলিমদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করা প্রয়োজন। এতে ভারত শক্তিশালী হবে, মুসলিমরা তাদের অধিকার পাবে। তিনি আজ (রোববার) উত্তর প্রদেশের রামপুরে এক সমাবেশে ওই মন্তব্য করেন।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা) : আজ হিন্দি গণমাধ্যম ‘জাগরণ’ জানিয়েছে, ওয়াইসি বলেন, ‘মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয়নি, কৃষকরা সার পাননি। যোগি আদিত্যনাথ সরকার কৃষকদের উপরেও নিপীড়ন করছে। কৃষি আইন প্রত্যাহার করে মোদি বললেন, আমার তপস্যায় কোনো ঘাটতি থাকতে পারে! হায়! মোদি  কী অভিনয় করছেন! কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে সাড়ে সাতশো কৃষক মারা গেল, আর মোদি বলছেন, তাঁর তপস্যার অভাব ছিল! তপস্যা তো একবছর ধরে করছিলেন ওই কৃষকরা।’      

মিম প্রধান ওয়াইসি আরও বলেন, ‘মুসলিমরা পুরো উত্তর প্রদেশে পুলিশি হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছে। মুসলিম যুবকদের বিদেশে গিয়ে অর্থ উপার্জনের জন্য পাসপোর্ট তৈরির জন্য এক/দুই হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস প্রকল্পে একটি বিশাল কমিশন আদায় করা হয়। মুসলিম নারীরা হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা পান না। কুরেশি, তাঁতি, আনসারী সমাজ এবং বেকারদের তাদের দলের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। কারণ উত্তরপ্রদেশে মুসলিমরা প্রান্তিক হয়ে পড়েছে।’  

এদিকে, ওয়াইসি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল ১০০ আসনে প্রার্থী দেবে বলে পুনরায় ঘোষণা করেছেন। উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য সব দলই প্রস্তুতি নিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আসাদ উদ্দিন ওয়াইসির ‘মিম’ দলও মাঠে নেমেছে।

ওয়াইসি বলেন, ‘আমাদের দল ১০০ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা ১/২ টি দলের সাথে আলোচনা করছি এবং সময়ই বলে দেবে তাদের সঙ্গে আমাদের জোট হচ্ছে কী না। তবে আমরা নির্বাচনে  জয়ী হওয়ার অবস্থানে আছি।’  

আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি অনেক আগেই ১০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ সময়ে,  তাকে ওমপ্রকাশ রাজভারের দল ‘সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি’র সাথে জোট গঠনের জন্য চেষ্টা চালাতে দেখা গিয়েছিল এবং ভাগিদারী সংকল্প মোর্চাতে যোগ দিচ্ছিলেন। কিন্তু পরে ওমপ্রকাশ রাজভর ওয়াইসিকে ছেড়ে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ  যাদবের সাথে জোটে যোগ দিয়েছেন। ফলে, ওয়াইসি এখন জোটের জন্য  অন্য দলের দিকে তাকিয়ে আছেন। 

ওয়াইসি অনেকবার সমাজবাদী পার্টির সাথে জোট করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, কিন্তু সমাজবাদী পার্টি বা অখিলেশ যাদবের কাছ থেকে বিশেষ কোনও সাড়া পাননি। এমতাবস্থায় ওয়াইসি আবারও ১০০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে অনেক দলের ঘুম ভাঙতে পারেন। ওয়াসির দল বিশেষত সমাজবাদী পার্টি,  বিএসপি এবং কংগ্রেসের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, ‘মিম’ দল এতগুলো আসনে মাঠে নামলে তা মুসলিম ভোটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   

প্রসঙ্গত, উত্তর প্রদেশে ‘মিম’ দল ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৩৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। কিন্তু ৩৭টি আসনে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ‘মিম’  যে আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল সেগুলো মূলত পশ্চিম উত্তর প্রদেশের মুসলিম অধ্যুষিত আসন।#   

342/


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*