রোহিঙ্গাদের মধ্যে স্টেরলাইজেশন চালুর পরিকল্পনা বাংলাদেশের

রোহিঙ্গাদের মধ্যে স্টেরলাইজেশন চালুর পরিকল্পনা বাংলাদেশের

অতি মাত্রায় গাদাগাদি করে থাকা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে স্বেচ্ছায় প্রজনন উর্বরতা নির্জীবকরণ (স্টেরলাইজেশন) চালু করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ।

আবনা ডেস্কঃ অতি মাত্রায় গাদাগাদি করে থাকা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে স্বেচ্ছায় প্রজনন উর্বরতা নির্জীবকরণ (স্টেরলাইজেশন) চালু করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের এসব আশ্রয় শিবিরগুলোতে জন্মবিরতিকরণে উৎসাহিতকরণ ব্যর্থ হওয়ার ফলে এ উদ্যোগ নেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এ জন্য পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক কর্তৃপক্ষ সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে সেখানে ভাসেকটমি ও টিউবেকটমি প্রচালন করতে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে নৃশংস নির্যাতনের ফলে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের চাপে দরিদ্র বাংলাদেশের সম্পদে টান পড়েছে। আগে থেকে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে তাদের সঙ্গে নতুন আসা রোহিঙ্গারা মিলে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লাখ।
তাদের বেশির ভাগই আশ্রয় শিবিরে নাজুক অবস্থায় বসবাস করছে। রয়েছে খাবারের সীমিত যোগান, পয়ঃনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসেবার সুবিধায় মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। তাই স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, পরিবার পরিকল্পনায় কোনো ঘাটতি থাকলে তাতে সম্পদের ওপর আরো চাপ পড়বে। কক্সবাজর জেলায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান পিন্টু কান্তি ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে সচেতনতা নেই বললেই চলে। মিয়ানমারে তারা শিক্ষাবঞ্চিত হওয়ায় এ বিষয়ে পুরো পশ্চাতে পড়ে আছে পুরো রোহিঙ্গা সম্প্রদায়। অনেক পরিবার আছে, যেখানে ১৯টি পর্যন্ত সন্তান আছে। অনেক রোহিঙ্গা পুরুষের রয়েছে একাধিক স্ত্রী। রোহিঙ্গাদের মাঝে জন্মবিরতিকরণ ব্যবস্থা চালা করেছে জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা রোহিঙ্গাদের মধ্যে মাত্র ৫৪৯ প্যাকেট কনডম বিতরণ করতে পেরেছে। পিন্টু ভট্টাচার্য তাই পুরুষদের জন্য ভাসেকটমি ও নারীদের জন্য টিউবেকটমি পদ্ধটি চালু করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সরকার এতে অনুমোদন দিলেও বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে এক রকম লড়াই করতে হবে। এএফপি’কে অনেক রোহিঙ্গা বলেছেন, তারা মনে করেন পরিবারের সদস্য বেশি হলে তারা আশ্রয় শিবিরে সুস্থভাবে টিকে থাকতে পারবেন। কারণ, সেখানে খাদ্য ও পানি সংগ্রহ নিত্যদিনের সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। শিশুরা বাইরে বেরিয়ে যায়। কুড়িয়ে আনে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। আবার অনেক রোহিঙ্গা বলেছেন, জন্মবিরতিকরণ ব্যবস্থা ধর্মবিরুদ্ধ। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরে পরিবার পরিকল্পনাকর্মী ফারহানা সুলতানা। তিনি বলেছেন, যেসব নারীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন তাদের বেশির ভাগই বলেছেন জন্মনিয়ন্ত্রণ হলো একটি পাপ। সুলতানা বলেন, রাখাইনে থাকা অবস্থায় রোহিঙ্গারা পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক ক্লিনিকে যান নি। তাদের ভয়, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাদেরকে এমন ওষুধ দিতে পারে, যাতে তাদের না হয় তাদের সন্তানদের ক্ষতি হবে। তবু রোহিঙ্গা নারীদের কাছে জন্মনিয়ন্ত্রণের সুবিধা বোঝানোর চেষ্টা করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। সবুরা নামে এক রোহিঙ্গা নারীর সাত সন্তান। তিনি বলেছেন, তার স্বামী বিশ্বাস করেন, তাদের বিশাল একটি পরিবার থাকবে। সবুরার ভাষায়, জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে আমার স্বামীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। কিন্তু তিনি এ ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাকে দুটি কনডম দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা ব্যবহার করেন নি। আমার স্বামী বলেছেন, আমাদের অনেক বেশি সন্তান প্রয়োজন। আমাদের জমিজমা ও সম্পদ আছে (রাখাইনে)। সন্তানদের খাবার সরবরাহ দেয়া নিয়ে আমাদের উদ্বেগের কিছু নেই। ওই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আভ্যন্তরীণভাবে ভাসেকটমি ও টিউবেকটমি পদ্ধতি সফলতার সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ পদ্ধতি নেয়া ব্যক্তিকে দেয়া হয় নগদ ২৩০০ টাকা। সঙ্গে দেয়া হয় একটি লুঙ্গি। প্রতি মাসে কক্সবাজারে এ পদ্ধতি গ্রহণ করেন ২৫০ জন মানুষ।


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

پیام رهبر انقلاب به مسلمانان جهان به مناسبت حج 1441 / 2020
conference-abu-talib
We are All Zakzaky