?>

সহজে পাল্টাবে না তালেবানের চরিত্র, এখনি বিরোধীদেরকে হত্যা করছে তারা: আয়াতুল্লাহ আখতারি

সহজে পাল্টাবে না তালেবানের চরিত্র, এখনি বিরোধীদেরকে হত্যা করছে তারা: আয়াতুল্লাহ আখতারি

প্রথমদিকে আলে সৌদের আর্থিক সহযোগিতায় তারা নিজ মাদ্রাসাগুলো থেকে তালাবা (ধর্মীয় ছাত্র) হিসেবে তৎপরতা শুরু করে আস্তে আস্তে তৎপরতার সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে। পাকিস্তানেও বিভিন্ন সংঘর্ষে তাদের হাত ছিল, এছাড়া পাকিস্তানের বিভিন্ন অভ্যন্তরিন সংঘর্ষেও তাদের সহযোগিতার প্রমাণ মেলে। সেখানে বহুসংখ্যক শিয়া মুসলিমকে হত্যা করেছে তারা –এগুলোর ঐতিহাসিক সত্যতাও রয়েছে। এছাড়া আফগানিস্তানে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে হামলা এবং ইরানি কূটনীতিকদের হত্যার ঘটনায় তাদের হাতে রঞ্জিত।

হলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): আফগানিস্তানে তালেবানের অগ্রগতি প্রসঙ্গে জামারান নিউজকে দেয়া সাক্ষাতকারে আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার উচ্চতর পরিষদের সভাপতি উগ্রতাবাদী এ দলটির চরিত্র ও আচরণের বিষয়ে কথা বলেছেন।

আয়াতুল্লাহ মুহাম্মাদ হাসান আখতারি ঐ সাক্ষাতকারে বলেন: তালেবান নারী এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিষয়ে যে দৃষ্টিভঙ্গী পোষণ করে তা ইসলাম সমর্থিত নয়। এগুলোকে আমরা ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত করতে পারি না। আমাদের দৃষ্টিতে এগুলো দ্বীনে বিদআত প্রণয়ন বলে বিবেচিত। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেকে বলে থাকেন, নারীদের শিক্ষার অধিকার নেই এবং নারীরা সমাজে প্রকাশ্যে যেন না আসে –এটা ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী নয়।

আলে সৌদ ও আমেরিকা কর্তৃক তালেবানকে সহযোগিতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন: তালেবান যে দাবী করছে, ‘আমরা ইসলামি শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই’ –বিষয়টি এত সহজ নয়। এটা কি সম্ভব যে কেউ হাতে তলোয়ার বা বন্দুক নিয়ে বলবে আমি আমিরুল মু’মিনীন এবং যে-ই আমার বিরোধিতা করবে তাকে হত্যা করবো?! দ্বিতীয় খলিফাও তো নিজের স্থলাভিষিক্ত নির্বাচনের জন্য ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি শুরা গঠন করেছিলেন। এটা সম্ভব নয় যে, কোন একটি দল সংঘবদ্ধ হয়ে বলবে আমরা আমিরুল মু’মিনীন নির্বাচন করেছি এবং হুকুমত প্রতিষ্ঠা করেছি।

আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার সাবেক মহাসচিব ও এর উচ্চতার পরিষদের সভাপতি আয়াতুল্লাহ আখতারির সাক্ষাতকারের পূর্ণ বিবরণ:

-সাম্প্রতিককালে তালেবানের তৎপরতা এবং দলটি সম্পর্কে যা কিছু উত্থাপিত হচ্ছে, মুসলিম বিশ্বের একজন বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন সংস্থার আন্তর্জাতিক বিভাগের দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা হিসেবে তালেবানের চিন্তাধারা সম্পর্কে আমাদেরকে বলুন।

-তালেবানের বিষয়টি স্পষ্ট নয়, দ্রুত তাদের অবস্থান বিবেচনা করা ঠিক হবে না। একটি দলের কাঁধে যখন কোন দায়িত্ব থাকে তখন তাদের আচরণ একরকম এবং যখন দায়িত্ব থাকে না তখন আরেক রকম। তালেবানের বিষয়ে বলতে গেলে প্রথমে বলতে হয়, স্বয়ং আমেরিকার পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতায় তৎপরতা চালানো এ দলটি বিন লাদেন ও আলে সৌদের সহযোগিতায় এবং পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের গৃহযুদ্ধের মাঝে অস্তিত্ব লাভ করেছে। এটা আমার কথা নয় স্বয়ং মার্কিনীরাই এ কথা স্বীকার করেছে।

প্রথমদিকে আলে সৌদের আর্থিক সহযোগিতায় তারা নিজ মাদ্রাসাগুলো থেকে তালাবা (ধর্মীয় ছাত্র) হিসেবে তৎপরতা শুরু করে আস্তে আস্তে তৎপরতার সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে। পাকিস্তানেও বিভিন্ন সংঘর্ষে তাদের হাত ছিল, এছাড়া পাকিস্তানের বিভিন্ন অভ্যন্তরিন সংঘর্ষেও তাদের সহযোগিতার প্রমাণ মেলে। সেখানে বহুসংখ্যক শিয়া মুসলিমকে হত্যা করেছে তারা –এগুলোর ঐতিহাসিক সত্যতাও রয়েছে। এছাড়া আফগানিস্তানে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে হামলা এবং ইরানি কূটনীতিকদের হত্যার ঘটনায় তাদের হাতে রঞ্জিত।

-তালেবানের সাথে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সম্পর্কের বিষয়ে আপনার অভিমত কি?

-তালেবান প্রসঙ্গে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান কেমন হওয়া উচিত বা কেমন হবে সে সম্পর্কে কর্তৃপক্ষই ভাল বলতে পারবেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায়িত্বশীল এবং তারা এর উপর কাজও করছেন। আমি যা কিছু বলছি তা তাদের অতিত ইতিহাস।

এরা তাকফিরি (অন্য মাযহাবের কাফের আখ্যায়িত করা) চিন্তাধারার ধারক-বাহক। আর আমরা তাকফিরকে কোন অবস্থাতেই গ্রহণ করিনা। কেননা পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট আয়াত রয়েছে, ‘যদি কেউ নিজে স্বীকারোক্তি দেয় যে, আমি মুসলমান তবে তাকে কাফের আখ্যায়িত (তাকফির) করো না’। কেউ অপর কাউকে তাকফিরের অধিকার রাখে না যে, যেহেতু তুমি এমনভাবে নামায আদায় করো এ জন্য তুমি কাফের, অথবা যেহেতু তুমি মাটির উপর বা কাঠের উপর অথবা কারবালার মাটির উপর সিজদা করো –এ কারণে তুমি মুশরিক।

ঈমান হল অন্তরের বিশ্বাস; প্রত্যেকে নিজের বিশ্বাসের ভিত্তিতে স্বীয় প্রতিপালকের সাথে কথোপকথন করে থাকে এবং এক আল্লাহ’তে বিশ্বাস পোষণকারী কোন ব্যক্তিকে কাফের আখ্যায়িত করার অধিকার কারও নেই। দুনিয়াতে ঈমান ও কুফর নির্ধারণের অধিকার কি আমাদের রয়েছে?! আমার সাথে এর কি সম্পর্ক যে, ওমুকে কি আকিদা পোষণ করে এবং কোন দ্বীনের অধিকারী?! যে মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করে সে নিজেই জানে, আর যে কুফর এখতিয়ার করেছে সেটা তার বিষয়।

এটা শুধু শিয়া আলেমদের কথা নয় বরং আহলে সুন্নাতের আলেমদেরও কথা। সকল সুন্নি আলেমই এটাকে গ্রহণ করেন যে, যে ব্যক্তি ((أشهَدُ أنْ لا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ و أشهَدُ أنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ اللَّهِ)) বলে সে মুসলমান এবং তার রক্ত, সম্পদ, সম্ভ্রম ও জীবন সম্মানিত এবং এগুলোর বিষয়ে সীমালঙ্ঘনের অধিকার কারও নেই। তালেবান নিজের ইচ্ছানুযায়ী যাকে ইচ্ছা মুসলমান যাকে ইচ্ছা কাফের বলতে পারে না।

কোন কাফেরকে বিনা কারণে হত্যার অধিকারও কারও নেই। মহানবি (স.)-এর যুগে মক্কা ও মদিনাতে কি কাফের, খ্রিষ্টান ও ইহুদিরা বসবাস করতো না?! মহানবি (স.) তাদের সাথে কিরূপ আচরণ করেছেন? অতএব, এটা বলার অধিকার কারও নেই যে, আমি মুসলমান যেহেতু তুমি কাফের তাই তোমাকে হত্যা করবো! -এটা বাতিল ও ভুল আকিদা। অপরকে কাফের আখ্যায়িত করার চিন্তা ভুল। ইসলামি ফেকাহসমূহের’র দৃষ্টিতে কেউ যদি নিজেকে মুসলমান বলে পরিচয় দেয় তাকে কাফের সম্বোধন করার অধিকার কেউ রাখে না। আর যদি সত্যিই কেউ কাফের হয়ে থাকে তবুও কোন শাসন ব্যবস্থাতেই কাফের হত্যার বৈধতা নেই। কাফেরদের সাথে আচরণের বিশেষ পদ্ধতি রয়েছে সেটাকে অনুসরণ করতে হবে।

এমনকি আমরা সকল সালাফিদেরকেও সালাফি জ্ঞান করি না। সালাফিদের অনেকেই আমাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত। তাদের সাথে আমাদের সম্পর্কও রয়েছে। কিন্তু তাদের মাঝে আল-কায়েদা রয়েছে যারা ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও মিসরে বহু অপরাধ সংঘটিত করেছে এবং বর্তমানেও অব্যাহত রেখেছে। এর মাঝ থেকে হঠাৎ দায়েশ (ISIS) নামের আরেকটি উগ্র দলের উদয় হল এবং তারাও আল-কায়েদার পথ অব্যাহত রাখলো, এমনকি বহুলাংশে তারা আল-কায়েদাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। আফগাস্তিানে বলা হয় এ দু’দলের মাঝে সংঘর্ষ বিদ্যমান, কিন্তু আমরা জানি না তা কি পর্যায়ে।

-কিছু কিছু রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যম এ কথা বলার চেষ্টা করছে যে, তালেবানের মধ্যে পরিবর্তন এসেছে, এ বিষয়ে আপনার অভিমত কি?

-তালেবান বর্তমানে বলছে: আমাদের দৃষ্টিভঙ্গীতে পরিবর্তন এসেছে এবং আমাদের আচরণেও পরিবর্তন আনব। কিন্তু এমন দাবী পর্যালোচনা প্রয়োজন রাখে।

-তাদের আচরণে পরিবর্তন আসার বিষয়ে আপনার অভিমত কি?

-আফগানিস্তানে যা কিছু ঘটছে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত অভিমত হল, পৃথিবীতে এ ধরনের বিভিন্ন গ্রুপের তৎপরতা আমরা দেখতে পাই; যেগুলো নির্দিষ্ট চিন্তা ও আকিদা নিয়েই আত্মপ্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে তাদের দৃষ্টিভঙ্গীতে পরিবর্তন আসাটা অসম্ভব এটা আমি বলবো না, কিন্তু তাদের মৌলিক চিন্তায় পরিবর্তন আসাটা সহজ নয়।

এখনই যারা তাদেরকে মানতে অসম্মতি জানাচ্ছে তাদেরকে হত্যা করছে। স্বয়ং আফগানিস্তানের জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে এবং ওখানকার শিয়া ও সুন্নিরা সিদ্ধান্ত নেবে যে, তারা পরস্পরের পাশে কিভাবে বসবাস করবে। আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য হল, এত সহজে তাদের মাঝে পরিবর্তন আসবে না। তারা ইরানে এসে বৈঠক করেছে, এরপর রাশিয়াতে গেছে এবং সেখানে গিয়ে অন্য কিছু বলেছে। তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্যান্য দেশে মার্কিনীদের সাথে কত সংখ্যক বৈঠক করেছে? আমেরিকার সাথে সমঝোতার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে তালেবান। বর্তমানে দেখতে পাচ্ছি যে, মার্কিনীরা চলে গেছে এবং এদেরকে যা মন চায় তা করতে রেখে গেছে। এটা ষড়যন্ত্র এবং সমঝোতা ও পূর্বপরিকল্পনার ভিত্তিতে এটা ঘটছে।

তালেবান দাবী করছে, আমরা ইসলামি শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই –বিষয়টি এত সহজ নয়। এটা কি সম্ভব যে কেউ হাতে তলোয়ার বা বন্দুক নিয়ে বলবে আমি আমিরুল মু’মিনীন এবং যে-ই আমার বিরোধিতা করবে তাকে হত্যা করবো?! এমনকি দ্বিতীয় খলিফাও নিজের স্থলাভিষিক্ত নির্বাচনের জন্য ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি শুরা গঠন করেছিলেন। এটা সম্ভব নয় যে, কোন একটি দল সংঘবদ্ধ হয়ে বলবে আমরা আমিরুল মু’মিনীন নির্বাচন করেছি এবং হুকুমত প্রতিষ্ঠা করেছি!

যদি কেউ হুকুমত কায়েম করতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই ‘ন্যায়নিষ্ঠা’ ও ‘বুদ্ধিবৃত্তি’র ভিত্তিতে তা কয়েম করতে হবে। সে জনসাধারণের পাশেই থাকবে এবং তার সকল কর্মকাণ্ডও হবে জনগণ কেন্দ্রীক। এমন একটি শাসন ব্যবস্থা শাসনকার্য পরিচালনা করবে যার প্রতি জনগণের সমর্থন থাকবে।

ইমাম খোমেনি (রহ.) নিজের কর্মকাণ্ডকে জনগণের পাশে থেকে এবং কোনরূপ অস্ত্র ছাড়াই শুরু করেছিলেন। তিনি কাউকে অস্ত্র হাতে নেয়ার অনুমতি দেন নি। যখনই কেউ অস্ত্র হাতে নিয়ে কোথায় বিশৃংখলা সৃষ্টি করেছে ইমাম খোমেনি (রহ.) সাথে সাথেই বলেছেন: ‘তারা আমাদের কেউ নয়।’ ইমাম খোমেনি (রহ.) জনগণের সাথে সাথে অগ্রসর হয়ে বিপ্লব ঘটিয়েছেন এবং এরপর জনসাধারণকে ভোট প্রদানের অনুমতি দিয়েছেন।

আপনাদের উচিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও ইমাম খোমেনি (রহ.) থেকে শিক্ষা লাভ করা। জনগণের সাথে কথা বলে কোন বিষয়ে সমঝোতায় আসুন এরপর গণভোট প্রদান করুন। আগুন লাগিয়ে, মানুষ হত্যা করে এটা বলা ঠিক নয় যে, সবার উচিত আমাদের কথা শোনা ও মান্য করা –এ ধরনের কথা গ্রহণযোগ্য নয়।

-মানবাধিকার বিশেষতঃ নারী অধিকারের বিষয়ে তালেবানের দৃষ্টিভঙ্গী সম্পর্কে আমাদেরকে বলুন।

-ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বে আজ যে মানবাধিকার নিয়ে উচ্চবাচ্য হচ্ছে তা প্রতারণা। পশ্চিমা রাজনীতিবিদরা, মার্কিনীরা, সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের নিজেদের এবং তাদের সমর্থক ও মিত্রদের সহযোগিতায় এগুলো উত্থাপন করে থাকে। আর এ কারণেই ফিলিস্তিন ও ইয়েমেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এত সংখ্যক শিশু হত্যা হলেও তারা এর প্রতিবাদে একটি বিবৃতি প্রদান করতেও কার্পণ্য করে এবং এ সকল হত্যাকাণ্ডের সমালোচনা করতেও তারা সম্মত হয় না। ইসরাইল বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষকে হত্যা করে এবং প্রকাশ্যে সাধারণ মানুষের ঘর-বাড়ি গুড়িয়ে দিলেও মার্কিন মানবাধিকার তাদেরকে বাধা দিতে এমনকি তাদের অমানবিক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাতেও প্রস্তুত নয়।

কিন্তু মানবিক ও ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যেক জাতির নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে এবং তারা নির্দিষ্ট ধর্মে বিশ্বাসী। তালেবান যদি বলে আমরা মুসলিম এবং ইসলামি শাসন কায়েম করতে চাই, তাহলে নারীদেরকে মারধর এবং তাদেরকে ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধ করা তাদের উচিত নয়। মহানবি (স.) এর যুগে নারীরা কি ঘরের বাইরে যেত না?! অনেক নারীর ব্যবসা ছিল, কেউ কেউ বিভিন্ন কাজ করত, এমনকি উহুদের যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীর যুদ্ধক্ষেত্র উপস্থিত হয়ে আহত যোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছিলেন। তারা বসরার উদ্দেশ্যে উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়েশা’র গমনকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

মহান আল্লাহ্ বলেননি যে, নারী যেন ঘরের বাইরে না যায়। কুরাআনে বলা হয় নি নারী ঘরের বাইরে যেন না যায়; তারা কেনা-কাটা বা পড়াশুনা করতে পারবে না। বরং এর বিপরীতে সকলকে কাজ ও পরিশ্রম করতে বলেছে এবং জ্ঞানার্জন ও মানুষকে সহযোগিতা করতে বলেছে। সামাজিক ও সেবামূলক বিষয়াদিতে মহান আল্লাহ বলেন নি যে, তোমরা পুরুষরা এ কাজগুলো করবে; বরং বলেছেন, সকল মানুষ এ কাজগুলো আঞ্জাম দেবে। অতএব, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে-ই শরিয়ত বিরোধী ও নৈতিক সূচিতা পরিপন্থী কাজ করবে সে আল্লাহর অবাধ্য হয়েছে। সামাজিক বিষয়াদিতে সমাজে কাজ করার অধিকার সবার রয়েছে এবং নারী-পুরুষ উভয়েরই শিক্ষা তৎপরতায় অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে।

ঘটনাক্রমে অনেক ক্ষেত্রে আমাদের নারী চিকিৎসকের প্রয়োজন রয়েছে যাতে নারীদেরকে তাদের ব্যক্তিগত বিষয়গুলোতে পুরুষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হতে হয়। ইসলামি শাসন ব্যবস্থা অবশ্যই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ন্যায় এমন ক্ষেত্র তৈরি করবে, যে যেখানে থাকুক না কেন সে যেন তার অধিকার প্রাপ্ত হয়। যেভাবে সমাজে পুরুষের ভোটের মূল্য রয়েছে সেভাবে নারীরাও ভোটাধিকারের অধিকারী। যেভাবে পুরুষেরা বিভিন্ন দায়িত্ব গ্রহণ করতে সক্ষম সেভাবে নারীরাও দায়িত্ব নিতে পারে।

নারীসমাজ ও বিভিন্ন সম্প্রদায় সম্পর্কে তালেবান যে দৃষ্টিভঙ্গী রাখে তা ইসলামি নয় এবং আমরা এগুলোকে ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত করতে পারি না। আমাদের দৃষ্টিতে এগুলো ধর্মে বিদআত প্রণয়ন হিসেবে বিবেচিত। এই যে বলা হচ্ছে নারীরা শিক্ষার অধিকার রাখে না, নারীদের সমাজে আসা উচিত নয় –এগুলো ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী নয়।#176


সম্পর্কিত প্রবন্ধসমূহ

আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*